ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯
শিরোনামঃ
ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুতেরেসের সমর্থন গত কদিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ১১ সাক্ষীকে জেরার জন্য খালেদার আবেদন হাই কোর্টে নিষ্পত্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজে নিরপেক্ষতা থাকতে হবে: সিইসি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টিতে মারা যেতে পারে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই আইন মেনে চলুন টস জিতে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আবহাওয়ার উন্নতি: দেশের বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল স্বাভাবিক নির্বাচন নিয়ে সরকার নীল নকশা করছে: রিজভী ২৫টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সাথে বৈঠকে বসেছে ইসি ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও মালয়েশিয়া স্পেনের কেন্দ্রীয় শাসন না মানার ঘোষণা কাতালান প্রেসিডেন্টের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখুন: জয় ইপিএল-এ জয় পেয়েছে চেলসি ও ম্যানসিটি বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাহত ফেরি চলাচল টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশীসহ ৪ শ্রমিকের মৃত্যু কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে দিলো স্পেন

কাজুও ইশিগুরোর উপন্যাসের অত্যাশ্চর্য ভুবন

প্রকাশিত: ১২:৫৪ , ০৮ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১২:৫৪ , ০৮ অক্টোবর ২০১৭

।। কামরুল হাসান ।।

সবাইকে চমকে দিয়ে এবছরের সাহিত্যে নোবেল পেলেন এমন একজন লেখক যার নামটি গত কয়েক বছরের নোবেল পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ওঠেনি, বাজিকরদের হাঁকডাকের মাঝেও তিনি ছিলেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নোবেল কমিটি সাহিত্য দুনিয়াকে চমকের পর চমক উপহার দিয়ে চলেছে; সকল অনুমান ও প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়ে তারা ধ্রুপদী অর্থে সাহিত্যিক নন এমন ব্যক্তিদেরও পুরস্কারের আওতায় নিয়ে এসেছেন। গত বছর তারা পুরস্কারটি দিলেন কোন ঔপন্যাসিক বা কবিকে নন, একজন সঙ্গীতস্রষ্ট্রা বব ডিলানকে, তারও আগে একজন সাংবাদিককে যিনি চেরনোবিল দুর্ঘটনা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের স্মৃতিকথা সংগ্রহ করেছিলেন। দুটো পুরস্কারই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল সাহিত্যমোদী দুনিয়ায়, কিন্তু নোবেল কমিটির সদস্যরা সেসব গ্রাহ্য করেন নি। তারা চেয়েছিলেন সাহিত্যের সংজ্ঞার পরিধি বাড়াতে। এবার নোবেল ফিরে এলো সাহিত্যের প্রচলিত ঘরানায়- উপন্যাসে– সাহিত্যের যে শাখাটি অন্য সব শাখাকে বারংবার হারিয়ে দিয়েছে ঐ পুরস্কার প্রাপ্তির বিবেচনায়। এবার যিনি পেলেন তিনি জাপানি বংশোদ্ভূত, শুনে মনে হবে এবার পুরস্কারটি বুঝি জাপানের ঘরে গেল। কিন্তু জাপানের নাগাসাকিতে জন্ম নেয়া কাজুও ইশিগুরোর আর কোন জাপানি পরিচয় নেই। শৈশবে পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে জাপান ছেড়ে আসার পর তিনি প্রথম জাপান সফরে গিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সে এক সাহিত্যসভায় যোগ দিতে। তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা ইংল্যান্ডে, তিনি লিখেনও ইংরেজিতে, নোবেল পুরস্কারটি জাপান নয়, গেছে ইংল্যান্ডের থলিতে, যে ভাষাটি পুরস্কার পেল সেটি জাপানি নয়, ইংরেজি। তবে তার মানে এই নয় যে তিনি অখ্যাত কোন লেখক, আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পরিমণ্ডলে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয় তার নাম, সাহিত্যের জন্য অনেক আগেই জিতেছেন মান বুকার প্রাইজ এবং আরও কিছু পুরস্কার। রানী তাকে ‘অর্ডার অব ব্রিটিশ আম্পায়ারে’ ভূষিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে জাপানি লেখকের নাম ঘুরে-ফিরে নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায়, বুকিদের অনুমান ও বোদ্ধাদের ধারণায় থাকতো তিনি হারুকি মুরাকামি, কাজুও ইশিগুরো নন। সুতরাং তাঁর নোবেল প্রাপ্তি কেবল সাহিত্য দুনিয়াকেই চমকিত করেনি, স্বয়ং লেখক ভীষণ চমকে গেছেন। প্রথমে ভেবেছিলেন ভুল শুনেছেন বা কেউ তার সাথে মজা করছে। তিনি তার বিস্ময় লুকান নি, বলেছেন এটা অপ্রত্যাশিত এক আনন্দ বয়ে এনেছে। নোবেলের ইতিহাসে এ পর্যন্ত যে ১১৪জন সাহিত্যিককে এই বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তাদের সারিতে উঠতে পারাটা গর্বের। নোবেল প্রদানের ঘোষণায় সুইডেনের নোবেল কমিটি ইশিগুরোর উপন্যাসের ‘প্রবল আবেগময় শক্তি’ ও ‘জগতের সাথে সম্পর্কে নির্মাণে আমাদের যে ইন্দ্রিয়জ বিভ্রান্তি জন্মে তার সুগভীরতা’ তুলে ধরার প্রশংসা করেন।

