ঢাকা, শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫

2019-01-20

, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

হিজড়াদের নাগরিক স্বীকৃতি মিললেও তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি নেই

প্রকাশিত: ১০:১৯ , ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০১:৫৬ , ১৪ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কত তা জানতে কখনওই রাষ্ট্রীয়ভাবে গণনা হয়নি। দেশের সব আদমশুমারিতে নারী ও পুরুষ ছাড়া আলাদা করে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে কাউকে গণনা করা হয়না। ২০১৩ সালে সরকার হিজড়াদের নাগরিক স্বীকৃতি দিয়েছে, হিজড়া হিসেবে ভোটার হবার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের কোথাও নারী ও পুরুষ ছাড়া লিঙ্গ পরিচয় দেবার আর কোন আয়োজন দেখা যায় না আজও।     

জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক একাউন্টসহ সর্বত্রই লিঙ্গ পরিচয় নারী বা পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। সরকার ২০১৩ সালে হিজড়াদের নিজ পরিচয়ে নাগরিক ও ভোটার হবার অধিকার দিলেও সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে তৃতীয় লিঙ্গকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা আজও হয়নি।

সাধারণত তৃতীয় লিঙ্গের সন্তানকে পরিবার বোঝা মনে করে, সমাজে বিব্রত হবার আশংকায় অস্বাভাবিক আচরণ করে সন্তানের বিষয়ে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বড় করবার জ্ঞান-শিক্ষা সমাজে অনুপস্থিত। ফলে একসময় পরিবারচ্যুত হয় বা নিজেই বেরিয়ে যায় সেই ব্যতিক্রমী বিশিষ্টের সন্তান। এমন বাস্তবতায় হিজড়াদের পুনর্বাসনের আয়োজনও রাষ্ট্র, সমাজ ভাবেনি কখনও।

অনেকের মতে হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিতের ভাবনা তখনই সম্ভব যখন বিশেষ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের দেখা হবে। কিন্তু কখনও তা হয়নি, তার প্রমাণ দেশের আদম শুমারিগুলো। যেখানে নাগরিকদের শুধু নারী বা পুরুষের লিঙ্গ পরিচয়ে গুনা হয়। তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে কাউকে গুনে না রাষ্ট্র।

গণনা না থাকায় হিজড়াদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কারও অনুমান এক লাখের বেশি। কোন গণনা না থাকলেও সরকারের খাতায় আছে একটি  বিতর্কিত পরিসংখ্যান।  

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণমুখী মানসিকতা তৈরি ও তার ফল পেতে সবার আগে তাদের ব্যতিক্রমী জীবন আচার সম্পর্কে গভীর গবেষণা করে প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is