ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-22

, ৯ জিলকদ্দ ১৪৩৯

সারাজাত সৌমের কবিতা

প্রকাশিত: ১২:৪১ , ০৩ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ১২:৪১ , ০৩ নভেম্বর ২০১৭

নিতান্তই মৌলবি

মন আমার নিতান্তই মৌলবি। যা কিছু—মানুষের বিশ্বাসের মতো। ছুটে গিয়ে এবার বলো, আমিন—আমিন। তারপর—রোমেনার লাল ফিতার পাশে উন্মুক্ত হয়ে যায় বন আর সামগ্রিক পাখি। যেন আমি তারই গোপন পাথর—ফুল। সেজদায় পড়ে থাকা নিবিড় ঘুম—পরিযায়ী মুহূর্তের ভেতর প্রেমে রত। অথচ কুয়াশার ঘাস—হাঁসের পাশে দৌড়ে যায় মৃদু অলকার হাসি। তবে কি সেখানে ম্লান—এই সূর্য, গুল্মলতা। চিরসবুজ। চিবুকের রেহেল খুলে বসে থাকা এক পাগলীর। বুঝি, আল্লাহর নিরবতার মতোই সে অসীম—অস্থির—প্রসারিত হওয়া পৃথিবী। সে কি প্রেম—আরবি ভাষার মতোই বাঁকা এবং সুরেলা। একদিন—সেই যে, খুব ভোরে খালি পায়ে বাতাসের হাত ধরে লুকিয়ে গেলে। মানুষের ভেতর। আর ফিলে এলে না...

পরম কথা নিয়ে ভাবতে ভাবতে                                                                                                           পরম কথাটি নিয়ে ভাবতে ভাবতে তুমি যেকোনো মহাসড়ক ধরে হেঁটে গেলেই হয়ে উঠতে পারো একটি সুপার ল্যাম্পপোস্টের নিচে এইমাত্র জন্ম নেয়া শিশুটির মতো এক হাস্যোজ্জ্বল জীব, যার সঙ্গে এই মুহূর্তে খেলা করছে রাত্রি ও অসংখ্য তারার ঘোড়া!
সঙ্গে নিতে পারো একটি নীল বিড়াল, সাদা ইঁদুর—যাদের চোখ-ভর্তি মাছ আর পাকা ধানের কল্পনার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নদী ও ফসলের মাঠ—আর যে ঘোড়াগুলো আকাশে ডিগবাজি খেতে খেতে তাদের ডানা তোমার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে তুমি তাদের সঙ্গেও যেতে পারো আরও দূরে এবং বহুদূরে।
এমনকি হাতের আঙুল দিয়ে বাজাতে পারো অদ্ভুত সব সুর—গড়তে পারো হাজারো আকার-আকৃতি এবং মুহূর্তেই হতে পারে সে এক সোনালি ব্যাঙের জগৎ—যারা হাসলে ঝরে পড়ে হীরার বৃষ্টি কিংবা শিশুতোষ আইসক্রিম।
আর আম্মার গর্ভের মতো অন্ধকার থেকে হাজারো নক্ষত্রের তোড়া হাতে তুমি হাঁটতে হাঁটতে হয়ে উঠতে পারো বিস্মৃত…বিস্মৃত…বিস্মৃত…

প্ররোচনা
সতেজ পাতার মতো বিছানা-জুড়ে নেমে এল এক জীবন্ত অথচ কী বেদনার ফল!—জন্মাবার আগে কে জানত আমি তাকে গলায় নিয়ে ঘুরে বেড়াব এ-ঘর থেকে ও-ঘরে কিংবা রাস্তায় রাস্তায়।
যেন একটু আগেই সে তার মায়ের মুখের ওপর খেলছিল পাশা খেলা! কী দারুণ শৈলী তার আঙুলে—নখে আর ঠোঁটে ময়ূর নর্তকী।
চারদিকে বনজ দেয়াল আর জীবজন্তুর পাশেই রাখা আমার ছবি—যেন বাবারা দেখতে ডাকাতের মতো হয়।
আথচ এ আমার কী হলো?—সকল নারীমুখের ওপর আমি কেবল আমার মেয়েকেই দেখছি নূপুর পায়ে এক ধূলিঝড় বা তারও অধিক প্ররোচনা…

