ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-18

, ৫ জিলকদ্দ ১৪৩৯

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

প্রকাশিত: ১২:১৫ , ১১ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১২:১৫ , ১১ অক্টোবর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: জমিদার বাড়ির করা শুনলেই অনেকের হয়তো মনে পড়ে যায় দাদি-নানির কাছে শোনা গল্পের কথা। জমিদারদের অত্যাচার, অনাচার এবং ক্ষমতার আর গরিব কৃষকের খাজনা না দিতে পারার দুঃখের গল্প।

কিন্তু বর্তমানে এ গল্প শুধু গল্পই। আমাদের দেশে একসময়কার পরিচিত এসব জমিদারীর কাহিনী এখন আর নেই। এখন কেবল রয়ে গেছে তাদের স্মৃতিটুকু। অনেক জমিদার বাড়িই এখন প্রায় বিলীন। আর যেগুলো রয়ে গেছে, সেগুলো এখন সংরক্ষণ করা হয়েছে জাদুঘর হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়িগুলোর একটি হচ্ছে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।

কথিত রয়েছে, মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তির ইতিহাসে বালিয়াটির জমিদারদের অবদান উলে­খযোগ্য। আঠারো শতকের প্রথম ভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগ। প্রায় দুশ বছরের এই দীর্ঘসময়ে বালিয়াটির জমিদারদের সুখ্যাতি ছিল। এ সময়ে তাঁরা নানারকম গুর“ত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করেন এ এলাকায়। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

জানা যায়, আঠারো শতকের মধ্যভাগে জনৈক লবণ ব্যবসায়ী জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। আর ক্রমান্নয়ে তার উত্তরাধিকারীরা এখানে নির্মাণ করেন আরো বেশকিছু স্থাপনা।

বালিয়াটিতে ১৯২৩ সালের দিকে জমিদার কিশোরী রায়চৌধুরী নিজ ব্যয়ে একটি অ্যালোপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। বর্তমানে এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। জমিদার হীরালাল রায়চৌধুরী সাটুরিয়া থেকে বালিয়াটির প্রবেশপথের পাশে কাউন্নারা গ্রামে একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানে দিঘির মাঝখানে একটি প্রমোদ ভবন গড়ে তোলেন, যেখানে সুন্দরী নর্তকী বা প্রমোদবালাদের নাচ-গান ও পান-ভোজন চলতো।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দৃষ্টিনন্দন এই প্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ করছে।

যা দেখবেন

এখানে পূর্ববাড়ি, পশ্চিমবাড়ি, উত্তরবাড়ি, মধ্যবাড়ি এবং গোলাবড়ি নামে রয়েছে বড় আকারের পাঁচটি ভবন। মূল প্রসাদ কমপে­ক্স একই রকম পাঁচটি অংশ আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। পূর্ব দিকের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি চারটি টিকে আছে এখনও। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালজুড়ে নানারকম কার“কাজ আর মূর্তি এখনও রয়েছে।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ির বিশাল কমপে­ক্সটি উঁচু দেয়ালে চারদিকে ঘেরা। প্রাচীন আমলের সেই প্রাচীর এখনও টিকে আছে। চার দেয়ালের মাঝে এখন রয়েছে চারটি সুদৃশ্য ভবন। আর ভবনগুলোর সামনের প্রাচীর দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ। আর চারটি ভবনের পেছন দিকে আছে আরও চারটি ভবন। চারটি প্রবেশ পথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি চারটি সিংহমূর্তি। সিংহ দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরুলেই দীর্ঘ পুকুর। পুকুরের জলে বালিয়াটি প্রাসাদের প্রতিচ্ছবি আজও মন ভরিয়ে দেয়।

সান বাঁধানো ছয়টি ঘাট আছে এ পুকুরের চারপাশে। আর পুকুর ঘিরে সারিবদ্ধ কক্ষগুলো ছিল পরিচারক, প্রহরী ও অন্যান্য কর্মচারিদের থাকার জন্য।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি সাটুরিয়া যায় ‘জনসেবা’ বাস। ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া দেশের যেকোনো স্থান থেকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের কালামপুর স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকেও লোকাল বাসে সাটুরিয়া যাওয়া যায়। সাটুরিয়া স্টেশন থেকে বালিয়াটি জমিদারবাড়ির রিকশা ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এই বিভাগের আরো খবর

একদিনের ট্যুর!

ডেস্ক প্রতিবেদন: কম খরচে কম সময়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে চট্টগ্রেমের সীতাকুন্ড এবং মিরসরাইয়ের রেঞ্জ গুলো অনেক বেশী সুবিধাজনক। কেউ চাইলে দিনে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is