ইশিগুরোর স্মৃতিতে ততটা জাপান নেই, তিনি বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে, পড়াশোনাও সেখানেই, কিন্তু তার প্রথম দুটি উপন্যাসের পটভূমি জাপান। তবে যে দুটি উপন্যাস তাকে প্রথম আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয় সেই The Remains of the Day দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধবার আগের বছরগুলোতে এক ইংরেজ লর্ডের সেবায় নিবেদিত এক ধোপদুরস্ত বাটলারের কাহিনী। দ্বিতীয় যে উপন্যাস, যা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র, Never Let Me Go এক কল্পিত ব্রিটিশ বোর্ডিং স্কুলের নেতিবাচক পরিবেশে গড়ে ওঠা বেদনাময় ভালোবাসার আখ্যান। ইশিগুরোর বয়স এখন ৬২ বছর, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কিন্তু ভুরি ভুরি রচনা উৎপাদন করেননি, কোন মহৎ সাহিত্যিকই তা করেন না। তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা মাত্র সাত। আশ্চর্যজনকভাবে তার সাতটি উপন্যাসেই তিনি বাররংবার, অনেকটা অবসেসনের মতোই, ফিরে এসেছেন কিছু কেন্দ্রীয় বিষয়ে যার ভেতরে রয়েছে স্মৃতির বিপন্নতা, মানুষের মরণশীলতা ও সময়ের ফোঁকরময় চরিত্র, যা দিয়ে সবকিছুই ঝরে পড়ে।
ইশিগুরোর সাহিত্যের ভাষা দুর্জ্ঞেয়, অপ্রচলিত শব্দে ঠাসা, তবে সর্বদাই সংহত, ঠাস বুনুনির তাতে কখনো মেদহীন দ্যুতি ছলকে ওঠে, কিন্তু সবই এক ঘূর্ণাবর্তে তলিয়ে দেয় চরিত্রসমূহকে। উপন্যাসে ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন, পরাবাস্তবতা, জাদুবাস্তবতা মিশিয়ে তিনি এক জটিল দুনিয়া সৃষ্টি করেন। পুরস্কার প্রদানের সময়ে নোবেল কমিটি ইশিগুরোর রচনায় ‘মানব মনের গভীরতম তলদেশ অবলোকনের ক্ষমতা’র উল্লেখ করেছেন। যদি আপনি ফ্রানৎস কাফকার সাথে জেন অস্টিনকে মিশ্রিত করেন, তবে যা পাবেন তা হলো ইশিগুরোর সারবস্তু, তবে আপনাকে এই মিশ্রনের সাথে কিছুটা প্রুস্ত মেশাতে হবে, তবেই আপনি পাবেন পরির্পূণ ইশিগুরো’- বলেছেন নোবেল কমিটির স্থায়ী সচিব সারা দানিউস। ইশিগুরো নিজেও তার লেখায় প্রুস্তের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। অন্য যে লেখকের প্রভাব তিনি স্বীকার করেছেন তিনি হলেন দস্তয়েভস্কি। তাঁর রচনাকে সালমান রুশদী, হেনরি জেমস প্রমুখের সাথে তুলনা করা হলেও তা ইশিগুরো মানেন নি। সারা দানিউস নোবেল প্রাপ্তির ঘোষণায় ইশিগুরোকে এক মহৎ সংহতিসম্পন্ন লেখক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইশিগুরো এমন এক সৌন্দর্যময় জগৎ গড়ে তুলেছেন যা তার একান্ত নিজস্ব।
স্থানীয় এক লাইব্রেরিতে র্শালক হোমসের দেখা পান বালক ইশিগুরো, আর্থার কোনান ডোয়েলের এই অবিস্মরণীয় গোয়েন্দা চরিত্র বালক ইশিগুরোকে এতটাই প্রভাবিত করে যে সে তখন শার্লক হোমসের মতো পোষাক পরা, সেভাবে কথা বলতে চেষ্টা করতো। অল্প বয়সের ঐ প্রভাব তাকে সাহিত্যের দিকে নিয়ে আসে। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ক্যান্টারবারিতে অবস্থিত কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সাহিত্য ও দর্শন অধ্যয়ন করেন। গ্রাজুয়েশন শেষে পরের একটি বছর তিনি পড়াশোনা থেকে বিরতি নেন, সেই একটি বছর ঘুরে বেড়ান আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল আর একটি পত্রিকায় রিপোর্টাজ পাঠাতে থাকেন। তার লেখালেখির সেটাই শুরু। পরের বছর ইংল্যান্ডে ফিরে এসে ইস্ট এঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের উপর মাস্টার্স করেন, ক্লাসে সহপাঠী হিসেবে পান ম্যালকম ব্রাডবুরি, এ্যাঞ্জেলো কার্টার প্রমুখ লেখকের।
