ঢাকা, বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮, ৭ ভাদ্র ১৪২৫

2018-08-21

, ৯ জিলহজ্জ ১৪৩৯

ঘুরে আসুন মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক

প্রকাশিত: ০১:২১ , ১৮ মে ২০১৮ আপডেট: ০১:২১ , ১৮ মে ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: লেক, পাহাড় ও ঝর্ণা যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্য  বাংলাদেশ একটি অন্যতম সুন্দর পর্যটনস্থান। শহরের কোলাহল ছেড়ে একদিনের জন্য ঘুরে আসুন পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে। এমনই একটি সুন্দর জায়গা হচ্ছে মহামায়া কৃত্রিম লেক ।

অবস্থান:
মহামায়া লেক মূলত এটি একটি সেচ প্রকল্প। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পরে বাংলাদেশের  অন্যতম লেক এটি। এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশদ্বার মিরসরাই এর ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।  

মহামায়া প্রকল্পে রয়েছে লেক, পাহাড়, ঝর্ণা ও রাবার ড্যাম। মহামায়া লেকের আয়তন হলো প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার।  

যা দেখবেন:
পাহাড়ের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা লেকটি দেখতে অপরূপ সুন্দর। ছোট বড় অসংখ্যা পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই মহামায়া লেক। এই লেকের অন্যতম আর্কষণ হচ্ছে পাহাড়ি ঝর্ণা এবং এর স্বচ্ছ পানি। এর জলাধারের চারপাশে দেখলে মনে হবে সবুজের চাদর বিছানো। মনে হবে যেন কোনো এক শিল্পীর সুনিপুণ ছবি।

মহামায়া লেকের নীল জলরাশিতে আপনি ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেখতে পাবেন। এই নৌকায় পরিবার পরিজন নিয়ে আপনি লেকের স্বচ্ছ পানিতে ঘুরতে পারেন এবং হারিয়ে যেতে পারেন লেকের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে।

নৌকা ভ্রমণে খরচ হতে পারে ৫০০-১০০০ টাকা এবং জনপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা।

নৌকাতে বসে মহামায়া লেকের চারপাশের পাহাড় ও বিশাল জলরাশি আপনাদের মুগ্ধ করে তুলবে। বিকেল বেলা সূর্য যখন অন্তিম নীলিমায় ডুবে যায় তখন লেকের পরিবেশটি খুবই চমৎকার লাগে।

পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিকের জন্য মহামায়া লেক দারুণ একটি স্থান। আপনি চাইলে এখানে রান্নাবান্না করেও খেতে পারবেন। লেকের পাড়ের বিশাল ভূমিতে  চাইলে ছোট বড় সবাই মিলে বিভিন্ন খেলারও আয়োজন করতে পারেন।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার অনেক বাস আছে। এসি বা নন এসি যে কোনো বাসে আপনি মিরসরাই বাজার পৌঁছাবেন। সেখান থেকে রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশাতে আপনি মহামায়া লেকে যেতে পারবেন।

তবে ভাড়ার বিষয়টি আগে কথা বলে নিলে ভালো হয়। ঢাকা থেকে যদি মহামায়া লেক দেখতে আসেন তাহলে রাতের গাড়িতে উঠলে সকাল বেলায় মহামায়া দেখে বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে থাকতে পারবেন বা চট্টগ্রাম শহরটা ঘুরে রাতে ট্রেন বা বাসে করে চলে যেতে পারবেন। মহামায়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে যেতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মতো।  

খাবার ও থাকা:
মহামায়া লেকে যাওয়ার আগে সঙ্গে করে খাবার নিয়ে গেলে ভালো হবে। নতুবা  মিরসরাই বাজারে বেশ কিছু হোটেল আছে সেখান থেকে খাবার খেয়ে বা প্যাকেটে করে নিয়ে যেতে পারেন। মহামায়া লেকের আশপাশে থাকার মতো তেমন ভালো মানের কোনো হোটেল নেই। তবে মিরসরাই বারৈয়ারহাটে কিছু হোটেল আছে থাকার মতো। চাইলে চট্টগ্রাম শহরে এসে থাকতে পারবেন। শহরের জিওসি মোড়, লাভলেইন, নিউমার্কেট, স্টেশন রোডে বেশ কিছু মানসম্পন্ন হোটেল আছে।

লেকে নামার সতর্কতা:
আপনি সাঁতার না জানলে অবশ্যই লেকের পানিতে নামবেন না। নৌকায় করে লেকে ঘুরলে নৌকার ভিতর বসেই প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করবেন। লেকের পানিতে অপচনশীল বা বোতলজাত দ্রব্য ফেলবেন না। নিজের ক্যামেরাটি নিয়ে যাবেন তাহলে লেকের বেশ কিছু সুন্দর ছবি আপনি ক্যামেরাবন্দি করতে পারবেন।

পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একটু প্রশান্তির জন্য ঘুরে আসতে পারেন মিরসরাই মহামায়া লেক ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঈদযাত্রায় বরিশালে চলছে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি

বরিশাল প্রতিনিধি: ঈদ উপলক্ষ্যে বরিশাল থেকে লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। ৭ আগস্ট থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এদিকে,...

ঘুরে আসুন মহাস্থানগড়,মুগ্ধ হবেন 

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো জনবসতির ধ্বংসাবশেষ মহাস্থানগড়। প্রাচীন সভ্যতার এই স্থানটি একসময় ছিল বাংলার রাজধানী। তখন...

ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হলো ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি। পাঁচ দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় দেড় লাখ টিকেট বিক্রি করা...

ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র বরিশালের ‘বাইতুল আমান মসজিদ’

ডেস্ক প্রতিবেদন: বায়তুল আমান জামে মসজিদ। বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত। আধুনিক কারুকাজে নির্মিত মসজিদটি...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is