ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-13

, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

নিরোধ আইন করেও বন্ধ হয়নি বাল্যবিয়ের চর্চা

প্রকাশিত: ১২:৫১ , ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ আপডেট: ০১:৩৪ , ১৬ জানুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: শতাধিক বছর আগে থেকে সামাজিক আন্দোলন ও বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন করেও এই বাল্যবিয়ের চর্চা থামানো সম্ভব হয়নি আজও। তাই সংস্কার করে দুর্বলতাবিহীন কঠোর আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগের দাবি ওঠে বার বার। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ফেব্র“য়ারিতে নতুন ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ করে সরকার। কিন্তু আইনের ফাঁক ও দুর্বলতার জায়গা দেখে আশাহত হন বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলনকারীরা।

১৮৮৭ সালে ভারতে ৩৫ বছর বয়সি স্বামীর জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের কারণে মারা যায় ১১ বছরের শিশু ফুলমনি দাসী। এ ঘটনায় প্রথম বড় ধরনের প্রতিবাদ আসে। বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য ১ হাজার ৫০০ স্বাক্ষর নিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮৯১ সালে ১২ বছর বয়সের নীচে বিয়ে নিষিদ্ধ করে ‘দি এইজ অব কনসেন্ট বিল’ পাস করা হয়। এরপর ১৯২৯ সালে সারদা অ্যাক্ট বা বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে বিয়ের বয়স মেয়েদের জন্য  ১৪ বছর ও ছেলেদের জন্য ১৮ বছর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তা সংশোধন করে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ নির্ধারণ করা হয়।

এ আইনকে আরও যুগোপযোগী করতে ২০১৭ সালে নতুন আইন হয়। সেখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৮ বছর বয়সের নীচে ছেলেমেয়ের বিয়ের সুযোগ রাখায় পুরো উদ্যাগটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

রাজধানীর অদূরে ধামরাইয়ে নতুন আইনের এই ফাঁক কাজে লাগানোর অপপ্রয়াস দেখা যায়। অভিভাবকেরা স্কুল পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারী কর্মকর্তা আসলে জানান, বিয়ে নয় আংটি পড়ানো হবে।  আইন এটাও সমর্থন করে না।

কয়েক বছর আগে এক বিবাহিত মাদরাসার শিক্ষক এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষককে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী। শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর সাথে তার স্বামীর বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হতে চাপ দেয় ভুক্তভোগী মেয়ের দরিদ্র্য পরিবারকে। রক্ষা পায় মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে বাল্য বিয়ের সুযোগ নারী পাচার সহ নানবিধ অপরাধ প্রবণতাকে উৎসাহিত করবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের।  

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করে কন্যাশিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনের ফাঁকফোঁকর বন্ধের পাশাপাশি আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো খবর

পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে, হোক তা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, পোষ্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে এরই মধ্যে। কর্মব্যস্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is