ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-24

, ১৯ রমজান ১৪৪০

পৃথিবীতে আছড়ে পরবে চীনের অকেজো স্পেস স্টেশন

প্রকাশিত: ০৩:২৪ , ৩০ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০৩:২৪ , ৩০ মার্চ ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে চীনের অকেজো স্পেস স্টেশন বা কৃতিম উপগ্রহ ‘তিয়াংগং-১’।  নিজেদের মতো করেই মহাকাশ গবেষণায় এক পা-দু’পা করে এগোচ্ছিল চীন। লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা আইএসএস)-এর আদলে পৃথিবীর কক্ষপথে নিজস্ব একটি ‘স্পেস স্টেশন’ তৈরি করবে তারা। ২০১১ সালে প্রথম ধাপ এগিয়ে যায় চীন। পৃথিবীর কক্ষপথে তারা পাঠায় কৃত্রিম উপগ্রহ ‘তিয়াংগং-১’কে। কিন্তু কক্ষপথে পৌঁছানোর ছয় বছর পর, ৮ টন (৭২৫৭ কেজি) ওজনের এই উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে তারা ‘তিয়াংগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে এবং ২০১৭ সালের শেষার্ধে এটি পৃথিবীর কোনও স্থানে বিধ্বস্ত হবে। চীন জাতিসংঘকে জানায় যে, এটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের অকেজো মহাকাশ পরীক্ষাগার তিয়ানগং-১ চলতি সপ্তাহান্তে পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। এটির দৈর্ঘ্য ১০ মিটার এবং ওজন ৮ টন। মডিউলটির সঙ্গে চীনের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে এর পতনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা এটি ভেঙে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন। কারণ এটি জনবসতিপূর্ণ কোনো এলাকায় পড়বে না।

বিবিসি নিউজকে যুক্তরাজ্যের মহাকাশ সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী রিচার্ড ক্রোথার বলেন, বিশাল ওজনের টিয়ানগং-১ মডিউলটি পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়লেও তা থেকে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম। কারণ এটি পৃথিবীতে প্রবেশের আগেই পুড়ে যাবে। এর টুকরো অংশ সমুদ্রে পড়তে পারে। তবে এটি কবে ও কখন পৃথিবীতে পড়বে, সঠিক সময় পরে জানা যাবে।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে যেকোনো সময় টিয়ানগং-১ পৃথিবীতে পড়তে পারে। বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত ওই কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীতে প্রবেশের আগে আগুনের গোলায় পরিণত হতে পারে। এ কৃত্রিম উপগ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করতে গবেষকেরা উন্নত রাডার ও শক্তিশালী টেলিস্কোপ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। ২০১৬ সালে এর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকে এটি ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে শুরু করে।

তবে বৃহত্তর মহাকাশযানের অনিয়ন্ত্রিত ক্র্যাশ এর ঘটনা বিরল। এর আগে সোভিয়েত স্যালুট ৭ স্পেস স্টেশনটি ১৯৯১ সালে পৃথিবীতে বিধ্বস্ত হয় এবং ১৯৭৯ সালে আমেরিকার নাসার নাটকের স্কাইল্যাব স্পেস স্টেশন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় ভেঙে পড়ে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

যুদ্ধবিমানের চেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন এক ইলেকট্রিক গাড়ি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: ইতালীয় একটি প্রতিষ্ঠান এমন এক ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করলেন যা এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের চেয়েও দ্রুত গতিসম্পন্ন।...

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : উৎক্ষেপণের এক বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলো আজ। বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে...

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ ও স¤প্রচার উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-ওয়ান’-এর আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু...

গর্ভনিরোধক আংটি ও কানের দুল আবিষ্কারের পথে বিজ্ঞানীরা!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: গর্ভধারণের ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ মহিলাই বার্থ কন্ট্রোল পিল বা জন্মনিয়ন্ত্রক অষুধ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু...

ক্যান্সার সারবে মাত্র ১০ টাকায়!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম। ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is