ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-24

, ১৯ রমজান ১৪৪০

আলোচনায় নেই মুক্তিযুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির অবদান

প্রকাশিত: ১০:২২ , ০৯ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০২:২৮ , ০৯ মার্চ ২০১৮

নিজস্ব  প্রতিবেদক: সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নামে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হলেও দেশ স্বাধীনের লড়াইয়ে এই ভূখন্ডের বহু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনেক সদস্যের অবদান আছে। সেসব সম্প্রদায়ের মানুষেরা স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর পরও সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণী। ফলে একাত্তরে তাদের গৌরবের ইতিহাস আলোচনায় উঠে আসেনি খুব একটা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির সদস্যরা তাদের নিজস্ব জীবনাচার, সংস্কৃতি, হাতিয়ার ও কৌশল দিয়ে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।

একাত্তুরে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাস রচিত হয়েছে, সেখানে নগন্য সংখ্যক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির অবদান অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছে। দেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠি আছে। যারা বৃহত্তর চট্টগ্রামের তিন পার্বত্ব জেলা ছাড়াও ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের সমতলেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির খবর না মিললেও জানা যায় পাহাড়ে সমতলে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বহু সম্প্রদায়ের অনেক নারী পুরুষ।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধু রংপুর থেকেই ৩ শতাধিক সাওতাল প্রত্যক্ষ মক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। দিনাজপুরে ওঁরাও এবং সাঁওতালদের আরো প্রায় ১ হাজার সদস্য, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, নেত্রকোণার গারো-হাজং-কোচ-ডালুসহ প্রায় দেড় হাজার সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। রাজশাহীর গোদাগাড়িতে একজন প্লাটুন কমান্ডর ছিলেন সাঁওতাল বিশ্বনাথ টুডু। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ায় খ্রিষ্টান যাজক ফাদার লুকাশ মারান্ডিসহ রাজশাহী ও রংপুরে কয়েক’শ সাঁওতালকে হত্যাকরে পাকিস্তানী হানাদাররা। বৃহত্তর সিলেটের চা বাগানেও গণহত্যার স্বীকার হয় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির শ্রমিকেরা।

পার্বত্ব চট্টগ্রামে চাকমা রাজা ত্রিদিপ রায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষ নিলেও বৃহত্তর রাজ পরিবারের অন্যতম সদস্য কে কে রায় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। চাকমা নেতা মানবেন্দ্র নারয়ান লারমার নেতৃত্বে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির ছাত্র যুবকেরা।

বিগত ছেচল্লিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা দেখা যায়নি। তবে, হাতেগোনা কয়েকটি বই ইতিহাসের এই অধ্যায় নিয়ে লেখা হয়েছে। যেগুলোতে আংশিক চিত্র পাওয়া যায়। এ নিয়ে গবেষণার মানুষও খুব কম।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিষের বাজারেও ভেজাল আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বছরে বিষের যে চাহিদা, তা অর্থমূল্যে আড়াই হাজার কোটি টাকার। যার পুরোটাই আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশে থেকে। অন্যদিকে...

দেশে ক্রমেই বড় হচ্ছে বিষের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেগ: বিষ কথাটায় সাধারণত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু নিজেদের স্বার্থে জেনে না জেনে বিচিত্র বিষের ব্যবহারে অভ্যস্ত মানুষ।...

ফল রপ্তানীতে সুপরিকল্পনা ও উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ফল বাণিজ্য অভ্যন্তীণ বাজার কেন্দ্রিক। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কিছু দেশীয় ফল বিদেশে রপ্তানী হলেও পরিমাণ খুব কম। তাই...

চাহিদা-পুষ্টিগুণ বিবেচনায় ফল চাষ পদ্ধতিতে এসেছে পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌসুমী ফলের উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। চাহিদা এবং পুষ্টিগুণ বিবেচনায় চাষ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন হচ্ছে। অপ্রচলিত এবং বিলুপ্ত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is