ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
শিরোনামঃ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ  প্রথম প্রহরে রায়েরবাজার বধ্যভূমি মোমবাতি প্রজ্জলন দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের বিপুল অর্থ, তদন্ত করবে দুদক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবিতে সোচ্চার হোন থার্টিফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষা অধিদপ্তর-বোর্ড ও বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়: দুদক বিএনপি নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে না পল্লী বিদ্যুতে অতিরিক্ত ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগ দেওয়ায় মানববন্ধন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে হাইকোর্টে লক্ষ্মীপুরের ইউএনওর ক্ষমা প্রার্থনা খাগড়াছড়িতে ৬ সশস্ত্র যুবক আটক চট্টগ্রামের সেবা সমূহ ডিজিটালাইজড হওয়ার তাগিদ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ আকায়েদের বিরুদ্ধে মার্কিন পুলিশের তিন অভিযোগ আশুগঞ্জে আমন চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ গাইবান্ধায় যুবলীগ নেতার ও বরগুনায় জেলের মরদেহ উদ্ধার ঢামেক হাসপাতাল দিচ্ছে ডিজিটাল ডেথ সার্টিফিকেট

পোপ আসছেন আজ

প্রকাশিত: ০১:১৭ , ৩০ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৩:২৭ , ৩০ নভেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিন দিনের সফর শেষে ২ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে যাবেন। ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগ মুহূর্তে পোপের আগমনকে বড়দিনের উপহার হিসেবেই দেখছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়। পোপ ফ্রান্সিস সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসবেন বলেই বিশ্বাস তাদের। পোপের এই আগমন উচ্ছ্বাসিত করছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে।

পোপ ফ্রান্সিসের ঢাকা সফরের সমন্বয়কারী ও ঢাকা মহাধর্ম প্রদেশের সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গোমেজ বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সংখ্যা বেশি- এমন দেশও আছে। কিন্তু সেসব দেশে না গিয়ে পোপ বাংলাদেশে আসছেন। পোপ হলেন ঈশ্বরের প্রতিনিধি। তার আগমনে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে উৎসবমুখর। সবাই প্রার্থনারত।’

বাংলাদেশ বিশপ সম্মিলনীর সহসভাপতি ও রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, ‘এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে পোপের আগমন ঘটছে। তিনি আর্চ বিশপ হাউস, তেজগাঁও কবরস্থান, পুরনো গির্জা, তেজগাঁও মাদার তেরেসা ভবন পরিদর্শন করবেন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা ও যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রশান্তি লাভ করবে।’

বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপ সম্মিলনীর প্রেসিডেন্ট কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি. রোজারিও বলেন, ‘পূণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস শান্তির বার্তা নিয়ে সফরে আসছেন। ক্যাথলিক চার্চ এই সফরের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন “সম্প্রীতি ও শান্তি”। বাংলাদেশে পোপ মহোদয়ের আগমনকে আমরা দেখছি, বাংলাদেশের জনগণের অন্তরে তীর্থযাত্রা রূপে। পোপ এদেশের জনগণের জীবন-বাস্তবতার আলোকে অনেক সুন্দর ও মঙ্গলজনক দিক তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দেশের যুব ও ছাত্রসমাজকে নতুন স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করবেন। মানবতা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য পরামর্শ দেবেন, উৎসাহিত করবেন, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ঘোষণা করবেন।’

খ্রিস্টান সম্প্রদায় পোপের আগমনকে উপহার হিসেবে পেলেও পোপকে দিতে পারছেন না কোনও উপহার। এ প্রসঙ্গে পোপ ফ্রান্সিসের সফরের সমন্বয়কারী ও ঢাকা মহাধর্ম প্রদেশের সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গোমেজ বলেন, ‘তিনি আমাদের জন্য উপহার হয়ে আসছেন। একই সঙ্গে উপহার বিনিময়ের প্রচলন থাকলেও পোপকে উপহার দেয়ার সুযোগ থাকছে না। আগে থেকেই ভাটিকান এ বিষয়ে আমাদের নিরুৎসাহিত করেছে। পোপ আসলে জাগতিক কোনও কিছু প্রত্যাশা করেন না। তবে যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় সফর, সেক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্রপতি কোনও উপহার দিতে চাইলে সেটি হয়তো তিনি নিতেও পারেন।’

শুধু উপহারই নয়, কোনও ভোজ সভায় অংশ নেবেন না পোপ। পোপ ফ্রান্সিস অনেক সাধারণ জীবন-যাপন করেন উল্লেখ করে বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গোমেজ বলেন, ‘পোপের সফর সূচিতে কোনও ভোজ সভা নেই। এমনকি তিনি আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গেও কোনও ভোজ সভায় অংশ নেবেন না। তার খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পালন করবে ঢাকায় ভ্যাটিকান দূতাবাস। তিনি আসলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খুবই পরিমিত খাবার খান।’

বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চাটার্ড ফ্লাইটে বেলা তিনটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন পোপ ফ্রান্সিস। এরপর বেলা চারটায় সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। বেলা চারটা ৪৫ মিনিটের দিকে ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন পোপ। একই দিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বঙ্গভবনেই বাংলাদেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ, কূটনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিত হবেন ও বক্তব্য রাখবেন।

১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা ও যাজকদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে বক্তব্যও রাখবেন তিনি। দুপুর তিনটা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকায় ভ্যাটিকান দূতাবাসে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে পোপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। বিকাল চারটায় ক্যাথিড্রাল পরির্দশন করবেন তিনি। সোয়া চারটার দিকে প্রবীণ যাজক ভবনে বাংলাদেশের বিশপদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। বিকাল পাঁচটায় কাকরাইলের আর্চ বিপশ হাউসের মাঠে শান্তির জন্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃমাণ্ডলিক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন পোপ।

২ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে মাদার তেরেসা ভবন পরির্দশন করবেন পোপ ফ্রান্সিস। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তেজগাঁও গির্জায় যাজক, ব্রাদার-সিস্টার, সেমিনারিয়ান ও নবীশদের সমাবেশে বক্তব্য রাখবে। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কবরস্থান ও পুরনো গির্জা পরিদর্শন করবেন। একই দিন বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর নটরডেম কলেজে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এদিনই বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি চাটার্ড ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোপ আসছেন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। তিন দিনের সফর শেষে ২ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ...

নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের উদ্বোধন কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ারে ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে...

ঢাকায় ফুলের সমারোহ, যেন রঙের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীষ্মের তাপদাহে দগ্ধ, ইট-কংক্রিটের কঠিন রাজধানী ঢাকায় নবপ্রাণের সঞ্চার করেছে বর্ণিল সব ফুলের সমারোহ। লাল-নীল-হলুদ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is