ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

2019-03-23

, ১৬ রজব ১৪৪০

ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখা

প্রকাশিত: ০১:১২ , ১৮ মে ২০১৮ আপডেট: ০১:১২ , ১৮ মে ২০১৮

অনলাইন ডেস্ক : শুরু হয়েছে মুসলমানদের পবিত্র মাস মাহে রমজান। এ মাসে মুসলিমরা বেশী সওয়াব লাভের আশায় বেশী বেশী ইবাদত করে। সুস্থ মানুষদের পাশাপাশি অনেক ডায়াবেটিক মুসলমানও রোজা রাখেন। পৃথিবীতে প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান আছে যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৬%। বর্তমানে পৃথিবীতে ডায়বেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন। পৃথিবীর মোট প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের ৩৬% ডায়াবেটিসে ভুগছেন। সে হিসেবে দাঁড়াচ্ছে, প্রতি রমযান মাসে ৯-১২ কোটি ডায়াবেটিক রোগী রোযা রাখছেন। একটি গুরুত্বর্পূণ গবেষনায় দেখা গেছে যে, টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের ৪৩% এবং টাইপ২ ডায়াবেটিক রোগীদের ৭৯% রমজান মাসে রোজা রাখেন।

রোজার সময় একজন মানুষকে ভোররাত হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুম ভেদে এ সময়কাল ১৪ ঘন্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৩ ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সেহরী ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় সর্বোচ্চ ১৭ ঘন্টা হতে পারে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিক রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কী না তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে। অবশেষে পৃথিবীর মুসলমান ও অমুসলমান ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞগণ সর্বসম্মত ভাবে মতামত দিয়েছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগীর পক্ষে রোজা রাখা ক্ষতিকর হবে। কুরআন শরীফেও রোগাক্রান্তদের রোজা রাখা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে (সুরা আল বাকারা ঃ আয়াত ১৮৩- ১৮৫) আর অন্য যে কোন ধরনের অসুখের চেয়ে ডায়বেটিস নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণের সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত। ডায়াবেটিক রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। তারপরও কিছু কিছু ডায়াবেটিক রোগী রমজান মাসে রোজা রাখতে জেদ করেন। কোন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডায়বেটিক রোগীকে রোজা রাখার পরামর্শ দিবেন না। কিন্তু কোন ডায়বেটিক রোগী যদি ধর্মীয় প্রচন্ড আগ্রহের কারণে রোজা রাখতে চান তবে তাকে নিষেধ করাও কারো পক্ষে সম্ভব না। এখানে আমরা ডায়াবেটিক রোগীর রোজা রাখার কারণে যে সব সমস্যা হতে পারে এবং তা থেকে যতটা সম্ভব সতর্ক থাকার পদ্ধতি আলোচনা করব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শাহজাদা সেলিম বলেন,  রোজা রাখার সময় ডায়বেটিক রোগী ঝুঁকির থাকে। তার মধ্যেরক্তের গ্লুুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া।  টাইপ ১ ডায়বেটিক রোগীর ক্ষেত্রে এরূপ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হবার সম্ভবনা ৪.৭ গুন এবং টাইপ ২ ডায়বেটিকের ক্ষেত্রে ৭.৫ গুন বেশি।

রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। রোজা রাখার কারণে টাইপ ১ ও টাইপ ২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাবার কিছুটা ঝুকিঁ থাকে। তবে টাইপ ১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে তা মারাতœক হতে পারে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এ থেকে জীবন নাশের ঘটনাও ঘটতে পারে।

করনীয় বিষয় সমূহ হল :

প্রত্যেক রোজাদার ডায়াবেটিক রোগীর অবস্থা তার স্বাতন্ত্রসহ বিবেচনা করতে হবে। ঘণ ঘণ রক্তের গ্লুুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। প্রতিদিন বেশ ক’বার (কম পক্ষে তিন বার) রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। শেষ ভাগে অবশ্যই রক্তের গ্লুুকোজ দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর টাইপ ১ ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সাথে রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রতিদিনের খাদ্যের পুষ্টিমান অন্যান্য সময়ের মতই রাখার চেষ্টা করতে হবে। স্বাভাবিক দৈহিক ওজন ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা যায় ২০%-২৫% ডায়াবেটিক রোগীর দৈহিক ওজন কমে বা বাড়ে। ইফতারে চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং তেলে ভাজা খাবার গ্রহণ করা হতে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। কেননা এসব হজম হতে সময় লাগবে। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীর ইফতারের পর পরই যত দ্রুত সম্ভব রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য জটিল শর্করা জাতীয় খাবার সেহরীর সময় খেতে হবে। আর ইফতারীতে সহজ পাচ্য খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। সেহরীর খাবার নির্ধারিত সময় শেষ হবার ঠিক পূর্বে খেতে হবে এবং তারপর প্রচুর পানি পান করা বাঞ্চনীয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

অতিরিক্ত চা পানের বাড়ে হৃদরোগ!

ডেস্ক প্রতিবেদন: ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গরম চা না খেলে ঘুমটা যেন কাটতেই চায় না! সারাদিনে একবারও চা খান না, এমন মানুষের সংখ্যাটা খুব কম। আবার এমনও...

প্রতিদিনের খাবারে মাছ!

অনলাইন ডেস্ক: প্রবাদ আছে, মাছে-ভাতে বাঙালি। বাঙালির খাবার পাতে গরম ভাতের সঙ্গে মাছের কোনো তরকারি না থাকলে খাবার জমে না যেন। তবে কেউ কেউ আবার...

বসন্তে সুস্থ রাখবে যেসব খাবার

ডেস্ক প্রতিবেদন: ঋতু পরিক্রমায় চলে এসেছে বসন্ত। বসন্তের খামখেয়ালিতে সুস্থ থাকাই দায়। অন্যদিকে এই সময়টা এলেই ঘোরাফেরা করে ভাইরাস আর...

জ্বরের পর খাবারের স্বাদ ফেরাতে!

ডেস্ক প্রতিবেদন: শীতকাল শেষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ঠান্ডা-গরমে ঘরে ঘরে জ্বর-জ্বালা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আর সঙ্গে...

পেটে মেদ বাড়ার ৬ কারণ

অনলাইন ডেস্ক: মানব দেহে সব থেকে তাড়াতাড়ি মেদ জমে পেটে। পেটের বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে এই ‘ফ্যাট’ জমে, যার থেকে সৃষ্টি হয় নানা রোগের।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is