ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬

2019-04-20

, ১৪ শাবান ১৪৪০

গাজিপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

প্রকাশিত: ০১:৫০ , ০৬ এপ্রিল ২০১৭ আপডেট: ০১:৫০ , ০৬ এপ্রিল ২০১৭

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহমান ওরফে রিয়াদকে (২৫) অপহরণের পর হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক  এ কে এম এনামুল হক এ দণ্ডাদেশ দেন। 

রায়ে একই সঙ্গে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তদের প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং যাবজ্জীবন প্রাপ্ত নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলো-  টাঙ্গাইলের  গোপালপুর থানার জামতৈল গ্রামের মো. আব্দুস ছামাদ মাষ্টারের ছেলে মো. রেজাউল কারিম উরফে সাগর (৩২), জামালপুর সদরের মোহনপুর গ্রামের মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (৩৬) ও মৌলভীবাজার সদরের বেকামোড়া গ্রামের মো. ইয়াবর মিয়ার ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন (২৭)। যাবজ্জীবন প্রাপ্ত হলেন- জামালপুর মেলানদহ থানার বল্লবপুর আব্দুস সামাদ মন্ডলের মেয়ে সানজিদা আক্তার লিপি (৩০)। সাগর ও লিপি পরস্পর স্বামী-স্ত্রী।

নিহত আব্দুর রহমান রিয়াদ নোয়াখালীর সেনবাগ থানার নবীপুর গ্রামের আবুধাবী প্রবাসী খাজা মাইন উদ্দিনের ছেলে।গাজীপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম জানান, রিয়াদ গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে বসবাস করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে লেখাপড়া করত। এসএম মাতুল কোচিং সেন্টারে কোচিং করার সময় লিপির সাথে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতা হয়। এক পর্যযায়ে ২০১৩ সালে ২৩ জুলাই চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়াদকে লিপি তার স্বামী সাগরের কাছে তুলে দেয়।

সাগর ২৫ জুলাই আবুধাবীতে থাকা বিয়াদের বাবার নিকট ফোনে জানায় বিয়াদ তাদের নিকট আছে আইনের আশ্রয় নিলে তাকে মেরে ফেরা হবে। এর দুই দিন পর ২৭ জুলাই ফের ফোন করে রিয়াদের বাবার নিকট ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরদিন নিদিষ্ট তারিখের মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে কান কেটে ফেলা হবে বলে রিয়াদের বাবার কাছে মেসেজ পাঠায়। পরে এ ঘটনায় রিয়াদের মামতো ভাই সার্জেন্ট (অব:) জাকির হোসেন ৩০ জুলাই টঙ্গী থানায় অপহরণের এজাহার এবং র‌্যাব-১ নিকট দরখাস্ত দেন।

পরে র‌্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে আসামী সাগরকে এবং পরে জামালপুর থেকে বাকি ৩ আসামিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী শাহাবুদ্দিন স্বীকার করে তারা তিনজনে (শাহাবুদ্দিন,সাগর ও জামাল উদ্দিন) মিলে রিয়াদকে হত্যা করে জামালপুরের একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

এদিকে রিয়াদের লাশ জামালপুরে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে এবং আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম দাফন করে। তার মৃত্যুর ৩৬ দিন পর  করব থেকে লাশ উত্তোলন করে জামালপুরে মায়না তদন্ত করা হয়।

তদন্ত শেষ প্রথমে টঙ্গী থানা পুলিশ ও পরে সিআইডি পুলিশ ৪ আসামীর বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৬৫, ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমান পাবার পর সম্পুরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ এবং শুনানী শেষে বৃহস্পতিবার  আদলতের বিচারক ওই রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট মো. হারিজ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ, মো. আব্দুল জলিল ও মোসা. জেবুন্নাহার মিনা মামলাটি পরিচালনা করেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

তারেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ যাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে ইংল্যান্ডে থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট...

বৈশাখী টেলিভিশনের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত মামলায় বুলু’র রিভিউ খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈশাখী টেলিভিশনের মালিকানা দাবি করে এমএনএইচ বুলুর করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ...

কয়েকদফা সভা করে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়: আদালতে শরীফের জবানবন্দি

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে...

নুসরাত হত্যা মামলায় জড়িত মনির পাঁচদিনের রিমাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত কামরুন নাহার মনিকে ৫দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is