ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ৬ ভাদ্র ১৪২৫

2018-08-20

, ৮ জিলহজ্জ ১৪৩৯

মানব ডিম্বাণু পরিপক্ব করার চেষ্টায় সফলতা

প্রকাশিত: ০২:৪২ , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ আপডেট: ০২:৪২ , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: এই প্রথমবারের মতো গবেষণাগারে মানব ডিম্বাণু পরিপক্ব করার চেষ্টায় সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই অগ্রগতি প্রজনন চিকিৎসায় নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের মলিকুলার হিউম্যান রিপ্রোডাকশন সাময়িকীতে।

নিবন্ধ টি লিখেছেন স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআরসি সেন্টার ফর রিপ্রোডাকটিভ হেলথের অধ্যাপক ইভলিন টেলফার। তিনি জানান, ডিম্বাশয়ের বাইরে ডিম্বকোষ পরিপক্ব করার চেষ্টায় সফল হয়েছেন তাঁরা। টিস্যুগুলো ২৫ বছর থেকে ৩৯ বছরের মধ্যবর্তী বয়সী ১০ নারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞানীরা প্রথমে বায়োপসির মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের কোষ সংগ্রহ করেন। কোষগুলো পরিণত হওয়ার পর এগুলো এখন আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গবেষণাগারে শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ভ্রূণ সৃষ্টির অপেক্ষা। গবেষণাগারে এর আগেও নিষেক প্রক্রিয়া সম্ভব হলেও এবারই প্রথম ডিম্বাশয়ের বাইরে পরিণত ডিম্বাণু সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।

অধ্যাপক ইভলিন টেলফার বলেন, “যদি আমরা এই ডিম্বাণুগুলো থেকে ভ্রূণ সৃষ্টিতে সফল হই, তাহলে ভবিষ্যতে প্রজনন চিকিৎসায় এর বহুমাত্রিক প্রয়োগ সম্ভব হবে।” তিনি জানান, ভ্রূণ সৃষ্টির পর এগুলো কতটা স্বাস্থ্যবান হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। যদি ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়, তাহলে বন্ধ্যা নারীদের দুঃখের দিনের ইতি ঘটবে।

এ ছাড়া ক্যানসারে আক্রান্ত নারী-পুরুষদের জন্যও সুখবর মিলবে এই গবেষণায় সফল হলে। বর্তমানে ক্যানসারে আক্রান্ত তরুণীদের ক্ষেত্রে তাঁদের ডিম্বাশয়ের টিস্যু সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কারণ, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির কারণে অনেক সময় প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা লোপ পায়। এ ক্ষেত্রে ক্যানসার নিরাময়ের পর সংরক্ষিত ওই টিুসু আবার স্থাপন করা হয় নারীর দেহে।

এ বিষয়ে ইভলিন টেলফার বলেন, এটি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, কোনো কোনো তরুণীর দেহে বংশগতির ধারায় ক্যানসার কোষ বিস্তার লাভ করে। এ ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের সংরক্ষিত টিস্যুতে তা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা পুরোপুরি সফল হলে এই ঝুঁকি আর থাকবে না বলে মনে করছেন ইভলিন। এমনকি গর্ভধারণের বয়স অতিক্রম করে যাওয়া নারীরাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মা হতে পারবেন বলে মনে করছেন এই গবেষক।
তিনি বলেন, “সত্যি কথা বলতে কী, আমরা এই অবস্থায় এখনো কিছু বলতে পারছি না।”

এই বিভাগের আরো খবর

পৃথিবীর প্রাচীনতম রং গোলাপি!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রধান তিনটি রংয়ের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে প্রকৃতির হাজারো রং। এই হাজারো রংয়ের মধ্যে উজ্জ্বল গোলাপি রং-ই নাকি ছিল...

মৃত্যুর গতি জানালেন বিজ্ঞানীরা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: প্রতিটি জীবের মৃত্যুর স্বাদ নিতে হয়। কেউ আগে আর কেউ পরে। এই মৃত্যু কি খুব ধীরে হয় নাকি স্লথ। তবে কবিরা তাদের কবিতায়...

স্মার্টফোন গরম হয় যে কারণে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এমন লোক খুজে পাওয়া কঠিন যার কাছে স্মার্টফোন নেই। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে প্রায় সবাই...

সূর্য জয়ের পথে নাসার মহাকাশযান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: সূর্য জয়ের লক্ষে সর্বকালের সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা...

আন্তর্জাতিক রোবটিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ৫ ক্ষুদে বিজ্ঞানী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক রোবটিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৫ ক্ষুদে বিজ্ঞানী। আনাহিতা আনোয়ারা, লালেহ নাজ...

চামচ খেতে পারবেন নিশ্চিন্তে

অনলাইন ডেস্ক: অন্য সব খাবারের মতো খাওয়া যায় এমন এক ধরনের চামচ তৈরি করা হয়েছে ভারতে। গত বছরের নভেম্বরে গুজরাটে একটি  কোম্পানি বাজারে নিয়ে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is