ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-19

, ৮ মহাররম ১৪৪০

গিরিশচন্দ্র শুধু অনুবাদই নয়, সমাজ পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখেন

প্রকাশিত: ০৫:১৭ , ২৮ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৫:১৭ , ২৮ নভেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাই গিরিশচন্দ্র সেন শুধু পবিত্র  কোরআন এবং হাদিসের অনুবাদই করেননি, তিনি সমাজ পরিবর্তনেও  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ‘ভাই গিরিশচন্দ্র সেন: ক্ষণজন্মা পুরষের পথ চলা’ শীর্ষক স্মৃতিবক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিবক্তৃতা প্রদান করেন  ড. মোহাম্মদ আলী খান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারজ্জামান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  প্রাক্তন সিনিয়র সচিব ও বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

স্বাগত ভাষণে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, এদেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবন এবং কাজ সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে যাতে তাঁরা একটি গর্বিতজাতির অংশ হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করতে পারে । তিনি আরও বলেন, জাদুঘর তার ইনট্রানজিবল হেরিটেজ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ।

অনুষ্ঠানের মূলবক্তা বিশিষ্ট গবেষক . মোহাম্মদ আলী খান ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের জন্ম, বেড়ে উঠা, লেখা পড়া এবং লেখা-লেখির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন সাদামাটা অথচ একজন বর্ণিল মানুষ ।  ১৮৩৪ সালে যার জন্ম বতমান নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে । তার পিতা মাধব রাম সেন ( রায় ) এবং মাতা জয়কালী দেবী । আট বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন ।  

. মোহাম্মদ আলী খান বলেন,৭৪ বছরের জীবনে পবিত্র  কোরআন এবং হাদিসের অনুবাদই শুধু করেননি ভাই গিরিশচন্দ্র সেন, অসংখ্য গ্রন্থ অনুবাদও করেছেনতিনি। অনুবাদক হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় করেছেন । ১৮৭৬ সালে আরবি ভাষা শেখার জন্য  তিনি লখনো যান । মৌলভী এহসান আলীর অধীনে আরবী ও আরবী ব্যাকরণ ও দিওয়ান-ই-হাফিজ শেখেন । পরবর্তীতে ঢাকা ফিরে নলগোলার মৌলভী আলীম উদ্দীন সাহেবের কাছে আরবী সাহিত্য ও আরবী ইতিহাস চর্চা করেন । ১৮৮২ থেকে ১৮৮৬ এই পাঁচ বছর দীর্ঘ পরিশ্রমের পর তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ বাংলায় অনুবাদে সক্ষম হন । এজন্য তিনি আজ একজন পণ্ডিত হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত ।  

প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারজ্জামান বলেন, ভারত উপমহাদেশে যে কজন চিন্তক নিজ কাজের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন তাদের মধ্যে অন্যতম । তিনি শুধু একজন অনুবাদক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেননি, সমাজ পরিবর্তনেও  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ।

সভাপতির ভাষণে বিশিষ্ট চিন্তক  অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ভাই গিরিশচন্দ্র সনের মত কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ ধমনিরপেক্ষ প্রগতিশীল রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন । এজন্য ওই সময়কে বাংলার রেনেসাঁ বললেও ভুল হবে না ।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

দুদকের তলবে হাজির হননি মোরশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুদকের তলবে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি সিনিয়র নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী...

তাজিয়া মিছিলে ধাতব অস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ নিষিদ্ধ: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, টিফিনকারি ও ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করেছেন ঢাকা...

ডাকসু নির্বাচন: আদালত অবমাননার মামলা কার্যতালিকা থেকে বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের...

নির্বাচনে সবপক্ষকে অহিংস আচরণের আহ্বান বার্নিকাটের

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনের আগে, চলাকালে ও পরে সব পক্ষকে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is