ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-21

, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ব্যাংক ঋণ, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার

দক্ষ কারিগরের অভাবে শতরঞ্জির উৎপাদন ব্যাহত

প্রকাশিত: ১২:৪২ , ১২ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০৪:২৫ , ১২ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় বিলুপ্তির পথে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জির ব্যবহার বিগত এক দশকে বেড়েছে অনেক । দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে বিদেশে। এর আধুনিকায়নে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা। বেশ আকর্ষণীয় উপহার হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। ক্রেতাদের ভাষ্যে- ঐতিহ্যের পাশাপাশি সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহার উপযোগী বলে এর কদর বাড়ছে।

শতরঞ্জির বাজার বড় হয়েছে দেশে। অনেক দেশে বাজার তৈরি হয়েছে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায়। তাই হাতে  তৈরি তাঁতের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে আধুনিক যন্ত্র, যা শতরঞ্জির দ্রুত উৎপাদনে সহায়ক। তবুও নিশবেতগঞ্জের গ্রাম এখনও দেখা মেলে শতরঞ্জি তৈরির প্রাচীন আয়োজন। যেখানে লম্বা বারান্দায় বাঁশের কাঠমো তৈরি করে সুতো টেনে ডান হাতের পাঞ্জা দিয়ে নকশা তুলছেন চায়না রানী। শতরঞ্জির নকশার সাথে কারিগরের মনের সম্পর্ক বুঝালেন ।

অন্যদিকে, আধুনিক পদ্ধতিতে চরকায় কাটা সুতা রোলারে দিয়ে সানা ও টানার সাহায্যে নির্দিষ্ট মাপে এবং নকশায় তৈরি হয় এক-একেকটি শতরঞ্জি।

এছাড়াও আছে কোমর তাঁত। শতরঞ্জিতে ব্যবহার করা সুতা দিয়েই তৈরি হচ্ছে টেবিল ম্যাট। আবার এসব টেবিল ম্যাট  থেকে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের ব্যাগ। এসব উৎপাদন সাবলম্বী করছে দরিদ্র নারীদের।

উদ্যোক্তারা এই সময়কে শতরঞ্জির নতুন স্বর্ণযুগ হিসেবে দেখছেন। ৫০টির বেশি দেশে যাচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের, রংপুরের শতরঞ্জি। উপহার সামগ্রী হিসেবে বিশেষ কদর তৈরি হয়েছে। 

একটি শতরঞ্জি এমন ভাবে নকশা কেটে তৈরি করা হয় যেন তার উভয় দিকই ব্যবহার করতে পারেন ক্রেতা। ফলে ব্যবহারে বৈচিত্রের স্বাদ পান। অন্যসব কার্পেট ওজনে হয় ভারি, কিন্তু শতরঞ্জি হালকা। আবার শীতের সময় আরামদায়ক।

মৌসুম ভেদে দু'ধরণের শতরঞ্জিরই ভাল চাহিদা বাজারে। গরমের সময় কটন সুতার শতরঞ্জি বেশি বিক্রি হয়। অন্যদিকে, মখমলের তৈরি শতরঞ্জির চাহিদা বেশি শীতকালে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, তুলার তৈরি কটন সুতার পাশাপাশি, পাটের সুতা ব্যবহার করার ফলে নতুন করে পাট চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন চাষীরা। দেশীয় সুতায় চাহিদা মেটাতে পারলে আমদানী নির্ভরতা কমবে এক্ষেত্রে।

এদিকে, শতরঞ্জি শিল্পের অগ্রযাত্রায় নতুন বেসরকারি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসার ঘটনা ইতিবাচক। তবে ব্যাংক ঋনের সীমিত সুবিধা, দক্ষ কারিগরের অভাব, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ এবং দেশ-বিদেশের মেলাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ কম থাকায় প্রত্যাশিত পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এ শিল্পের আরো বিকাশে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা, যা সাহসী উদ্যোক্তা  তৈরিতে সহায়ক হবে।

ইটকাটি, হাতিপায়া, সুতাকাটি, জাফরি, লাটাই নামের আদি নকশার চেয়ে বর্তমানে জ্যামিতিক নকশার তৈরি শতরঞ্জিতে  ক্রেতা বেশি আকৃষ্ট। মুসলিম শাসন আমলে এই শিল্প প্রাধান্য পাওয়ায় শতরঞ্জির নকশায় জামদানী এবং ফুল পাখি ,লতা, পাতার নকশা স্থান পেয়েছে। এই শিল্পের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সীমিত আকারে চেষ্টা করছেন ক্রেতার চাহিদা পূরণে। তবে, এক্ষেত্রে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সহায়তা চান তারা।

দেশের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সুবিধা নেই। শিল্প বিদ্যুত অপ্রতুল। ফলে বড় আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান হয়নি। তাই কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশকে ভরসার জায়গা হিসেবে দেখেন রংপুরের ব্যবসায়ী নেতারা।

শতরঞ্জি শিল্পের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রসারের একটি বড় জায়গা প্রতিবছর ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য  মেলা। কিন্তু বড় একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া শতরঞ্জির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা  সেখানে অংশ নিতে পারেন না। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিক-এর কোন প্যাভিলিয়ন ছিলনা গত কয়েকবছর ধরে। 

পাঁচ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্ভর এ শিল্পের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ২৮টি সরকারের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে নিবন্ধিত। আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো নিবন্ধন নবায়ন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানসহ উদ্যোক্তাদের বিকাশে  বেশকিছু পদক্ষেপ নেবার কথা জানায় সরকারি কর্তৃপক্ষ।

শতরঞ্জি শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবার পাশাপাশি এই শিল্পের কারিগর, শিল্পী ও শ্রমিকদের প্রতি একই সঙ্গে যতœশীল না হলে সকল উদ্যোগ কাঙ্খিত ফলের মুখ দেখবে না বলে মনে করেন এই শিল্পের পর্যবেক্ষকরা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে, হোক তা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এরই মধ্যে। কর্মব্যস্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is