ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-13

, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বাল্যবিয়ে আজও দেশের বড় সামাজিক সমস্যা

প্রকাশিত: ১২:৩৩ , ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০১:৩৪ , ১৬ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েকশ’ বছর আগে ভারত উপমহাদেশে প্রচলন ঘটা বাল্যবিয়ে আজও দেশের একটি বড় সামাজিক সমস্যা। ধর্মীয় কুসংস্কার, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা থেকে এ বিতর্কিত প্রথার প্রচলন হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কালে কালে এই সমস্যার প্রতিরোধে আইন ও প্রচারণা হয়েছে কিন্তু খুব বেশি এগোয়নি পরিস্থিতি। দেশে বাল্যবিয়ের হার এখনও ৬৫ শতাংশ। এর বিরুদ্ধে যেমন আইন আছে, তেমনি আইন ভাঙার ফাঁক আছে। শহরের চাইতে এ সমস্যা গ্রামাঞ্চলে বেশি।

বীরুলিয়ার মনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়েছিলো মাত্র ১০ বছর বয়সে। খেলনা হাঁড়ি-বাটি সরিয়ে রেখে ছোট্ট শিশুটির হাতেখড়ি হয় শাশুড়ির রান্নাঘরে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কন্যা সন্তানের মা হয়েছিলেন। মেয়ে আকলিমার বয়স যখন ১৩ তখন তাঁকেও বিয়ে দেন। বাল্যকালের বিয়ে নিয়ে বেজায় আক্ষেপ করেন এখন।

আকলিমার বড় মেয়ের বয়স এখন ১৩। তবে আকলিমার চিন্তা ভিন্ন,-- এখনই মেয়ের বিয়ে নয়, আগে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত রচনা করে দিতে চান তিনি।

ইতিহাসের তথ্য মতে, খ্রীষ্ট জন্মের আগের সময়টাতে বাল্যবিয়ে ছিলো না। বরং নারী-পুরুষে সমান অধিকার ছিলো। খ্রীষ্ট জন্মের ২০০বছর পরে শুরু হয় শিশু বিয়ে। মধ্যযুগে, সম্রাট আকবর আইন করে বাল্যবিয়ে বন্ধের চেষ্টা করেন। যদিও তখন বিয়ের বয়স মেয়েদের জন্য ১৪ আর ছেলেদের জন্য ১৬ বছর নির্ধারিত করেছিল। ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসনামলে ১০ বছরের কম বয়সী ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেয়ার প্রবণতা  তৈরি হয়। ১৮৬০ সালে ভারতীয় আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, ১০ বছরের নীচে কারও বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়।

উনিশ শতকে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি তাদের প্রচেষ্টায় বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন প্রণীত হয় ১৯২৯ সালে।

বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য প্রায় ১০০ বছর আগে আইন প্রণীত হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বাল্যবিয়ে প্রবণতার বিষয়ে বৈশ্বিক তালিকায় এখন চতুর্থস্থানে বাংলাদেশ।

এই বিভাগের আরো খবর

পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে, হোক তা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এরই মধ্যে। কর্মব্যস্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is