ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫

2018-10-16

, ৫ সফর ১৪৪০

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা মহিউদ্দিন চৌধুরী

প্রকাশিত: ০৮:৩০ , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০৮:৩০ , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনকল্যাণের ব্রত ধারণ করেই আজীবন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ছাত্র ও শ্রমিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে একসময় পা রাখেন রাজনীতির বৃহত্তর আঙিনায়। মুক্তিযুদ্ধে ছিলো তাঁর সাহসী ভূমিকা। পঁচাত্তরে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পর অনেকে যখন আত্মগোপনে, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মহিউদ্দিন চৌধুরী তখনও রাজপথে সরব থেকেছেন। আওয়ামী লীগের এই তুখোড় নেতা তিনবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হন। সবশেষ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তবে নানা অভিধায় সিক্ত এই মানুষটির মূল পরিচয়, তিনি গণমানুষের নেতা।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আজীবন গণমানুষের রাজনীতি করে যাওয়া এক মহীরূহ। কারও প্রিয় নেতা, কারও প্রিয় অভিভাবক। আবার কারও কাছে তিনি চট্টলবীর।

তবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শেষ পরিচয়, তিনি জনমানুষের নেতা। সাধারণের প্রিয়, সকলের আশ্রয়। আর চট্টগ্রামবাসীর কাছে তিনি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সারাজীবন রাজনীতি করে যাওয়া মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৪ সালে ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় জন্মগ্রহণ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজে অধ্যয়ন শেষে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মানুষের সেবায় সারাজীবন কাজ করে যাওয়া মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। জীবনের একটি বড় সময় কেটেছে শ্রমিক আন্দোলনে। পরবর্তীতে নিজেকে দাঁড় করান রাজনীতির বৃহত্তর আঙিনায়। সিক্ত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহ ও ভালোবাসায়।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন আর মুক্তির সংগ্রামে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অকুতোভয় সৈনিক। কারাগার-নির্যাতন সয়েও নিজে যুদ্ধ করেছেন, সংগঠিত করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের।

পঁচাত্তরে জাতির পিতার হত্যার পর অসীম সাহসে রাজপথ কাঁপিয়ে দেন মহিউদ্দিন। জেলজুলুম সহ্য করেই লড়ে গেছেন। কয়েকবছর ভারতে নির্বাসনে থাকার পর আবারও সরব হন রাজনীতিতে।

চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে অবিসংবাদিত নাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৯৪ সালে। সেবা আর আস্থার প্রতিদান হিসেবে টানা তিনবার তাঁকে মেয়র নির্বাচিত করেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। উন্নয়ন ও  সংস্কারের ছোঁয়ায় বন্দরনগরীকে বদলে দেয়া এই মানুষটি চট্টগ্রামের প্রশ্নে ছিলেন আপোসহীন। আমৃত্যু ছিলেন চট্টলবাসীর পাশেই।

সবশেষ দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে। মানুষের দুঃসময়ে আর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কন্ঠ ছিল সোচ্চার। গণমানুষের স্বার্থে নিজ দলের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাই দলমত নির্বিশেষে সবার আস্থা আর শ্রদ্ধার মানুষ হয়ে ওঠেছিলেন।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শেষ হলো বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর একটি অধ্যায়ের। বহুমাত্রিক এই ব্যক্তিত্বকে বৈশাখী টেলিভিশন স্মরণ করছে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায়। তাঁর শূন্যতা অনুভুত হবে সময়ের পরতে পরতে, সর্বসাধারণের হৃদয়ে।

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is