ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

প্রস্তাবিত ‘আন্তর্জাতিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’

প্রকাশিত: ০৭:৩৫ , ০৮ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৭:৩৫ , ০৮ নভেম্বর ২০১৭

---------------------------------------
হামীম রায়হান
=====================

বিশ্বমুড়া স্থানটি বর্তমানে পটিয়া থানার বড় উঠান গ্রামে অবস্থিত। বিষম রাজার মুড়া নামটি কালক্রমে বিশ্বমুড়ায় রূপান্তরিত হয়। জনশ্রুতি আছে, এখানে ভীষ্ম বা বিষম নামক এক রাজার বাড়ি ছিলো। মুড়া শব্দের অর্থ জঙ্গলাবৃত পাহাড় বা টিলা। সে অর্থে বিষম রাজার টিলা।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ এই স্থানটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা (পালি-সংস্কৃত) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিনবোধি ভিক্ষু, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা, প্রত্নতত্ত্ব চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন, ইতিহাস গবেষণা কর্মী আহাম্মদ কবীর এবং আমি। মূলত আহাম্মদ কবীর স্যার্‌ই আমাকে ফোন করে নিয়ে যান। পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খোঁজ করা ও প্রত্নএলাকা স্বচক্ষে দেখা।

প্রত্নতত্ত্ব বা পুরাকীর্তির কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। মানুষের পুরনো ইতিহাস, জীবন-যাপন পদ্ধতি, সভ্যতা-সংস্কৃতি-সমাজ, ব্যবহার্য জিনিসপত্র ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যায় প্রত্নতত্ত্ব থেকে। মানুষের আবির্ভাবের পর থেকে যুগে যুগে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সভ্যতা।

অবার কালের প্রবাহে অনেক সভ্যতা হারিয়ে গেছে কালগহবরে। মূলত ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইনের “অরিজিনাল অফ স্পেসিস’ বই প্রকাশের পর থেকেই মানুষের ইতিহাস ও বিবর্তন জানার আগ্রহ বেড়ে যায়। ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কাটার ১৯২২ সালে মিশরের তুতেন খামুকের সমাধি আবিষ্কারের পর সারা বিশ্বে হৈ-চৈ পড়ে যায়। এরপর থেকে আবিষ্কৃত হতে থাকে একেক সভ্যতা, পুরাকীর্তি।

ঐদিন বেলা তিনটায় আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাস গিয়ে থামে বড়উঠান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে। দেখলাম চারদিকে বেশ উঁচু টিলা সদৃশ জায়গা।

মাটির গঠন দেখতে অনেকটা পাহাড়পুরের মতন বলে জানান মোস্তাফা কামাল যাত্রা। স্কুল মাঠে নেমেই একটু এগিয়ে দেখলাম বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইটের টুকরা, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসের ভাঙা অংশ।

লাভলী ইয়াসমিন এসবের প্রাথমিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হলেন এখানকার দৃশ্যমান অবস্থার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে । প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এমন অসংখ্য নিদর্শন দেখলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, এখান থেকে অনেকেই চ্যাপ্টা ইট নিয়ে নিজেদের কাজে ব্যবহার করে। ইটগুলো কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহারে আবিষ্কৃত ইটের অনুরূপ।

ড. জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, এই অঞ্চলও ছিল বৌদ্ধ ইতিহাসের বিখ্যাত সেই পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। এই বিহার ও বিশ্ববিদ্যলয়ের আরো অংশ রয়েছে হাজীগাঁও, ঝিওরি, কৈনপুরা, খিলাগাঁও- এসব এলাকায়।

আরাকানের ইতিহাস, “রাজোয়াং” সূত্রে জানা যায়- ১৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মগধের চন্দ্রসূর্য নামক একজন রাজা সৈন্য-সেনা নিয়ে আদিম জড়োপাসক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত চট্টগ্রাম ও আরাকান অধিকার করেন। তাঁর সাথে আগত হিন্দু-বৌদ্ধ সেনারা এখানে ধর্ম প্রচার করেন।

ড. আহমদ হাসান দানী বলেন যে, রাজা ধর্মপালের (৭৭০-৮১০ খ্রি.) রাজত্বকালে চট্টগ্রাম পাল সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। এই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পালরাজারা বাংলায় প্রায় চারশত বছর শাসন করেন। তাঁদের শাসনকালে তাঁরা সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিভিন্ন প্রকারের বিহার নির্মাণ করেন।

ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁরা প্রায় ৫০টি বৃহৎ আকারের বিহার নির্মাণ করেন যা শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ধর্মচর্চার স্থান হিসেবে পরিচিত হয়। এমন একটি বিহার ছিলো পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় যা অষ্টম-নবম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওই সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্মচর্চা, সাহিত্য কাজে এমন উন্নতি লাভ করেছিল যে সুদূর জাভা (ইন্দোনেশিয়া) ও তিব্বত থেকে শিক্ষার্থী এখানে এসে জ্ঞানচর্চা করত। প্রাচীন এই বিহারটির পরিচিতি প্রথম পাওয়া যায় ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতী ঐতিহাসিক লামা তারানাথ রচিত বিখ্যাত “ভারতের বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস” গ্রন্থে। তাঁর মতে নালান্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হওয়ার পর এটিই ছিল বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান কেন্দ্র। উল্লেখ্য যে, আধুনিক চট্টগ্রাম শব্দের উৎপত্তি হয় ”চৈত্যগ্রাম” থেকে। চৈত্য শব্দের অর্থ বিহার, কিয়াং বা সর্বসাধারণের জ্ঞানচর্চা, পূজা ও প্রার্থনার স্থান। এ থেকে বুঝা যায়, বৌদ্ধরা চট্টগ্রামের প্রাচীন অধিবাসী।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁর “ইসলামাবাদ” গ্রন্থে লিখেছেন, “বৌদ্ধরাই এদেশের আদিম অধিবাসী। সুতরাং বুদ্ধের ধর্মই চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ধর্ম”।

তিব্বতী ভাষা বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত শরৎচন্দ্র দাস (১৮৪৯-১৯১৭) এর মতে “এই বিহারটি অষ্টম-নবম শতাব্দীতে তৈরি হয় এবং এই বিহারকে ঘিরেই মহাযানী তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশ ঘটে।” চুরাশি সিদ্ধাচার্যের অনেকেই এখানের পণ্ডিত ছিলেন। এঁরাই এখানে বস্‌্‌্‌্‌্‌্‌ে্‌্‌্‌্‌্‌চর্যাগীতি বা দোঁহা রচনা করেন যা বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।

তিব্বতীয় ঐতিহাসিক উড্ডনীয় বলেন- “চট্টগ্রামের যে জায়গার বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায় তা বড় উঠান ছাড়া অন্য এলাকার নয়।” এই বড় উঠানে পণ্ডিত বিহারের বহু সিদ্ধাচার্য থাকতেন বলে তাঁদের বেশ কয়েকটি তিব্বতীয় গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ জেলা গেজেট অনুসারে,“পটিয়া থানার বড় উঠানের নিকটবর্তী সাগর উপকূলে দেয়াং পাহাড়ে এই বিহারের অবস্থান।” (ইধহমষধফবংয উরংঃৎরপঃ এধুবঃঃবব, পঃম, ১৯৭৫, চধমব -৫৯)
চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মহাপণ্ডিত প্রজ্ঞাভদ্র (তিলোপাদ) ছিলেন এই বিহারের প্রধান অধ্যক্ষ। তিলোপা ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত প্রখ্যাত পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের গুরু।

১৯৫৬ সালে শ্রীলংকার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বৌদ্ধ সম্মেলন থেকে জানা যায়, গৌতম বুদ্ধের পরই অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞানকে চীনের মানুষ মহাজ্ঞানী মহাপ্রভুরূপে মান্য করে।
সবরিপা, লুইপা, লাড়পা, অবধুতপা, অমোঘনাথ, কুক্কুরীপা, মীনপা, ধর্মশ্রী, মৈন, জ্ঞানপা, বুদ্ধপা, অনঙ্গবজ্র প্রমুখ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক অথবা অধ্যাপক রূপে ছিলেন বলে জানা যায়। তিলোপাদ ছিলেন পটিয়া উপজেলার চক্রশালা গ্রামের জনৈক ব্রাহ্মণের পুত্র।

বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম হয় প্রজ্ঞাভদ্র। তাঁর সময়কালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রথম লিখিত রূপ লাভ করে। তাই পণ্ডিত বিহারকে বাংলা সাহিত্যের সূতিগাকার বলা হয় (অশোক বড়ুয়া-সুব্রত বড়ুয়া, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ১৯৯০)। চর্যাপদে যেসব উঁচা উঁচা পর্বত, তার উপর পর্ণকুটির, ডোম্বী, খরস্রোতা নদী, অরণ্যবাসী, ব্যাধ, শিকারি, ধীবর, নৌকা, সাঁকো ইত্যাদির কথা উল্লেখ আছে তা মূলত চট্টগ্রামের পরিবেশের চিত্র।

১৯২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বড় উঠানের পাঁচ মাইল দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত আনোয়ারা উপজেলার ঝিয়রী গ্রামের ‘সহর আলী বলি, বাড়ি তৈরি করার জন্য মাটি কাটাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে ৬৬টি ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি পান।

এই ৬৬ টি মূর্তির মধ্যে বর্তমানে ৫৯টি কলিকাতা জাদুঘরে, ৫টি আশুতোষ সংগ্রহালয়ে ও ২টি বোম্বের ভিক্টোরিয়া আর্লবাট সংগ্রহালয়ে আছে। মূর্তিগুলোর গঠনকৌশল পর্যবেক্ষণে বলা যায়, ‘ঝিয়রী ও নলান্দার বুদ্ধমূর্তিগুলোর নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।’ (অংড়শ. ক. ইযধঃঃধপযধৎুধ, ঔবধিৎর ইৎড়ুিব, ইঁফযধং-১৯৮৯)। বড় উঠানের বিশ্বমুড়া বিষম রাজার বাড়ির ধ্বংসস্তূপে মাটি খুঁড়ে ইট সংগ্রহকালে এখনো বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায় (আবদুল হক চৌং, চট্টগ্রামের ইতিহাস প্রসঙ্গ, ১ম খণ্ড, ১৯৮২, পৃ-১০৯)।

