ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯
শিরোনামঃ
ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুতেরেসের সমর্থন গত কদিনে বাংলাদেশে ঢুকেছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ১১ সাক্ষীকে জেরার জন্য খালেদার আবেদন হাই কোর্টে নিষ্পত্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজে নিরপেক্ষতা থাকতে হবে: সিইসি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টিতে মারা যেতে পারে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই আইন মেনে চলুন টস জিতে ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আবহাওয়ার উন্নতি: দেশের বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল স্বাভাবিক নির্বাচন নিয়ে সরকার নীল নকশা করছে: রিজভী ২৫টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সাথে বৈঠকে বসেছে ইসি ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও মালয়েশিয়া স্পেনের কেন্দ্রীয় শাসন না মানার ঘোষণা কাতালান প্রেসিডেন্টের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখুন: জয় ইপিএল-এ জয় পেয়েছে চেলসি ও ম্যানসিটি বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ব্যাহত ফেরি চলাচল টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশীসহ ৪ শ্রমিকের মৃত্যু কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে দিলো স্পেন

কাজুও ইশিগুরো’র বড়গল্প

আঁধার ঘনালে পর একটা গ্রাম

প্রকাশিত: ০৩:৪২ , ১২ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ০৩:৪৩ , ১২ অক্টোবর ২০১৭

[সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো। জাতিগত সূত্রে তিনি জাপানি হলেও জাতীয়তা সূত্রে ব্রিটিশ। মূলত ইংরেজি ভষাতেই তিনি লেখালেখি করে থাকেন। তাঁর একটা বহুলপঠিত বড়গল্প ‘এ ভিলেজ আফটার ডার্ক’ অনুবাদ এখানে পত্রস্থ করা হচ্ছে, কয়েক কিস্তিতে ধারাবাহিকভাবে।]

একটা সময় ছিলো যখন আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ইংল্যান্ডে ঘুরতে পারতাম এবং আমার সবচেয়ে ভালো মেজাজে থাকতে পারতাম। তখন আর কিছু না হোক, ভ্রমণটা আমাকে একটা আনন্দ দিতো। কিন্তু এখন যেহেতু আমার বয়স বেড়েছে, অল্পেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। তাই গ্রামটাতে সন্ধ্যার আঁধার ঘনানোর পরপরই পৌঁছে আমার বোধবুদ্ধি একেবারেই গুলিয়ে গেলো। বিশ্বাসই করতে পারছিরাম না যে, এ গ্রামেই আমি কাটিয়ে গিয়েছি এবং অমন প্রভাব বিস্তার করে গিয়েছি অনতিদীর্ঘ কাল আগে।

কোনোকিছুই আমি চিনতে পারছিলাম না। দেখলাম, আঁকাবাঁকা, স্বল্পালোকিত এবং দু ধারে স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের ছোট ছোট পাথুরে বাড়ির মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাটা দিয়ে হেঁটে চলেছি তো চলেছিই। রাস্তাটা একটু পরপরই এমন সংকীর্ণ, এপাশের বা ওপাশের এবড়োখেবড়ো প্রাচীরে আমার ব্যাগে বা কনুইয়ে ঘষা না খেয়ে হাঁটতেই পারছিলাম না। তারপরও ধৈর্য ধরে রেখেছিলাম। অন্ধকারে হোঁচট খেতে খেতে সামনে এগুচ্ছিলাম, শিগগিরই গ্রামের মাঝখানকার সেই চত্বরে পৌঁছে যাবো এই আশা নিয়ে। ওখানে পৌঁছলে জায়গাটাকে তবুও হয়তো চেনা মনে হতো। চেনা কারো সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ারও একটা আশা ছিলো। কতক্ষণ পরও যখন এর কোনোটাই করা গেলো না, একটা ক্লান্তি আমাকে পেয়ে বসলো। সিদ্ধান্ত নিলাম, এখন আমার প্রধান করণীয় হলো সামনে যে-বাড়িটা পড়বে সেটারই দরজায় গিয়ে ঘা দেয়া, এবং আশা করা যে, আমাকে চেনে এমন কেউ দরজাটা খুলে দেবে।

বিশেষভাবে নড়বড়ে চেহারার একটা দরজার সামনে দাঁড়ালাম, যেটার ওপরকার কড়িকাঠ এত নিচু যে, বুঝলাম আমাকে মাথা অনেকটা নামিয়ে তবেই ভেতরে ঢুকতে হবে। দরজার ফাঁক দিয়ে ম্লান একটা আলোর রেখা বাইরে বেরিয়ে এসেছিলো, এবং ভেতর থেকে শোনা যাচ্ছিলো মানুষের কথাবার্তা আর হাসির আওয়াজ। দরজায় জোরে টোকা দিলাম যাতে ভেতরের লোকেরা তাদের কথাবার্তার মধ্যে সেটা শুনতে পায়। কিন্তু ঠিক তখনই আমার পেছন থেকে কে যেন বলে উঠলো, “হ্যালে­া।”

ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম পেছনে একটু দূরেই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে বছর কুড়ি বয়সের একজন তরুণী, পরণে চলতি ফ্যাশানের জীর্ণ জিনস আর ছেঁড়া জাম্পার।

“একটু আগে আপনি আমার পাশ দিয়ে চলে এসেছেন,” সে বললো, “এমনকি যদিও আমি আপনাকে ডাকও দিয়েছিলাম।”

“তাই নাকি? যাক গে, আমি দুঃখিত। আমি আসলে কোনো অভদ্রতা করতে চাইনি।”

“আপনি ফ্লেচার, তাই না?”