এইসব সোনার অক্ষর
পড়ে থাক পায়ের ছাপ—যেটুকু পড়েছিল ঝোপঝাড়ে কিংবা পাখির উড়ালের ভেতর, তার প্রতিধ্বনি যেন সূর্যাস্তের লাল টিপ কাঁপতে কাঁপতে ডুবে যাচ্ছে নিখিল গর্ভে আজ!
অথচ কতদিন এ দীর্ঘ পথ—কালো মহিষের মতো রাত্রি আমি পাড়ি দিয়ে এসেছি এই শহরে! আলো ঝলমল—মদের ভেতর দেখেছি নিজের ছায়া কীভাবে একটি মাতাল টিয়া হয়ে উড়ে যায় সবগুলো বিকার বিলবোর্ডের দিকে—যেন স্থির তোমার চিঠি—ছবি ও সংলাপ।
ওহ! এইসব সোনার অক্ষর—কাকাতোয়া—সিল্কি চুলের ঝাড় আর বুকের ভেতর গড়ে ওঠা একটা পাগলা গারদ—লাল-নীল ট্রাফিক—এমনকি এখন আমার ঠোঁট বেঁকে যাচ্ছে তীব্র শীতে বুঝি মদের বোতল নিজেই শিস দিয়ে ভুলে যাচ্ছে নিজের ছায়া!
গ্রাফিতি
কাচের মতো কী স্বচ্ছ তোমার ছবি অথচ নিষ্ঠুরও! কাল তোমার হৃদয় হাসপাতালে কাটাছেঁড়া ডোমের পাশে যে হাসি বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছিল ঘ্রাণ—যেন সমস্ত দেয়াল-জুড়ে এই গ্রাফিতি।
সে ভোলেনি আর ভুল করে তারই চুম্বন দেয়ালে-পাথরে যে প্রতিধ্বনি তুলেছিল সে তো কেবল স্মৃতি থেকে তুলে আনা মখমল বিছানা—রাত থেকে গভীর সমুদ্রে আছড়ে পড়া ঢেউ কিংবা মাছের পিঠে চড়ে বেড়ানো উজ্জ্বল তারাটি!
তাকে আমি দেখেছি স্থির একটি নক্ষত্রের পাশে, বড়ই ঈর্ষাকাতর আয়না হঠাৎ ভেঙে যাওয়ার পর আমার আঙুল ছিটকে পড়ল তোমার বুকের ওপর থেকে দূরে—বহুদূরে…কেন তোমাকে চাই                                                                                       কেন তোমাকে চাই—এই ভাবনার ভেতর ডুবে গেলে পাঁচটি কোকিল মুচকি হেসে লুটিয়ে পড়ে সন্ধ্যায়, এমনকি মন ও মগজে অস্থির সে নাম ঝর্ণার মতো নামে আঠারোটি নদীর ওপর!                                                                                             শরীরের ভেতর বন—বসন্তের হলুদ পাখিগুলো যেন অবিরাম অমিয় ফল খেয়ে বাঁচে আর মাতাল মানুষের মতো যত পোশাক সোনালি খাঁচার ভেতর নিজেই সে তার বিভ্রম।                                                                                                           অথচ তোমাকে চাই—অন্তত একজন প্রসিদ্ধ হাতসাফাই কারিগরের মতো এই রাত্রিতে যেন চাঁদ থেকে তুলে আনা অলোর পুতুল কিংবা সকল কিছুর আড়ালে নিঃসঙ্গ পানির পাইপ থেকে উড়ে যাওয়া একটি ক্রিস্টালের পাখি, যে হৃদয়-বাষ্প হয়ে আকাশে ওড়ে পরীদরে অহম ডানা নিয়ে।                                                                                                                                        তার রং জানি আমাদের রেস্তোরাঁয় এখনো—আমাদের চোখে ঘুমের মতো আধেক স্বাপ্নিক—আধেক শিহরিত…

সৌজন্যে:Artscan/শিল্পনিরীক্ষা

এই বিভাগের আরো খবর

বেবী নাজনীন হাসপাতালে ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার...

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা তুলে ধরে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা তুলে ধরা ও বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ...

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক হালিমা খাতুনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানালো সর্বস্তরের মানুষ। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তার...

কলকাতায় দুই বাংলার শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী

ডেস্ক প্রতিবেদন: হাতে মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে দিন-রাত চোখ- অনেকেই আবার ফেসবুকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর যারা একটু পড়াশোনায় বেশি মনযোগী তারা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is