ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫

2018-06-20

, ৬ শাউয়াল ১৪৩৯
শিরোনামঃ

সবটা জেনে মানুষ গ্রহণ করেছে বলেই সম্মানিত হয়েছি: সানি

প্রকাশিত: ০১:১৩ , ১১ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০১:১৩ , ১১ জানুয়ারী ২০১৮

বিনোদন ডেস্ক: ১২ জানুয়ারি ডিসকভারির নতুন চ্যানেল জিৎ’এ শুরু হচ্ছে সানি লিওনের নতুন শো, ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড উইথ সানি লিওন’। মুম্বাইয়ে এক বৈঠক শেষে সানি বসেছিলেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এবেলা’র সঙ্গে আড্ডায়।

ওই আড্ডায় একজন সাংবাদিক সানি লিওনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনার নামের সঙ্গে সানি পাজি’র নামের মিল রয়েছে বলেই কি অ্যাডভেঞ্চার শো করার সাহস পেলেন’? ‘মেরে পাস ঢাই কিলো কা হাত হ্যায়,’ জবাব দিলেন সানি লিওন।

প্রোমো দেখে তো মনে হচ্ছে, বেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছেন...।

বেশ মজাতেই কাজটা করেছি। আর একটা-দু’টো এপিসোডও তো নয়, অনেকগুলো এপিসোড রয়েছে শো’এ। সেট’ও অনেকগুলো। বেয়ার গ্রিলসের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ বলে কথা। তবে আমি আমার মতো করে অ্যাডভেঞ্চারে সামিল হয়েছি।

শো না হয় হল, নিজের জীবনে কতটা অ্যাডভেঞ্চারাস আপনি?

(একটু ভেবে) আরে, আমি প্লেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছি! আর কী চাই! তবে সেবারও মজাই হয়েছিল। এ বছর জিম করবেটে শ্যুটিং করেছি একটা শো’য়ের। সেটাও কিন্তু কম রোমাঞ্চকর ছিল না! প্রতিদিন যুদ্ধ! কখনও এই পোকা, কখনও সেই পোকার সঙ্গে! ব্যাটল উইথ বাগস! অ্যায়সে স্মল কিড়ে। (দুই আঙুলে আকারটা বুঝিয়ে দিয়ে) যতটা ভাবছেন, ততটাও ছোট নয়!  বেশ বড়! এরপরও আছে...!

আরও!

(হেসে) হ্যাঁ, আছে তো! প্রায় প্রত্যেকদিন রাতে বাথরুমে গিয়ে দেখতাম, খান দু’য়েক টিকটিকি ঘোরাফেরা করছে। চেঁচিয়ে ফিরে আসতাম। তারপর লোকজন সেগুলো তাড়াতে গিয়ে দেখত, পুরো বেপাত্তা (জোরে হাসি)!

জঙ্গলে সারভাইভ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ...।

তা তো বটেই! আমাদের তো ছোট থেকে সারভাইভ্যাল স্কিল শিখিয়ে দেওয়া হয় না। কাজেই অজানা জায়গায় গিয়ে সারভাইভ করা আমাদের পক্ষে মুশকিল হয়। তখন আমাদের ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল আমরা জানি না। একটা সামান্য ভুলের জন্য মৃত্যুও হতে পারে।
 
ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামলান?

টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, ফেসবুক ঠিকমতো ট্যাকল করতে পারলেই চ্যালেঞ্জে তুমি জিতে গেলে! (জোরে হেসে) ওটাই তো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!  প্রত্যেকটা দিনই তো আলাদা রকমের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। সামটাইমস অ্যামেজিং থিংগস হ্যাপেন। সামটাইমস ডোন’ট। কিন্তু সবকিছুর সঙ্গেই তোমাকে নিজের মতো করে লড়তে হবে।

আপনার তো সোশ্যাল মিডিয়ার এত ফলোয়ার। নিজে কতটা সময় কাটান ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামে?

সেটা ডিপেন্ড করছে। এই কয়েকদিন আগেই কেপ টাউনে শ্যুটিং করছিলাম। প্রত্যেকদিনই কাজ পড়ে যাচ্ছিল। তখন একদমই সময় পাইনি কোনও রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকার। তবে চেষ্টা করি, দিনের সামান্যতম সময় হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটানোর। এই যখন সাক্ষাৎকারের পর গাড়িতে বাড়ি ফিরব, বোর হয়ে যাব তো যেতে যেতে। তখন কী করব আর বলুন! দেশে এবং সারা পৃথিবীতে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা দেখে নাও তখন (হাসি)।
 
আপনি রিয়্যালিটি শো দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। সেখানে ফিরতে চান না?

এটাও নির্ভর করছে অনেক কিছুর উপর। আসলে রিয়্যালিটি শো সিচুয়েশন অনুযায়ী তৈরি করা হয়। সেগুলো সত্যি নয়। তাই ওই শো’এ যাওয়ার খুব একটা ইচ্ছে যে আছে, তা নয়। শো’গুলো ইমোশনালি অনেকটা প্রভাব ফেলে প্রতিযোগীদের উপর।

মাতৃত্ব কেমন উপভোগ করছেন?

