ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯
শিরোনামঃ
ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুতেরেসের সমর্থন গত কদিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ১১ সাক্ষীকে জেরার জন্য খালেদার আবেদন হাই কোর্টে নিষ্পত্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজে নিরপেক্ষতা থাকতে হবে: সিইসি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টিতে মারা যেতে পারে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই আইন মেনে চলুন টস জিতে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আবহাওয়ার উন্নতি: দেশের বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল স্বাভাবিক নির্বাচন নিয়ে সরকার নীল নকশা করছে: রিজভী ২৫টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সাথে বৈঠকে বসেছে ইসি ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও মালয়েশিয়া স্পেনের কেন্দ্রীয় শাসন না মানার ঘোষণা কাতালান প্রেসিডেন্টের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখুন: জয় ইপিএল-এ জয় পেয়েছে চেলসি ও ম্যানসিটি বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাহত ফেরি চলাচল টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশীসহ ৪ শ্রমিকের মৃত্যু কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে দিলো স্পেন

পুঁথিকাব্য: রোহিঙ্গা গণহত্যার করুণ কাহিনী

প্রকাশিত: ১০:৪৭ , ১১ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১০:৪৭ , ১১ অক্টোবর ২০১৭

।। জালাল খান ইউসুফী ।।

শোনেন শোনেন ভাই-২ বলে যাই মায়ানমার কাহিনী
গণহত্যা করছে সেথায় অং সেনা-বাহিনী।
বলি সেসব কথা-২ বন্ধুশ্রোতা হিন্দু-মুসলমান
বিশ্বে যত ধর্ম আছে জৈন-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান।
সকল ধর্মীগণ-২ জনগণ শোনেন খেয়াল করে
আরাকানে গণহত্যা চলছে ঘরে ঘরে।
চতুর বৃটিশগণ-২ বিতারণ হয়ে যায় যখন
স্থায়ী একটি গোলমালের বীজ করে যায় বপন।
ঐযে মায়ানমার-২ তারিখ চার জানুয়ারি মাসেতে
উনিশ’শ আটচল্লিশ সালে বৃটিশদের হইতে।
পেলো স্বাধীনতা-২ সত্যকথা একশ চল্লিশ জাতি
ছয় কোটিরও বেশি মানুষ করে যায় বসতি।
বৌদ্ধ সংখ্যায় বেশি-২ তারপর বেশি জাতি মুসলমান
রোহিঙ্গা মুসলিমের বসত ছিল আরাকান।
রাজ্য আরাকান-২ মুসলমান রোহিঙ্গা একদিন
সকল সময় ছিল তারা স্বর্নিভর স্বাধীন।
বার্মা স্বাধীন হলো-২ খন্ড হলো ভারত পাকিস্তান
পূর্ব-পাকের সঙ্গে যেতে চাইল আরাকান।
পূর্ব পাকিস্তান-২ মুসলমান, ভারত হিন্দু জাতি
বৌদ্ধ ধর্মের রাষ্ট্র বার্মা-কী করে হই সাথি।
আমরা মুসলমান-২ পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র হয়
জাতে জাতে সন্ধি হলে সুখের হবে জয়।
এমন আশা ছিল-২ বৃটিশ দিল আশার গুড়ে বালি
অধিকারকে কেড়ে নিয়ে মেখেছে চুন-কালি।
বৃটিশ শাসক যারা-২ নিল তারা বিদায় বার্মা থেকে
আরাকান রাজ্যটি তাদের দিয়ে গেলো লেখে।
বার্মা হইলো খুশি-২ হয়নি খুশি জাতিসংঘ নীতি
প্রস্তাব মতো বৃটিশ কর্মে হয়েছে দুর্নীতি।
অবৈধ হস্থান্তরে-২ মতান্তরে বিব্রত সরকার
স্বায়ত্তশাসন দেয়াটা হয়ে যায় দরকার।