প্রথম যৌবনে তার স্বপ্ন ছিল একজন সঙ্গীতজ্ঞ হওয়ার। ফোক সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে তিনি বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন আর গীত রচনা করতেন। গীত রচনার কয়েকটি রীতির বিবর্তনের মধ্য দিয়ে, যার মাঝে একটি বেগুনি পর্ব রয়েছে, তার রচিত গানসমূহ যায়। অবশেষে স্থির হন নির্মেদ, স্বীকারোক্তিমূলক গীতি রচনায়। গীতিকার হিসেবে তিনি তেমন সফল হননি, সঙ্গীত জগতেও মেলেনি তেমন কোন স্বীকৃতি, কিন্তু গানের লিরিক লেখার ঐ দারুণ অভিজ্ঞতা ও নিরীক্ষা তার গদ্য রচনায় প্রভাব ফেলে। পরিমিতি, বিশেষ করে বাক্যের মাঝে কিছু প্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিয়ে একটি প্রতীকি ভাষা নির্মাণের যে কৃতিত্ব তাকে দেয়া হয় তা ঐ সঙ্গীত রচনার প্রত্যক্ষ প্রভাব বলে ইশিগুরো নিজেই স্বীকার করেন। সঙ্গীতে অনেক শব্দ বা পঙক্তির অর্থই থাকে অপ্রত্যক্ষ ও ইঙ্গিতময়, উপরিভাগে নয়, থাকে তলদেশে লুকানো। এই ভাষারীতিই ইশিগুরোর রচনাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এনে দিয়েছে, সাহিত্যবোদ্ধাদের সমীহ আদায় করেছে। ব্রিটিশ শ্রেণিব্যবস্থাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি, তার রয়েছে স্থানসমূহের এক প্রখর তীক্ষ্ণবোধ। এসব তার প্রথাবিরোধী উদ্ভাবনী সাহিত্যরীতি ও বাক্যকে তার বিবিধ প্রকার শব্দের আলোকে পুর্নগঠিত করার শক্তি ইশিগুরোকে নোবেল পুরস্কারের মতো বিরল এবং সাহিত্য দুনিয়ায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বয়ে এনেছে। উপন্যাস রচনার ধরাবাঁধা রীতি তিনি মানেন নি, এবং কখনো উদ্ভট রচনা উপহার দিযেছেন। রীতির বাইরে থাকা তাঁর সাতটি উপন্যাসই একটি থেকে আরেকটি আলাদা, একই রীতি বা প্লট তিনি পুনরাবৃত্তি করেননি, যদিও তাদের ভেতরকার ঐক্য হচ্ছে তিনি তার রচনাসমূহে সময়ের ক্ষয়িষ্ণু স্বভাব, মানুষের মরণশীলতা ও স্মৃতির বিচ্যুতি। তার বেশিরভাগ উপন্যাসই প্রথম পুরুষের উক্তিতে লিখিত, এই প্রথম পুরুষটি এক অনির্দিষ্ট, অচিন বর্ণণাকারী, যে অস্বীকার করে চলে যেসব সত্য তাই ধীরে ধরা পড়ে পাঠকের চোখে। প্লটসমূহের ভেতরে লুকানো থাকে সাবপ্লট, অনেক কিছুই থাকে অব্যক্ত, বর্ণনাকারীর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পৃথিবী ও বাস্তব পৃথিবীর মাঝে থাকে দুস্তর পার্থক্য।