“হ্যাঁ,” মনে মনে খানিকটা খুশি হয়ে বললাম।

“আপনি যখন আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, ওয়েন্ডির মনে হয়েছিলো ওটা আপনি। আপনি ওদেরই একজন, তাই না? ওই ডেভিড ম্যাগিস আর অন্যেরা সব।”

বললাম, “হ্যাঁ। কিন্তু ম্যাগিসকে তো কোনোমতেই সবচেয়ে গুর“ত্বপূর্ণ বলা যায় না। তুমি তার নামটাই খুঁজে নিলে দেখে অবাক হচ্ছি। ওখানে এমন আরো অনেকেই আছে যারা ওর চেয়ে গুর“ত্বপূর্ণ।” এর পর আমি গড়গড় করে কয়েকজনের নাম বলে গেলাম এবং দেখে মজা পেলাম যে, প্রতিটি নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি মাথা নেড়ে নেড়ে তাকে চেনার ভাব করছে।

বললাম, “কিন্তু এগুলো তো সব ঘটেছে তোমাদের সময়ের আগে। তারপরও তুমি এসবকিছু জানো দেখে অবাক হচ্ছি।”

“ওসব ঘটেছে আমাদের সময়ের আগে, কিন্তু আমরা সবাই আপনাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিলো সব জানি। আমাদের চেয়ে বয়স্ক যারা তখন এখানে ছিলো, তাদের অধিকাংশ থেকেও আমরা বেশি জানি ওসব ঘটনা সম্পর্কে। ওয়েন্ডি আপনাকে সাথে সাথেই চিনতে পেরেছে আগে দেখা আপনাদের ছবি থেকে।”

“আমি তো জানতাম না যে তোমরা অল্পবয়েসীরা আমাদের ব্যাপারে এতটা আগ্রহী হয়ে পড়েছো। তোমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমাকে চিনতে না পারার জন্যে কিছু মনে কোরো না। দেখতেই তো পাচ্ছো, এখন বয়স হয়েছে। বাইরে কোথাও বেড়াতে বের“লে আমি আজকাল খানিকটা দিশেহারা গোছের হয়ে পড়ি।”

ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসা জোরালো কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। দরজায় আবার ধাক্কা দিলাম, এবার খানিকটা অধৈর্যভাবেই, যদিও মেয়েটার সঙ্গে আমার এই আলাপচারিতায় ইতি টানার তেমন কোনো আগ্রহ আমার হচ্ছিলো না।

সে আমার দিকে একনজর তাকালো, তারপর বললো, “আপনারা সেসব দিনের লোকেরা সবাই ওরকম। কয়েক বছর আগে ডেভিড ম্যাগিসও এখানে এসেছিলেন। ’৯৩-এ, নাকি ’৯৪-এ। আগের মতনই আছেন। খানিকটা বিভ্রান্ত গোছের। সর্বক্ষণ এখানে-ওখানে ঘুরতে ঘুরতে আপনার অবস্থাও কিছুদিন পর এমনটাই হবে।”

“তা হলে ম্যাগিসও এখানে এসেছিলো। চমঃকার! জানো তো, সে আসলে অতটা কেউকেটা কেউ ছিলো না। ওরকম একটা ধারণা তোমাকে যেন পেয়ে না বসে। সে যাই হোক, এখন আমাকে বলো দেখি এ বাড়িটায় কারা থাকে।”

“পিটারসনরা,” মেয়েটা বললো, “এদের বাড়িটা পুরোনো। ওদের নিশ্চয় আপনার কথা মনে আছে।”

“পিটারসনরা।” আমি বিড়বিড় করে কথাটা ফের আওড়ালাম, যদি ও নামের কাউকে চেনার কথা অমার মনে পড়লো না।

“আপনি আমাদের বাসায় চলুন না। ওয়েন্ডি খুব খুশি হবে। তেমনি বাকিরাও। এটা আমাদের জন্যে একটা সত্যিকারের সুযোগ ওসময়ের কারো সঙ্গে বসে কথা বলার।”

“ওটা করতে পারলে আমার নিজেরও খুব ভালো লাগতো। কিন্তু সবার আগে আমাকে কোথাও একটা থাকার জায়গা করে নিতে হবে। এটা পিয়ারসনদের বাড়ি বললে না?”

আমি ফের দরজায় ধাক্কা দিলাম, এবার রীতিমতো হিংস্রভাবে। শেষপর্যন্ত দরজাটা খুললো, সামনের রাস্তায় আলো আর উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়ে। দরজার মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন বুড়োমানুষ। আমার দিকে সতর্কভাবে তাকিয়ে তিনি বললেন, “ফ্লেচার না? তাই তো মনে হচ্ছে।”

“হ্যাঁ, এইমাত্র আমি গ্রামে এসেছি। আমি আজ কয়েকদিন ধরে বাড়িছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”
কথাটা তিনি এক মুহূর্ত ভেবে দেখলেন। তারপর বললেন, “ঠিক আছে, ভেতরে আসুন।” (চলবে)

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is