উনিশ’শ আটচল্লিশে-২ দিয়ে শেষে বাষট্টি সাল এলে
নে-উইনের সামরিক সরকার একটি ডিক্রি বলে।
করে প্রত্যাহার-২ দেয় আবার ঘোষণা কঠিন
বাহির থেকে রোহিঙ্গারা আসছিল একদিন।
তারা বার্মিজ নয়-২ তারা হয় বহিরদেশাগত
অত্যাচার নিযার্তন সরকার চালায় অব্যাহত।
ওরা নিজের দেশে-২ হয়ে আছে বন্দি পরাধীন
অথচ একদিন আরাকান আছিল স্বাধীন।
তাদের স্বাধীনতা-২ সত্যকথা বৃটিশ আর জার্মানে
কূট-কৌশল করেছে বলে রোহিঙ্গা হার মানে।
উনিশ’শ বেয়াল্লিশে-২ আটচল্লিশে-পঁচাশিতে আর
নব্বই আর দুই হাজার বারো মায়ানমার সরকার।
চালায় অত্যাচার-২ অবিচার রোহিঙ্গাদের প্রতি
পুড়িয়ে মারে জ্যান্ত মানুষ ঘর বাড়ি বসতি।
এমনি সনে সনে-২ নির্যাতনে রোহিঙ্গা জাতিকে
দেশ থেকে দেয় তাড়িয়ে তারা অন্য দেশের দিকে।
কেহ পালিয়ে যায়-২ হয় বাংলায় নয়তো অন্য দেশে
পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা আছে বাংলাদেশে।
অভিবাসী হইয়া-২ বাস করিয়া কর্ম করে বাঁচে
কক্সবাজার জেলাতে ওরা অধিকাংশ আছে।
আবার এই সেদিনে-২ রাখাইনে দুই হাজার ষোলতে
অক্টোবরের নয় তারিখে সীমান্ত চৌকিতে।
কারা হামলা করে-২ তাতে মরে বিজিপি নয় জন
এই সূত্রে মিলিটারি আর পুলিশ নির্যাতন।
করে রোহিঙ্গাদের-২ ধরে তাদের বান্ধে হাতে পায়
বৌদ্ধগণকে সৈন্যগণের সঙ্গে দেখা যায়।
সবার হাতে লাঠি-২ হয় এক পার্টি বৌদ্ধগণে মিলে
অস্ত্র হাতে সু চির সেনার মমতা নাই দিলে।
কোথায় রোহিঙ্গারা-২ ধরে তারা বাড়ি থেকে আনে
অত্যাচার নির্যাতন করে মেরে ফেলে প্রাণে।
কারো বুকের ’পরে-২ উঠে করে নিঠুর নাচানাচি
ফেসবুকে এই দৃশ্ব্য দেখে কষ্টে বেঁচে আছি।
আবার মুখের উপর-২ বুকের উপর কোপ মারে দা’দিয়া
নারী শিশু যুবক বুড়ো নির্যাতন করিয়া।
কারো হাতে বান্ধে-২ পায়ে বান্ধে পেট্রোল ঢেলে গায়
পৈশাচিক উল্লাশ করিয়া অগ্নিতে পোড়ায়।
গিয়া বাড়ি বাড়ি-২ যৌবত নারী খুঁজে বাহির করে
বৌদ্ধ, সৈন্য, পুলিশ মিলে গণধর্ষণ করে।
আগুন দেয় গায়েতে-২ ঘর বাড়িতে গ্রামের পরে গ্রাম
নিশ্চিহ্ন চায় করতে ওরা রোহিঙ্গাদের নাম।
বেধে গাছের সাথে-২ দিনে রাতে করে নির্যাতন
অতিষ্ট রোহিঙ্গা জাতি স্বেচ্ছায় নির্বাসন।
কেহ গ্রহণ করে-২ কেউবা মরে মা-মাটির মায়ায়
প্রাণের ভয়ে বন-জঙ্গলে পর্বতে পালায় ।
তাদের ধরে এনে-২ জনে জনে প্রকাশ্যে খুন করে
শত শত মানুষ গেলো ওদের হাতে মরে।
হাজার হাজার মানুষ-২ হারাইয়া হুস হইলো গৃহহীন
মায়ানমারের রোহিঙ্গারা হইয়া পরাধীন।
আছে আপন দেশে-২ তাদের পাশে কেউ নাই দাঁড়াবার
মধ্যপ্রাচ্যের রাজরাজারা চুপ থাকে বারবার।
তারা মুসলমান-২ আরাকান ঐতিহাসিক দেশ
সা¤প্রদায়ীক দাঙ্গায় সুচি রাজ্য করছে শেষ।
কারো রা নেই মুখে-২ আছে সুখে ধরে সিংহাসন
মানুষ হইয়া সহ্য করে মানুষ নির্যাতন।
উভয় সমান দোষী-২ ওরে সুচি দেখরে ভেবে আজ
আরাকানে দেখ পা রেখে তোর সেনাদের কাজ।
বৌদ্ধধর্মী গুরু-২ কী কাজ শুরু করছে মায়ানমারে
সত্য শান্তির রানী হয়ে শান্তি দাও বার্মারে।
তোমার হিংসানলে-২ বিশ্ব জ্বলে জ্বলছে আরাকান
কান্তিকামি রোহিঙ্গারা জাতে মুসলমান।
সংখ্যালঘু তারা-২ তাইতো মারা পড়ছে পথেঘাটে
মা-বোনেরা নির্যাতিত হচ্ছে হাটে মাঠে।
শিশু বুড়ো ধরে-২ জবাই করে গণকবর দাও ?