প্রথম উপন্যাস A Pale View of Hills প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। এ উপন্যাসে ইশিগুরো মধ্যবয়সী জাপানি এক মহিলার ভিনদেশে (ইংল্যান্ডে) নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে সংগ্রামশীল চরিত্র ও জীবন আঁকেন। চার বছর পরে প্রকাশিত An Artist of the Floating World উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন বয়স্ক জাপানী চিত্রকর যার বর্ণনার ভেতর দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপানের জীবন উঠে আসে। স্মর্তব্য ইশিগুরোর জন্ম নাগাসাকিতে, যা নিষ্ঠুর আনবিক বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া দুটি হতভাগ্য জাপানি নগরীর একটি। পিতার অভিবাসী দেশ ইংল্যান্ডের সমাজের ভেতরকার স্রোত ও মূল্যবোধের তীব্র পর্যবেক্ষণ নিয়ে তিনি লিখেন তাঁর তৃতীয় উপন্যাস The Remains of the Day (১৯৮৯)। উপন্যাসটির জন্য তিনি সম্মানজনক বুকার প্রাইজ পান। বিস্ময়কর হলো এই অসাধারণ উপন্যাসটি তিনি মাত্র চার সপ্তাহে লিখেছিলেন। সৃজনের এক প্রবাহ বয়ে গিয়েছিল। তার লেখার শত্তিমত্তা বোঝাতে আরেকটি তথ্য এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। ইংরেজি দুনিয়ার নোবেল খ্যাত মান বুকার প্রাইজ পাবার আগে তিনি একই পুরস্কারের জন্য আরও তিনবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ইশিগুরোর সর্বশেষ উপন্যাস The Buried Giant প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এ উপন্যাসে হারিয়ে যাওয়া ছেলের খোঁজে শহরে আসা এক বয়স্ক দম্পতি এক নাইটের মুখোমুখি হন। চূড়ান্ত ফ্যান্টাসি এ উপন্যাসের পটভূমি রাজা আর্থার যুগের ইংল্যান্ড। মাঝে তিনি আরও দুটি উপন্যাস লিখেন: The Unconsoled (১৯৯৫) ও When We Were Orphans (২০০০)। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ছোটগল্প, সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য, গান প্রভৃতি লিখেন।
কাজুও ইশিগুরো জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে। তার বাবা ছিলেন একজন সমুদ্রবিজ্ঞানী, যিনি তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও বালক ইশিগুরোকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সারেতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করতে এসেছিলেন। ভেবেছিলেন জাপানে ফিরে যাবেন, কিন্তু আর যাওয়া হয়নি। বালক ইশিগুরো সেখানে একটি কনভেন্ট স্কুলে প্রাথমিক পাঠ নেন। নিজের স্কুলটি সম্পর্কে পরে তিনি বলেন, সেটি ছিল সনাতন ইংরেজ সমাজের প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্রমঃবিলীয়মানতার সর্বশেষ এক প্রতীক। ১৯৮৬ সাল, যে বছর তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস প্রকাশিত হয়, সে বছর তিনি লরনা ম্যাকডুগাল নামের একজন সমাজসেবী নারীকে বিয়ে করেন। সমাজসেবামূলক কাজ করতে গিয়েই তাদের দুজনের দেখা ও প্রেম হয়। এ দম্পতির নাওমি নামের একটি কন্যা আছে।
কাজু ইশিগুরোর নোবেল প্রাপ্তি সাহিত্যবিশ্বে চমক হয়ে এলেও নোবেল কমিটির এ সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। কাহিনী ও চরিত্র নির্মাণে তিনি যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, উপন্যাসের সনাতন কাঠামো ভেঙে যে নতুন সৃজনশীল ধারা তৈরি করেছেন, শৈলী ও ভাষায় যে নিজস্বতা তৈরি করেছেন তাতে করে এ পুরস্কার যোগ্য প্রতিভার হাতেই গেছে। তাকে আমাদের অভিনন্দন!

সৌজন্যে: আনন্দপাঠ

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is