নিশা (সানির দত্তক-কন্যা) এখন কী করছে জানতে চান? (হাতঘড়িটা দেখে) দাঁড়ান বলে দিচ্ছি। নির্ঘাত ঘুমোচ্ছে। ইট’স অলমোস্ট দ্যাট টাইম। শি ইজ গ্রেট। ও খুব ভাল আছে আমাদের কাছে। স্কুলে যায়। যদি ওর সঙ্গে দেখা করেন, বুঝতে পারবেন না ও কোথা থেকে এসেছে। ও কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। শি ইজ দ্য হ্যাপিয়েস্ট চাইল্ড ইউ উড এভার মিট (হাসি)। এখানে যদি ও এখন থাকত, আপনাকে ব্যস্ত করে তুলত। ওর সবাইকে এনটারটেন করার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। দেখেই বলবেন, ‘ওহ! সো কিউট’!

বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে ফেললেন এ দেশে। অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আপনাকে। সেগুলো কাটিয়েও উঠেছেন...।

আমার কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যদি ফলো করে থাকেন, তাহলে তার কিছুটা আন্দাজ পেয়ে যাবেন নিশ্চয়ই। পজিটিভ থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আই ফিল ব্লেসড। এত কাজ পাচ্ছি। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও কাজের মধ্যে আছি। দিনের শেষে এগুলোই ম্যাটার করে। তুমি কাজের মধ্যে আছো, তুমি সুখী, তোমার পরিবার নিশ্চিন্ত। এগুলো ঠিক থাকলে যে কোনও সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা ঠিকই বার করে নিতে পারি আমরা। লোকে তোমার সম্পর্কে কী মনে করল, তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনও মানে নেই। এটা করলে তো সেই লোকগুলোকে জিতিয়ে দেওয়া হয়, যারা তোমাকে কষ্ট দিতে চায়। আমি সেটা কেন হতে দেব বলুন তো?

এ দেশের মানুষ আপনাকে এভাবে গ্রহণ করবেন ভেবেছিলেন কখনও?

(উত্তেজিত) এই জায়গাটা অর্জন করতে পেরেছি ওঁদের জন্যই। ওঁরাই তো আমাকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন। ওই একটা কারণেই আমার টিম, আমার কোম্পানি কাজ করে চলেছে। আমি কে, সেটা জেনেও যদি এত মানুষ আমাকে গ্রহণ না করতেন, আমার ভুলগুলো সত্ত্বেও যদি তাঁরা আমাকে মেনে না নিতেন, যে সম্মানটা আমি অর্জন করতে পেরেছি তা কোনওদিন পারতাম না। মিডিয়া আমাকে বার বার নীচে নামানোর চেষ্টা করেছে, একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ আমাকে ছোট করার চেষ্টা করেছে। আমার ফ্যানরা আমাকে সাপোর্ট করেছেন বলেই না চলে যেতে পারিনি। নইলে তো কবেই ব্যাগ গুছিয়ে ফিরে যাওয়া উচিত ছিল।

কী ধরনের কাজ আপনি করতে চান ভবিষ্যতে?

(হাসি) আমি নিজেকে এনটারটেনার মনে করি। প্রতিদিন কাজ করে যেতে পারলেই আমি খুশি।

প্রায়োরিটি জিজ্ঞাস করা হলে কাকে এগিয়ে রাখবেন? মেয়ে, স্বামী, না কাজ?

সব সময় প্রায়োরিটির কী দরকার বলুন তো? একটার সঙ্গে আরেকটা নিয়েই বরং চলি না। এভরিথিং ইজ আ প্রায়োরিটি।

নিউ ইয়ারে বেঙ্গালুরুতে আপনার পারফর্ম করা নিয়ে কিছু মানুষ যে আচরণ করল, তাতে আপনার খারাপ লাগেনি?

দেখুন, কেউ আমার ওখানে যাওয়ায় আঘাত পান সেটা চাইনি। প্রায়োরিটির কথা বলছিলেন না? মানুষের নিরাপদ থাকাটা বরং আমার কাছে প্রায়োরিটি বলতে পারেন।

এই সমস্ত ঘটনা ঘটলে কখনও মনে হয় না, সব ছেড়েছুড়ে চলে যাই?

হয় তো! মনে হয়, যদি পিৎজা খাওয়াটা ছেড়ে দিতে পারতাম (জোরে হাসি)

এই বিভাগের আরো খবর

বিয়ে করলেন ডিপজলের মেয়ে

বিনোদন ডেস্ক: বিয়ে করলেন মনোয়ার হোসেন ডিপজলেরে মেয়ে ওলিজা মনোয়ার। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের লেক শোর হোটেলে ডিপজলের মেয়ে ওলিজা মনোয়ারের...

অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

স্পোর্টস ডেক্স: রাশিয়া বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে অনুশীলনে ফিরেছেন নেইমার। গতকাল বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই ফরোয়ার্ড...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is