শান্তির জন্য নোবেলজয়ী সাবধান হয়ে যাও।
ওরা জাতে মানুষ-২ নয়রে ফানুষ নয়রে পশু-পাখি
বাংলাদেশের টেকনাফ এসে খুলে দেখো আঁখি।
কত রোহিঙ্গারা-২ দেশ ঘর ছাড়া পরের দেশে এসে
পথে ঘাটে পড়ে আছে শরণার্থী বেশে।
তাদের ঘর-বাড়িতে-২ আগুন দিতে গিয়েছিল যারা
হত্যা-ধর্ষণ আর লুটতরাজ করেছিল তারা।
তারা মানুষ নয়-২ তারা হয় অমানুষের জাত
মানুষ হয়ে মানুষ মারে কোন মানুষের হাত।
ওরা মানুষ নয়-২ বলতে হয় ধোকাবাজ শয়তান
প্রাণী হত্যা হয় মহাপাপ ওদের ধর্ম গান।
তবে কেমন করে-২ হত্যা করে সবার সেরা প্রাণি
মিথ্যা প্রমান করে দিল ওদের ধর্মবাণী।
ওরা যা কয় মুখে-২ তাদের বুকে অন্তরে তা নাই
বলে এক আর করে আরেক ইতিহাসে পাই।
বার্মার শাসক যারা-২ সেনা তারা ঘটায় অভ্যূত্থান
একের পর এক জেনারেলদের ঘটতেছে উত্থান।
তাদের বুক পিঠ নাই-২ নইলে ভাই ক্ষমতার আশায়
লাখো মানুষ মেরে কেমনে সাগরে ভাসায়।

শোনেন অন্য সুরেÑÑ
[পঞ্চপদী ভাটিয়ালী]
মায়ানমারের আরাকানে শোকের মাতম শোনা যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
মায়ানমারের একটি প্রদেশ রাজ্য আরাকান
সেইখানে বসতি করে জাতি মুসলমান।
এক সময় এ রাজ্য ছিল স্বয়ং স্বর্নিভর
ব্যাবসাপাতি সকল দিকে ছিল সে উবর্র।
আরবী-তূকি-বণীক শ্রেণী বাণিজ্যে আরকানে যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই।।
মুসলিম প্রদান দেশ আরাকান রোহিঙ্গাদের বাস
চার হাজার বছরের উপর সাক্ষী ইতিহাস।
তাদের যেমন রাজ্য ছিল তেমনি ছিল রাজা
কথায় কথায় সেই রাজারা দেয়নি কারো সাজা।
আরকানিরা দুইশ বছর আরকানে রাজ্য চালায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
কবিদের সমজদার ছিলেন আরকানি রাজারা
পৃষ্ঠপোষকতা পেতেন কবি ছিলেন যাঁরা।
আরাকানের রাজদরবারে কবি জায়গা পান
আশপাশের বাঙালি এবং অনেক মুসলমান।
যুদ্ধমন্ত্রী আশরাফ খানের নামটি আজো পাওয়া যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
আরাকানের রাজদরবারের আরো দুই শায়ের
ইতিহাসে অমর তারা নাম বলি তাদের।
বাংলা ভাষার কবি ছিলেন তাহারা দুইজন
একজন হলেন দৌলত কাজী, আলাওল একজন।
এ তিন কবির পৃষ্টপোষক আরাকানের রাজরাজায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
সতেরোশ একত্রিশ থেকে চুরাশি সাল ধরে
তেরোজন আরাকানি রাজা রাজ্য শাসন করে।
আঠারোশ ছাব্বিশে যায় ব্রিটিশের দখলে
তখন থেকেই স্বাধীনতা হরণ করা চলে।
উনিশশ বেয়াল্লিশ সালে জাপানের দখলে যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
উনিশশ আটচল্লিশ সালের জানুয়ারির চার
স্বাধীনতা পেয়েছিল এই সে মায়ানমার।
পার্লামেন্টে তখন ছিল রোহিঙ্গাদের নেতা
রোহিঙ্গারা আরকানি নয় এখন বলে কে তা?
