ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

2018-04-25

, ৯ শাবান ১৪৩৯

মানুষের কাছে হাত পেতে চলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহ

প্রকাশিত: ১০:২৫ , ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০১:৫৯ , ১৪ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যতিক্রমী দৈহিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে হিজড়ারা নিজেদেরকে আলাদা গোষ্ঠিবদ্ধ করে মানুষের কাছে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের জীবন ধারণের সংগ্রামটা একেবারেই তাদের নিজেদের মত করে তৈরি করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার কিছু সাহায্যের উদ্যোগ নিলেও তার বাস্তব চিত্র ভিন্ন।   

হিজড়া শব্দটি যে সমাজে গালী হিসেবে ব্যাবহার করা হয়, সে সমাজেরই একটি অংশ এই নামে পরিচিত। সেই সমাজেরই কিছু মানুষ এই নামে তাদের জিবিকা নির্বাহ করে, আর এটিই তাদের পরিচয়।

বাজার ঘুরে চাল, সবজী, সামান্য টাকা সংগ্রহ আর কারো নবজাতক হলে নাচ করে আয় করা হিজড়াদের নিত্যদিনের আদি পেশা। নিজেদের মাছুয়া, ঘুঙ্গুর আর সামবাজার- এই তিন গোত্রে বিভক্ত করেছে ওরা। মাছুয়া  গোত্র দেশে নেই, আছে ভারতে। গোত্র ভেদে নিয়ম, খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচার ভিন্ন।

সমাজে অস্পৃশ্য বলে নির্যাতিত হবার ভয়ে হিজড়ারা গোষ্ঠিবদ্ধ থাকে, গোষ্ঠির প্রধানকে ডাকে গুরু, গুরু মা বা নান গুরু। গুরুরাই সব, পরিবার, সমাজ তাড়িয়ে দিলেও আগলে রাখে, বাঁচতে শেখায়।

শরীর খারাপ করলে নিজেদের গোষ্ঠী ছাড়া দেখার কেউ থাকেনা, সমাজের অন্যেরা মুখ ফেরায়। হিজড়াদের জীবিকার পথ নিয়ে অনেকে কটাক্ষ করেন, সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু অর্থিক সাহায্যের উদ্যাগ নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য যে পন্থা অবলম্বন করছেন তা কতটা সঠিক, এবং অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার তাদের যেসব সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে তা আদৌ তাদের হাতের কাছে পৌছাচ্ছে কিনা।

তবে হিজড়াদের কারো কারো অভিযোগ উপবৃত্তির টাকাতেও ভাগ বসাচ্ছেন সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা। আবার, প্রচারণার অভাবে ভাতার বিষয়টি অনেক হিজড়ার কাছে অজানা।
এই বিষয়ে, সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান জানান অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে হিজড়াদের প্রাপ্য ভাতা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন তারা।

সাহায্য প্রাপ্তদের হিসেবে সরকার মনে করে দেশে হিজড়া দশ হাজার। আসলে বহুগুণ বেশি। ওদের জন্য জোর গলায় কথা বলার মানুষ পাওয়া কঠিন, নিজেরাও বলতে পারে না। তাদের বর্তমান সর্বোচ্চ গুরু মা চম্পা বার্ধক্যে উপনীত। আজও গোষ্ঠীর ভাল দেখতে আকুল তিনি।

তাদের দাফন করা হবে ? না-কি ঘৃণা ভরে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল করে, কবরস্থানের আঙ্গিনা থেকে বের করে দেয়া হবে তাদের লাশ, কিম্বা ভাসিয়ে দেয়া হবে নদীতে বা পুড়িয়ে ছাই করা হবে তাদের নির্জীব শরীর। দু’বছর আগেও প্রজনন প্রতিবন্ধীরা এমনটাই ভাবতেন। কিন্তু এখন সময় পাল্টে গেছে-জানালেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

দুনিয়া জোড়া তৃতীয় লিঙ্গের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে অনেক, পাল্টাচ্ছেও। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ট্রাফিক পুলিশে হিজড়ারা। নেপাল, পাকিস্তানেও অনেক পরিবর্তন এসছে দৃষ্টিভঙ্গির। সেখানে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ভারতে হিজরাদের নিয়ে ধারাবাহীক নাটক হয়, সামান্য কিছু হচ্ছে দেশেও। কিন্তু ভারত সিক্স প্যাক ব্যান্ড নামে ৬ জন হিজড়ার গানের শুধু তাদের দেশে নয়, নানা দেশে বড় বড় অনুষ্ঠান করে ফেরে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বৈশাখী উৎসবের সার্বজনীন প্রতীক মঙ্গল শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- বৈশাখী উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ- রাজধানীর রমনা বটমূলে বর্ষবরণ সঙ্গীত ও বাদ্য...

তৈরি হচ্ছে কুটির শিল্পজাত পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামীণ বৈশাখী মেলা দেশজুড়ে বর্ষবরণ উৎসবের একটি বড় ঐতিহ্য। মেলায় স্থান পায় বিভিন্ন কুটির শিল্পজাত পণ্য এবং ঐহিত্যবাহী...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is