নবম শতাব্দীর হরিকেল রাজ্যের রাজা কান্তি দেবের তাম্র শাসনখানি এখানে আবিষ্কৃত হয়। এখানে আছে রাজা কান্তিদেবের দিঘি (যা দেওর দিঘি নামে পরিচিত) রামচন্দ্র দিঘি, মগভিটা ইত্যাদি ঐতিহাসিক স্থান।

১২৭৯ সালে ত্রিপুরারাজ রত্নফা চট্টগ্রাম অধিকার করেন এবং তাঁর রাজধানী ছিল “দেবগ্রাম” বর্তমানে “দেয়াং” নামে অভিহিত। বিখ্যাত পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় এই গ্রামেই অবস্থিত (সুব্রত বড়ুয়া-বৌদ্ধ সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ, চট্টগ্রাম)। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে বুজুর্গ উমেদ খাঁর আক্রমণে এই বিহার ধ্বংস হয়ে যায়।

এই পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ধর্ম, দর্শন, ভাস্কর্য, শিল্পকলা, স্থাপত্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার প্রধান প্রাণকেন্দ্র। এছাড়া যোগশাস্ত্র, যাদুবিদ্যা, ব্যাকরণ, জ্যোতিষশাস্ত্র, রসায়ন শাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ধাতুবিদ্যা ও ব্যবহারিক শাস্ত্র সহ বিভিন্ন সাহিত্য শিক্ষা দেয়া হত।

আনন্দের সংবাদ এই যে, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত “পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়” আনোয়ারা দেয়াং পাহাড়ে পুনরায় “আন্তর্জাতিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়” নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শিগগিরই।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিনবোধি ভিক্ষু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাচীন চৈত্যভূমি খ্যাত আনোয়ারা উপজেলা থেকে ২০ কি.মি. দূরে জ্ঞানতীর্থ পণ্ডিত বিহার পীঠভূমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আইনের খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত বৈঠকে পেশ করে। সেখানে তা গৃহিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি একটি কমিটি গঠন করে এবং দীর্ঘদিন তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আপাতত পঞ্চাশ একর জমি নির্দিষ্টকরণ, আইনের খসড়া অনুমোদন এবং বৌদ্ধদেশ থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকার বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কারিকুলাম সংগ্রহ সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এবং সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং প্রত্নসম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, এম.পি’র সভাকক্ষে এক সভা ১৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ সকাল ১১.০০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রস্তাবিত সম্ভাব্য এলাকাটিকে প্রত্ননিদর্শন ঘোষণা, সংরক্ষণ এবং প্রত্নসম্পদ উদ্ধার বিষয়ে আলোচনা হয়।

গবেষকদের সহায়তায় নির্দিষ্ট স্থানে পরীক্ষামূলক খনন কাজ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্ভাব্য প্রত্নসম্পদ সমৃদ্ধ এলাকার ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং আনোয়ারা উপজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য তথা ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরুদ্ধারে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয় এবং জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পাঠ্য আহাম্মদ কবীর রচিত “পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়” নামক প্রত্ন নাটকটি উক্ত এলাকায় প্রদর্শনের অনুরোধও জ্ঞাপন করা হয়।

মহাকালের বিবর্তনধারায় হারিয়ে যাওয়া এই বিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলে শুধু বৌদ্ধ সভ্যতা নয়, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক অজানা দিক উন্মোচিত হবে।

সেই সাথে ঐ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে।

এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, শিকলবাহা, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, কক্স্ববাজার অঞ্চল সহ সারাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শিক্ষার্থীরা পাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে থেকে প্রাচীন ঐতিহ্যের কোলে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের এক অনিন্দ্য সুযোগ। একই সাথে বহির্বিশ্বের বৌদ্ধদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সৌভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।

ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে অনেক ধর্মযাজক ও পর্যটকের আগমন ঘটবে দেয়াং এর প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতা ও পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশ পাবে আরেকটি ঐতিহ্য ও পর্যটন নগরী।

তথ্য সূত্র :
১) চট্টগ্রাম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পণ্ডিত বিহার, ড. জিনবোধি ভিক্ষু।
২) চট্টগ্রামের ইতিহাস ও পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়, জামাল উদ্দিন।
৩) পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়, উইকিপিডিয়া।
৪) সহায়তায়ঃ আহাম্মদ কবীর। (নাট্যকার ও গবেষণা কর্মী)।

লেখক : শিক্ষাথী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বিতর্কিত না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : আদালতে অসংখ্য মামলা বিচারের অপেক্ষায় থাকলেও শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মামলা হওয়ায় সংসদে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন...

ঢাবি’তে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের ২ হোতা ও ৭ ছাত্র গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is