ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-15

, ২ জিলকদ্দ ১৪৩৯

সাহিত্যে এ বছরের নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরো

প্রকাশিত: ১১:৪০ , ০৮ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১১:৪০ , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

।। সেজান মাহমুদ ।।

এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক কাজুও ইশিগুরোর হাতে। বুকার পুরস্কার পাওয়ায় তাঁর নাম জেনেছিলাম, কিন্তু তাঁর বই পড়া হয়নি।

কিন্তু তাঁর উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র দেখেছি-- 'রিমেইন্স অফ দা ডে'। এন্থোনি হপকিন্স আর এমা থম্পসন অভিনীত এই চলচ্চিত্র ৮টা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলো। কিন্তু তখনও লেখকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হয়নি। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা, কিছুটা লজ্জাও। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে মনে হচ্ছে, এতোটা পিছিয়ে পড়লাম! নাকি আসলে তিনি ততোটা ভাল লেখক না?

তাঁর 'নেভার লেট মি গো' পড়লাম। পড়তে তর সইছিলো না, তাই ইলেক্ট্রনিক ভার্সন। এতা ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন কিম্বা স্পেকুলেশন জেনার বা রীতির উপন্যাস। খুব বড় কলেবর নয়, ২৮৮ পৃষ্ঠা। আমার কাছে আগে থেকে এই ধারাটাই বরং আধুনিক ফিকশনের ভবিষ্যৎ চারণক্ষেত্র হবে মনে হতো। আরেক ব্রিটিশ লেখক ডরিস লেসিং, যিনি একমাত্র নোবেলবিজয়ী, যাঁর মুল লেখার রীতি সায়েন্স ফিকশন?

ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন কিম্বা স্পেকুলেটিভ ফিকশন আমার নিজেরও প্রিয় সাহিত্য রীতি। 'লিথি' নামের আস্ত উপন্যাস আর 'কসমিক সংগীত'-এ ছোটগল্প লিখেছি, যা ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন রীতির। এখন মনে হচ্ছে, এই জাপানি লেখককে কেন আগে বিশদভাবে পড়া হয়নি!

যাই হোক, এখানেই বড় পুরস্কারের বড় প্রভাব। এখন সারা পৃথিবী জানবে কাজুও ইশিগুরো সত্যি কেমনতরো লেখক, যেমন একসময় পৃথিবী জেনেছিলো রবীন্দ্রনাথের নাম।

এবার আসল কথা বলি। কাজুও ইশিগুরো নোবেল পেলেন বলেই কি তাঁর বই আমার ভালো লাগলো? না, একেবারেই তা না। তাঁর লেখার জেনার বা রীতি, এই 'নেভার লেট মি গো' পড়েই বুঝতে পারছি-- এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র ঘটিয়েছেন তিনি বিশ্বসাহিত্যের দরবারে। আমার মতে তা হলো, ফ্রানৎস কাফকার অস্তিত্ববাদ নিয়ে সংকট আর ডরিস লেসিংয়ের কল্পবিজ্ঞানের সংশয়বাদের যথার্থ সম্মিলন ঘটিয়েছেন তিনি।

নোবেল কমিটিকে সাধুবাদ এমন একজন লেখককে পুরস্কৃত করার জন্যে। আর অভিনন্দন কাজুও ইশিগুরোকে! এমন কাছের, প্রিয় রীতির একজন লেখককে কে এতোদিন না জানার পাপস্খালনের চেষ্টা হবে এবার ক্রমাগত তাঁর লেখা পঠন-পাঠনের মধ্য দিয়ে। কাজুও ইশিগুরো'র সাহিত্য জগতে আপনাদের সুস্বাগতম!

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is