ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৯ সফর ১৪৩৯

পর্তুগালের সৈকতে ডাইনো যুগের হাঙর

প্রকাশিত: ০২:৫৪ , ১৪ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০২:৫৪ , ১৪ নভেম্বর ২০১৭

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: সম্প্রতি এমন বিরল প্রজাতির হাঙরের দেখা মিললো পর্তুগালের আলগার্ভের সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায়। প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা এই হাঙরের খোঁজ মেলায় বিজ্ঞান জগতে শোরগোল পড়ে গেছে। বাণিজ্যের লোভে বেধড়ক মাছ ধরা বন্ধ করার অভিযানে নেমে হালে পর্তুগালে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সৈকতে ডাইনোসর যুগের সেই হাঙরের হদিস পেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর গবেষকরা।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ‘ফ্রিলড শার্ক’দের বলে ‘কিয়ামাইডোসেলাকাস অ্যাঙগুইনাস’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রজাতির হাঙররাই পৃথিবীর প্রাচীনতম ও বিরলতম প্রাণীদের অন্যতম। এদের মাথাটা ঠিক সাপের মতো। দাঁতের সংখ্যা ৩০০। একেবারে অস্ত্রোপচারের নিডলের মতো ধারালো সেই দাঁতগুলো সাজানো রয়েছে ২৫টি সারিতে। এদের কানকোগুলি ব্লাডারের মতো ফোলানো। লম্বায় এরা ছয় ফুটেরও বেশি হতে পারে।

মূলত জাপান, নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ায় মহাসাগরের অনেক গভীরেই এদের বসবাস। কোনও ভাবে তা চলে এসেছিল পর্তুগালে। আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সৈকতে। তবে কীভাবেই বা ডাইনোসর যুগের এই প্রাণীরা এত দিন ধরে টিঁকে রয়েছে পৃথিবীর বুকে, তার কারণ এখনও জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

তার সঙ্গী ডাইনোসররা কবেই হারিয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। রয়ে গিয়েছে সেই রাক্ষুসে হাঙররা। কীভাবে যেন শুধু তাদেরই ফেলে রেখে গিয়েছিল টির‌্যানোসরাস রেক্স আর ট্রাইসেরাটপস প্রজাতির ডাইনোসররা। সেই কবে, আট কোটি বছরেরও বেশি আগে। তার পর কত কোটি কোটি বছর কেটে গেছে। অতলান্ত মহাসাগরের তলায় থাকা সেই রাক্ষুসে হাঙরের চুলও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি! আট কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরে সাড়ে ৫ হাজার ফুট গভীরতায় সাঁতরে বেরিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রাচীনকালের ফ্রিল্ড হাঙরের সঙ্গে আজকের এই হাঙরের কোনও তফাৎ নেই। শরীরে বাইরে এবং ভিতরের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এই প্রাণী সমুদ্রের এত গভীরে বসবাস করে যে, উপযুক্ত পুষ্টির অভাবে এদের কোনও বিবর্তনও ঘটেনি। এর আগে ২০০৭-এ জাপানি ফিশারম্যান এমনই হাঙরের খোঁজ পান। জাপানি গবেষকদের মতে, ৬১ শতাংশ সিফালোপডস জাতীয় (অক্টোপাস, স্কুয়িডস) খাদ্য খেয়ে থাকে ফ্রিল্ড হাঙর।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is