ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১২ বৈশাখ ১৪২৫

2018-04-24

, ৮ শাবান ১৪৩৯

সরকারের খাদ্যশস্যের তালিকায় ক্ষতিকর তামাক

তামাক পণ্য ব্যবহারে প্রতিবছর ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৭:৫৭ , ০৪ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০৫:৫৫ , ০৪ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: তামাক পণ্য ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতি বছর মারা যান ৯৫ হাজার মানুষ, আর নানা রোগে আক্রান্ত হন ১২ লাখ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে-গ্যাটস্ এর গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাক এখনও রয়েছে সরকারের খাদ্যশস্যের তালিকায়। অন্যদিকে, নতুন নতুন জমি তামাক চাষের আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যমান জমিতে উচ্চফলনশীল তামাক চাষ করছে কোম্পানিগুলো। 

বিশ্বে প্রতি বছর ৬০ লাখ মানুষ মারা যায় তামাক পণ্য ব্যবহার জনিত রোগ-ব্যাধির কারণে। বাংলাদেশে এ সংখ্যা ৯৫ হাজার। পক্ষান্তরে, তামাক কোম্পানিগুলো বছরে রাজস্ব দেয় ১০ হাজার কোটি টাকা। অথচ তামাকজনিত অসুস্থতায় স্বাস্থ্যখাতে বছরে ব্যয় হয় ১১ হাজার কোটি টাকা। রাজস্বের নামে তামাক কোম্পানি তামাক চাষ ও তামাক পণ্য উৎপাদন করে দেশের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করেন তামাকবিরোধী আন্দোলনকারীরা। 

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এর চাষ নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ খুব একটা নেই বললেই চলে। কাগজে-কলমে বা মুখে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। 

দেশে কি পরিমাণ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তামাক কোম্পানির নিবন্ধনকৃত কার্ডধারী চাষীদের জমির হিসেবই শুধু রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকায়। সেই হিসেব অনুযায়ি গত অর্থবছরে ৪৯ হাজার ২৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে তামাকের। বরেন্দ্র এলাকার বিস্তীর্ণ জমিও তামাকের দখলে। এর বাইরেও চলছে তামাকের আবাদ।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগের ৫ জেলা, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে তামাক চাষের জমি ৫ বছরে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তামাকবিরোধী আন্দোলনের সংগঠকরা বলছে, আপাতদৃষ্টে চাষের জমি কমছে বলে মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে হলে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।   

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে ৫৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন তামাক। গত অর্থবছরে ৪৯ হাজার ২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন তামাক। অথচ একই জমিতে ধান চাষে পাওয়া যেত দ্বিগুণেরও বেশি ফসল। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

রূপচর্চায় তরমুজের ব্যবহার 

ডেস্ক প্রতিবেদন: বৈশাখের কাঠফাটা রোদে বাইরে বেরোলে তৃষ্ণায় যেন প্রাণটা ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। এই সময় প্রাণ জুড়াতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। তবে...

বিশেষ খাবারে বুদ্ধি বাড়ে

ডেস্ক প্রতিবেদন: আপনি চাইলে হয়ে উঠতে পারেন বুদ্ধিমান। তার জন্য নিয়মিত বই পড়া, সমসাময়িক বিষয়ে খোঁজখবর রাখা এবং মেধা চর্চা দরকার। কিন্তু...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is