ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-21

, ১৬ রমজান ১৪৪০

ঘুরে আসুন ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর

প্রকাশিত: ০৭:২৯ , ০৯ মে ২০১৮ আপডেট: ০৭:৪৬ , ০৯ মে ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: কাশ্মীরকে বলা হয় ভূ-স্বর্গ। বিশ্বে এই স্থানটি ‘ভূ-স্বর্গ’ বলে পরিচিত।  অপরূপ সৌন্দর্যের এই স্থানটির কথা ভ্রমণ পিয়াসুদের অজানা নেই।  জানুন ভূ-স্বর্গখ্যাত কাশ্মীরে ভ্রমণের বিস্তারিত।  

সোনামার্গ:  
সোনামার্গ এর অবস্থান শ্রীনগর-লাদাখ মহাসড়কের পাশে। শ্রীনগর থেকে উত্তর-পূর্বে আড়াই ঘণ্টার পথ। সোনামার্গ বিখ্যাত থাজিওয়াজ হিমবাহের জন্য। যেখানে চাইলেই যাওয়া সম্ভব। মহাসড়ক থেকে পায়ে হেঁটে যেতে আসতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। যদি হাঁটতে না পারেন, তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে টাট্টু ঘোড়া। ঘোড়ায় চড়ে  উপভোগ করে আসুন থাজিওয়াজ হিমবাহের বিস্ময়কর সৌন্দর্য। এ জন্য ঘোড়ার মালিককে দিতে হবে ৬০০ রুপি।

আরও একটি বিকল্প উপায় হিসেবে রয়েছে ট্যাক্সি। তবে পথের শেষ পর্যন্ত ট্যাক্সি যেতে পারে না। ফলে এক পর্যায়ে নেমে আপনাকে হাঁটতেই হবে। বলিউডের বহু সিনেমার চিত্রায়ন হয়েছে এখানে। থাকা খাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। নানান ক্যাটাগরির ব্যবস্থা রয়েছে। এদের মধ্যে ‘আহসান মাউন্ট রিসোর্ট’ সবচেয়ে চমৎকার। এখানে তাবু নিবাসেরও ব্যবস্থা রয়েছে। সামর্থের মধ্যে হোটেল ‘স্নোল্যান্ড’ থাকার জন্য ভালো একটি জায়গা হতে পারে।

ইওজমার্গ :
এখানে পৌঁছতে শ্রীনগর থেকে দক্ষিণ-পূর্বে দুই ঘণ্টা জার্নি করতে হবে। ইওজমার্গের প্রধান আকর্ষণ দুধগঙ্গা নদী। সড়ক থেকে মাত্র চল্লিশ মিনিটের অপূর্ব সুন্দর পথ ধরে নেমে গেলেই আপনি পৌঁছে যাবেন নদীর ধারে। বিকল্প হিসেবে টাট্টু ঘোড়া নেয়া যেতে পারে। খেয়াল রাখা দরকার এখানকার ঘোড়াওয়ালারা পর্যটকদের বিরক্ত করে। তাছাড়া  হেঁটে যাওয়া মোটেও কষ্টকর নয়। সুতরাং, তাদের খপ্পরে পড়বেন না। পথ এগিয়েছে আপেল বাগানের মাঝ দিয়ে। তাজা আপেলের স্বাদ নিতে চাইলে চাহিদা মোতাবেক কিনতে পারেন। এখানে যে পরোটা খাবেন, জেনে রাখুন ভারতের সর্ববৃহৎ আকারের পরোটা সেগুলো।

