ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

ঘূর্ণিঝড় সিডরের এক দশক

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় নেই যথেষ্ট প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ০৮:৫৯ , ১৫ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৮:৫৯ , ১৫ নভেম্বর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন : আজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর। দশ বছর আগের এই দিনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হেনেছিল দেশের উপকূলীয় এলাকায়। সরকারি হিসেবে ওই দুর্যোগে উপকুলের ৫ জেলায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। আহত হয় কয়েক লাখ মানুষ। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল মানুষ, গবাদি-পশু ও ঘরবাড়ি। বিলীন হয়েছিল উপকূল এলাকার বনভূমি। ঘূর্ণিঝড়ের এমন ভয়াবহতার পরও গত এক দশকে কিছু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত ছাড়া জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

২০০৭ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানলে পটুয়াখালীতে মারা যায় ৬৭৭ জন মানুষ। আহত হয় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষ। বিধ্বস্ত হয় ৫৫ হাজার ঘর-বাড়িসহ ৩৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২৫০ হেক্টর বনাঞ্চল বিলীন হয়। বিধ্বস্ত হয় ১ হাজার ২০৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

এখনও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকা অরক্ষিত। তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও এখনও আতঙ্ক কাটেনি উপকূলবাসীর।

তবে সুরক্ষিত উপকূল তৈরিতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
 
সিডরে বরগুনায় সরকারি হিসেবে ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। গৃহহীন হয় কয়েক লাখ পবিরার। সরকারি ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় ২৮টি আবাসন ও ১৮২টি ব্যারাক হাউজ নির্মাণ করা হলেও ভোগান্তি কমেনি মানুষের।

পিরোজপুরে সিডরের আঘাতে ৭টি উপজেলায় ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ১০ বছরেও এগুলো পুনঃনির্মাণ করা হয়নি।

সিডরের জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জে নয় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অথচ দশ বছরে শরণখোলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ মাত্র ৩০ ভাগ শেষ হয়েছে।

এছাড়া সিডরের আঘাতে ভোলা সদরসহ চরফ্যাশন, মনপুরা ও বোরহানউদ্দিনে ৪২ জন মারা যায়। আহত হয় সহস্রাধিক মানুষ। ৫২ হাজার ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোলায় প্রয়োজনীয় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মিত হয়নি এখনো।

তবে, ভয়াবহ সেই ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বজনহারা মানুষেরা। সেদিনের কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠে উপকূলবাসী।

 

এই সম্পর্কিত আরো খবর

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। এরই মধ্যে...

গাইবান্ধায় ন্যাশনাল সার্ভিসের নিয়োগ

অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন, শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাঘাটায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের ঘটনায় ১০ জনপ্রতিনিধিসহ দেড় শতাধিক চাকুরী...

মানিকগঞ্জে পদ্মায় অসময়ের ভাঙ্গন

নদীগর্ভে বিলীন বসত বাড়ি-ফসলি জমি, দিশেহারা হাজারো মানুষ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : অসময়ে পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। ভয়াবহ ভাঙ্গনে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is