ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-22

, ৯ জিলকদ্দ ১৪৩৯

নীল আর সবুজের বিছানাকান্দি

প্রকাশিত: ০৪:৪০ , ০২ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৪:৪০ , ০২ নভেম্বর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: সিলেট শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে নীল আর সবুজের আবরণে মোড়ানো বিছানাকান্দি। শহরের যান্ত্রিকতা থেকে একেবারেই আলাদা তার রূপ আর লাবণ্য। তবে বিছানাকান্দির এই রূপ আর লাবণ্য উপভোগের জন্য পাড়ি দিতে হবে বেশ অনেকটা পথ। পথটাও কিন্তু কম উপভোগ্য নয়।

প্রথমে ঢাকা থেকে যেতে হবে সিলেট। এরপর সিলেট শহর থেকে সিএনজি অথবা মাইক্রো ভাড়া করে প্রথমে যেতে হবে গোয়াইনঘাট উপজেলার হাঁদারপাড় নামক স্থানে। গোয়াইনঘাটে রাস্তা বেশ রোমাঞ্চকর। মাইক্রো থেকে বাইরে চোখ রাখলেই অফুরন্ত সবুজ মাঠ ঘাট দেখতে পারবেন আর একটু লক্ষ্য করলেই মাঠগুলোর পিছনে নীল পাহাড়গুলো চোখে পড়বে। নীল আকাশ আর তার চাইতেও নীল পাহাড় এবং সবুজের যে অপূর্ব সমন্বয় তা শহরের মানুষগুলোর জন্য যেন উপহারের মত।

তবে হাঁদারপাড় থেকে বিছানাকান্দিতে যাওয়ার পথটুকু ততটা উপভোগ্য নয়। এখানে গাড়ির কোন ব্যবস্থা নেই। গ্রীষ্মকালে চাইলে হেঁটেই হাঁদারপাড় থেকে বিছানাকান্দিতে চলে যেতে পারেন। সময় লাগবে ৩০-৪০ মিনিট। তবে বর্ষাকালে সেই সুযোগ নেই। বর্ষায় হাঁদারপাড় থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরবোটে করে যেতে হবে বিছানাকান্দি।

কী দেখবেন

নৌকা করে বিছানাকান্দি আসার পুরো পথটা অসম্ভব রোমাঞ্চকর। স্বচ্ছ আর ঠাণ্ডা পানি ঠেলে নৌকার এঁকেবেঁকে বয়ে চলা মনে এনে দেয় অদ্ভুত এক প্রশান্তি। তার উপর বাড়তি পাওনা হিসেবে তো আছে আশেপাশের গগনচুম্বী পাহাড় আর মাথার উপর শুভ্র শান্ত আকাশের আবরণ। পথ যত কমতে থাকে অস্পষ্ট পাহাড়গুলো স্পষ্ট নিরেট আকার নিতে থাকে আর তখন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতে হয়। যেন কোন শিল্পীর আঁকা ছবির মত এ দৃশ্য, প্রতিটি খাঁজে রয়েছে অপার সৌন্দর্য আর নিখুঁত কারুকার্যের নিদর্শন। পথে চলত চলতে দুপারে দেখা মিলতে পারে কিছু আদিবাসীদের। এমনি করে চলতে চলতে কখন যে পথ শেষ হয়ে আসে তা বলা মুশকিল। কিন্তু পথ শেষ হলে হবে কি সৌন্দর্যের শেষ হবার উপায় নেই। কারণ তখন আপনি চলে এসেছেন অপরূপা বিছানাকান্দিতে। এখানে পৌঁছে যখন মনে হবে সেই পাহাড় সেই আকাশই তো এখানে। কিন্তু পা ফেলার সাথে সাথে এই ভাবনাটুকু কখন যে তলিয়ে যাবে বুঝতেই পারবেন না। পা রাখতেই টের পাওয়া যাবে কেন বিছানাকান্দিতে আসা । স্বচ্ছ আর হিম শীতল পানির নিচে যেন শত শত পাথরের মেলা বসেছে। নানা রঙের, নানা আকারের আর বিচিত্র সব উপাদানের পাথরে ভরপুর এই জায়গাটিকে পাথরের রাজ্য বললে ভুল হবে না।

বিছানাকান্দি ভারত এবং বাংলাদেশের বর্ডার এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১০০ গজ দূরে থাকা লাল পতাকাগুলোর সারি জানান দেয় যে ওপাশেই ভারত। এখান থেকে সহজেই ভারতীয় জলপ্রপাত গুলো দেখা যায় যা থেকে পানি বয়ে আসে বিছানাকান্দি পর্যন্ত। একটি কাঠের ব্রিজ বাংলাদেশের বর্ডারের মধ্যে পড়েছে যা পানি প্রবাহের বিপরীত দিকে অবস্থিত উচ্চভূমি আর সমতল ভূমির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজ করে। এর ফলে আদিবাসীদের গবাদিপশু চারণের বিশেষ সুবিধা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আচরণবিধি লঙ্ঘণ ও ভোট কারচুপি ঠেকাতে ইসির নির্দেশনা

ডেস্ক প্রতিবেদন : তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বাকী আর মাত্র ৭ দিন। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে  বাড়ছে নির্বাচনী মাঠের উত্তাপ। রাজশাহীতে...

সিরাজগঞ্জের লক্ষ্মীমতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ময়লা আবর্জনা আর পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার পুকুরপাড়...

জনগণের সমর্থন নিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: স্পিকার

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ জনগণের সমর্থন নিয়ে উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন...

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিন: রাষ্ট্রপতি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ কৃষিতে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য অব্যাহত রাখা ও এর অগ্রগতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যাবলীর সমাধানকে...

কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদার জামিন আদেশ সোমবার

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is