গুলমার্গ :  
ফুলের রাজ্য বলে খ্যাত গুলমার্গ। হাজারও ফুলে বর্ণিল হয়ে থাকে এখানকার প্রকৃতি। শ্রীনগর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্ব। এখানে ইন্ডিয়ান সনাতনী পদ্ধতিতে স্কি করার ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ উঁচুতে কেবল কার। ১৩ হাজার ফুটেরও অধিক উচ্চতা থেকে উপভোগ করা যায় মাউন্ট ’আফারওয়াত’ এর অনবদ্য দৃশ্য। খুব বেশি জনপ্রিয় হওয়ায় টিকিট কাটতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে ইন্টারনেটে টিকিট কেটে রাখতে হবে। যদিও টিকিট কাটার পর কেবল কারে আরোহণের দীর্ঘ লাইনে আপনাকে দাঁড়াতেই হবে। এমন মনোরম পরিবেশে দু’এক দিন থেকে যেতে চাইলে ‘খাইবার হিমালয়ান রিসোর্ট এ্যান্ড স্পা’ হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও ভালো জায়গা।

পাহালগাম:
পাহালগাম মূলত শেফার্ড উপত্যকা বলে পরিচিত। শ্রীনগর থেকে তিন ঘণ্টার পথ। পাহালগাম ঘুরতে গেলে প্রায় সকল পর্যটকই ‘বেতাব ভ্যালী’ দেখতে যায়। বলিউডের বিখ্যাত ‘বেতাব’ সিনেমাটি এখানে চিত্রায়িত হয়েছিল। তারপর থেকেই এর নাম বেতাব ভ্যালী। এখানকার স্বচ্ছ পানির ‘লিদার’ নদী এবং বরফাচ্ছাদিত পর্বতের সতেজতা যে কোনো পর্যটকের হৃদয় কেড়ে নেয়। এখানে পর্যটকদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো, উপত্যকায় যাওয়ার জন্য বাহনটি নির্দিষ্ট একটা জায়গা পর্যন্ত যেতে পারে। তারপর থেকে যেতে হবে স্থানীয় পরিবহন সমিতির বাহনে অথবা হেঁটে। ভ্যালিতে প্রবেশ মূল্য দশ রুপি।

যেভাবে যাবেন :
পাসপোর্ট, ভিসা সংগ্রহ করে সড়ক, আকাশপথ বা রেলপথে কলকাতা যেতে হবে। কমলাপুর থেকে সকাল ও রাতে বাস ছেড়ে যায়, ভাড়া ১৫০০ টাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে কলকাতা-চিৎপুর মৈত্রি এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে তিনদিন শুক্র, সোম ও বুধবার চলাচল করে। শ্রেণী অনুযায়ী ভাড়া ৯০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে। ৩৯২ কি.মি. এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে দশ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়, চিৎপুর গিয়ে নামিয়ে দেয় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। এরপর হাওড়া থেকে প্রথমে দিল্লী যেতে হবে। রাজধানী এক্সপ্রেসের ভাড়া ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ রুপি। দিল্লী থেকে ট্রেনে শ্রীনগর। যদি আকাশ পথে যান তাহলে তো কোনো কথাই নেই। প্রথমে যেতে হয় দিল্লী, সে ক্ষেত্রে ঢাকা-দিল্লী বিমান ভাড়া এয়ারলাইন ভেদে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ইফতারে কেন খাবেন খেজুর

অনলাইন ডেস্ক: রোজার সময় ইফতারে খেজুর খুব পরিচিত ও পুষ্টিকর খাবার। শুধু রোজায় নয়, আপনি চাইলে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটি সারা বছরই খেতে পারেন।...

মুরগির লিভার বা মেটের উপকারিতা

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রাণীর লিভার (যকৃৎ) বা মেটে আমরা উপকারী ভেবে খেয়ে থাকি। কিন্তু মুরগির মেটে কি উপকারী? এ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে কেউ মেটে বা লিভার...

ঘরে তৈরি করুন ইফতারের জিলাপি

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাঙালির ইফতারের অন্যতম উপকরণ জিলাপি। কবে কীভাবে এই খাদ্য আমাদের তালিকায় ঢুকে গিয়েছিল সেই ইতিহাস আমাদের অজানা। তবে জিলাপি...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is