সরকারের উচ্চ পদেও তখন তারা চাকরি পায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
উন্নিশশ বাষট্টি সালে নে উইন জেনারেল
লোভ-লালসায় পড়ে বসায় জাতির বুকে শেল।
সামরিক অভ্যূত্থান করে ক্ষমতায় সে আসে
মায়ানমারের যাত্রাতরী অন্য দিকে ভাসে।
ধর্ম হিংসার আগুন দিয়ে ধর্মীয় রায়ট লাগায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
 রোহিঙ্গারা অভিবাসি এই ঘোষণা দিয়ে
নাগরিক অধিকার কাড়ে ভোটাধিকার নিয়ে।
ধর্মীয় অত্যাচার বাড়ায় নে উইনের সরকার
হত্যা ধষর্ণ হয়ে পড়ে দৈনন্দিন ব্যাপার।
জোর করে সম্পত্তি কেড়ে একজনেরটা অন্যে খায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
ধর্মীয়ভাবেও করে জুলুম অত্যাচার
নামাজ আদায় করতে দেয়না এমন স্বৈরাচার।
শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ নাহি রাখে
রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে ওরা ‘কালা’ নামে ডাকে।
শ্রমের কোনো মূল্য দেয় না জোরজবরে কাজ করায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
রোহিঙ্গা মুসলিমগণের নাই বিয়ের অনুমতি
বিয়ের ফলে জাতি বাড়লে বৌদ্ধগণের ক্ষতি।
বাচ্চা হলে নিবন্ধনের নাই কোনো বিধান
ওরা হলো রোহিঙ্গা আর জাতে মুসলমান।
মুসলমান নিধনে ওরা কি জানি কি শান্তি পায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
একের পর এক নিয়ম করে সামরিক সরকার
আটাত্তরে শুরু করে ধর-পাকড় আবার।
বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসে
তখনকার অনেকে আজও বাংলাদেশে আছে।
তারপরে ফের কালে কালে হত্যা-লুট-ধর্ষণ চালায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই।।
সর্বশেষ রোহিঙ্গা হত্যা দমনের কাহিনী
কবে শুরু করেছিল মায়ানমার বাহিনী।
সেই ঘটনার কথা কিছু প্রকাশ করে যাই
পেপার আর পত্রিকা পড়ে যে সব তথ্য পাই।
সেসব কথা বলি কিছু শোনেন শ্রোতা সকলায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
যুগে যুগে রোহিঙ্গারা জুলুম অত্যাচারে
অতিষ্ঠ হয়েছে ওদের চরম অবিচারে।
অধীকার আদায়ের জন্য চেষ্টা করে তারা
শাসক শ্রেণী টের যদি পায় মেরে করে সারা।
তবু তারা তলে তলে আন্দোলনের কাজ চালায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
রোহিঙ্গারা বুঝে গেছে তাদের শাসক গণ
নাগরীক অধীকার এমনি করবে না অর্পণ।
আদায় করে নিতে হবে আপন অধিকার
রুখতে হবে ওদের এসব জুলুম অত্যাচার।
তাই রোহিঙ্গাগনে সেদিন হামলা করতে রাতে যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
সেদিন ছিল সতরো সালের পঁচিশ আগস্ট রাতে
রোহিঙ্গা গেরিলা ‘আরসা’ মিলে একই সাথে।
তিরিশ খানা পুলিশ পোস্টে চালায় আক্রমণ
একটি সেনাচৌকিতেও ঘটায় বিস্ফোরণ।
হাতের তৈরি বোমা দিয়ে আরসা’রা হামলা চালায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
রাত্র একটায় হামলা করে তারপরে তিনটায়
তৃতীয়তম আক্রমণটি চারটাতে চালায়।
