ঢাকা, সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

2018-05-20

, ৫ রমজান ১৪৩৯

মঙ্গলের মাটিতে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে নাসা

প্রকাশিত: ১২:২৪ , ১৭ মে ২০১৮ আপডেট: ১২:২৪ , ১৭ মে ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের মাটিতে এ বার পা রাখতে যাচ্ছে হেলিকপ্টার! মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আগামী ২০২০ সালে মঙ্গলগ্রহে অবতরণযোগ্য নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির একটি ‘মার্স হেলিকপ্টার’ পাঠাতে যাচ্ছে। এটাই প্রথমবারের মতো মহাবিশ্বের কোনো গ্রহে হেলিকপ্টার জাতীয় যান পাঠানো হচ্ছে। পৃথিবীতে যতটা উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে হেলিকপ্টার, মঙ্গলে তার আড়াই গুণ বেশি উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারবে সেই হেলিকপ্টার।

পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি থেকে জানানো হয়েছে, মার্স হেলিকপ্টারটি মঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হবে আর দু’বছর পর, ২০২০ সালে। এই শতাব্দীর তিনের দশকে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর আগে সব কিছু পরীক্ষা করে দেখতে ২০২০-তে যে রোভার মহাকাশযান পাঠাচ্ছে নাসা, তার ভিতরে পুরেই লাল গ্রহে পাঠানো হবে সেই হেলিকপ্টার বা ‘মার্সকপ্টার’।

নাসা জানিয়েছে,‘মার্স হেলিকপ্টার’ নামের এই যানটি রিমোট-কন্ট্রোলড প্রযুক্তিতে চলবে। অর্থাৎ দূর থেকে একে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই হেলিকপ্টারে থাকবে পরস্পর বিপরীত দিকে ঘূর্ণায়মান দু’টো ব্লেড বা পাখা। এর ফিউজলাজ বা মূল কাঠামোটার আকার হবে একটি সফটবলের মতো। আর স্পেস রোভারটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যেন তা মঙ্গলগ্রহের পাতলা বায়ুমণ্ডলে যখন তখন উড়তে পারে। এর ব্লেডগুলো প্রতি মিনিটে প্রায় তিন হাজার বার ঘুরতে পারবে, যা পৃথিবীতে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর তুলনায় প্রায় ১০ গুণ।

প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিমি জানিয়েছেন, রোভার, ল্যান্ডার ও কক্ষপথে ঘোরা অরবিটারগুলি দিয়ে লাল গ্রহের পাহাড়গুলির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এলাকাগুলির হদিশ পেতে বা সেই এলাকাগুলির চেহারা-চরিত্র বুঝতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। মার্সকপ্টার সেই সমস্যা মেটাবে।

তিনি  আরও বলেন, পৃথিবীর হেলিকপ্টারগুলো সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ওঠে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মাত্র এক শতাংশ। ‘সুতরাং আমাদের হেলিকপ্টার যখন মঙ্গলের পৃষ্ঠে থাকবে, তখন পৃথিবীর হিসেবে সে এক লাখ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠে যেতে পারবে।’

মার্স হেলিকপ্টার প্রজেক্টের অন্যতম প্রধান গবেষক শ্রীকান্ত মুরলী জানান, ‘‘এর আগে কখনও অন্য কোনও গ্রহে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়নি। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলে বায়ুমণ্ডল প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মঙ্গলের আকাশে হেলিকপ্টার তোলা ও চালানোর কাজটা বেশ কঠিন। ২০১৩ সাল থেকেই ওই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হচ্ছিল। এ বার এক মাস ধরে হেলিকপ্টারটির ‘ট্রায়াল’ হবে পৃথিবীতে।’’ তিনি আরও বলেছেন, হেলিকপ্টারটিকে যতটা সম্ভব হাল্কা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তার ওজন ৪ পাউন্ড বা ১.৮ কেজি-র কম। ‘ট্রায়াল’ চালানোর পর প্রয়োজন হলে তা আরও কমানো হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

২৩ মে'র মধ্যে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাই বঙ্গবন্ধু-১ আগামী ২২ অথবা ২৩ তারিখের মধ্যে মহাকাশের...

অক্টোপাস এই পৃথিবীর প্রাণি নয়!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: অক্টোপাস এই পৃথিবীর  কোনো প্রাণি নয়, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন গবেষকরা। কেবল অক্টোপাসই নয়, স্কুইড, কাটল ফিশ জাতীয়...

সেলফি তুলবে এবার ড্রোন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: এবার সেলফি তুলতে সেলফি প্রিয়দের জন্য এয়ারসেলফি নিয়ে আসছে তাদের দ্বিতীয় সংস্করণ এয়ারসেলফি- ২। ডিভাইসটি স্বল্প...

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, চ্যানেল খাতে সাশ্রয় ১১৫ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা

বিশেষ প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু-ওয়ান স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় গ্রাহক হবে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। বর্তমানে দেশের ২৭টির মতো টেলিভিশন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is