একুশজন গেরিলা সেদিন নিহত হয় তাতে
একটি সেনা দশটি পুলিশ হত্যা হলো রাতে।
এক হাজার রোহিঙ্গা সেদিন রাত্রে আক্রমণে যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
গেরিলারা লাঠি ছুরি করে ব্যাবহার
বিস্ফোরকে একটি সেতু উড়িয়েছে এবার।
বর্মি পুলিশ এবং সেনা ভিষণ ক্ষেপে ওঠে
গেরিলাদের পিছে পিছে যত্রতত্র ছোটে।
অত্যাচার নির্যাতন করে রোহিঙ্গা যেখানে পায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
যুবতি-কিশোরী-বুড়ো-যুবক-শিশু-নারী
হত্যা ধর্ষণ করে এবং পোড়ায় বসত বাড়ি।
জ্যান্ত ধরে জবাই করে আদমের সন্তান
নির্যাতিত হচ্ছে যারা সবাই মুসলমান।
কাউকে মারে ফায়ার করে কাউকে আগুনে পোড়ায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
বৌদ্ধদেরে সঙ্গে নিয়ে গণধর্ষণ করে
রামদা দিয়ে কোপায় নারীর চুলের মুঠি ধরে।
গোপন অঙ্গ-হাত-পা কাটে কাটে নারীর স্তন
শরীর করে খণ্ড খণ্ড নিঠুর নির্যাতন।
এমন নিঠুর হত্যা কান্ড চলছে ভবে আর কোথায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
বাড়ির পরে বাড়ি জ্বালায় গ্রামের পরে গ্রাম
নিশ্চিহ্ন করতে চায় ওরা রোহিঙ্গাদের নাম।
মানুষ চায়না চায় মাটিকে একাত্তরের মতো
মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা সইব বলো কতো।
প্রাণ বাঁচাতে কত মানুষ এসেছে সোনার বাংলায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
আইয়ামে জাহেলি যুগের হলো পরাজয়
জলে স্থলে লাশের সারি সব খবরে কয়।
নাফ নদীতে লাশ ভাসে আর সৈকতে জঙ্গলে
বার্মার উপর লাশ পাবে ভাই যাও যদি মঙ্গলে।
লাশের শরীর কাটাছেঁড়া রক্তে রাঙা দেখা যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।
বেগুন পোড়া শরীর কারো ছবিতে যায় দেখা
হায় রোহিঙ্গা মানব জাতির ভালে ছিল লেখা।
বৌদ্ধ জাতির হত্যালীলায় কান্দে মুসলমান
গাছগাছালি-পাকপাখালি জমিন আর আছমান।
ওরে-বিশ্বমানব কান্দে তবু বৌদ্ধরা জুলুম চালায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
শত শত রোহিঙ্গাদের প্রাণ নিয়েছে কেড়ে
জীবিতরা প্রাণ বাঁচাতে পালায় বার্মা ছেড়ে।
হাজার হাজার শরণার্থী এলো বাংলাদেশে
প্রতিদিনই আসছে ওরা নাফের স্রোতে ভেসে ।
এই ক’দিনে তিন লাখ হবে খবরে তাই পাওয়া যায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
সব মিলিয়ে দশলাখ বর্মি বাংলাদেশে আছে
এদের নিয়ে কেমন করে সোনার বাংলা বাঁচে?
মায়ানমারকে চাপ দিতেছে বাংলাদেশ সরকার
গণহত্যা বন্ধ করা জরুরি দরকার।
শরণার্থী ফেরত নিতে জাতিসংঘের উদ্যোগ চায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।
এই পর্যন্ত প্রথম খণ্ড করে দিলাম ইতি
এখন শোনেন পাঠক শ্রোতা লেখক পরিচিতি।
জালাল খান ইউসুফী আমি- সিলেট জেলায় ঘর
জন্ম আমার নিজ বুরুঙ্গা-- ওসমানী নগর।
গল্প-গানে-উপন্যাসে কলম চালাই কবিতায়
রোহিঙ্গা হত্যার কাহিনী শোনেন ভাই সবাই ।।

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is