ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-25

, ১৪ মহাররম ১৪৪০

লাঠি যেখানে নারীদের রক্ষাকবচ

প্রকাশিত: ১০:৫০ , ১৩ জুন ২০১৮ আপডেট: ১০:৫০ , ১৩ জুন ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: ইথিওপিয়ার ওরোমো জাতিগোষ্ঠীর নারীরা নিজের রক্ষাকবচ এই লাঠি হাতে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরছে আর নিজেদের ভাষায় গান গাইছে। মুখ দিয়ে বিচিত্র এক শব্দ করছে। মাঝখানে একজন মহিলা বসে আছেন।  এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে বহু পুরনো ইতিহাস। 

ওরোমো নারীদের যখন বিয়ে হয় তখন তারা এই কাঠের লাঠিটা পেয়ে থাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। সিনকিউ নামের এই লাঠি কে ওই নারী এবং তার পরিবারের রক্ষার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। 

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন "এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত নারীকে অপমান, বা কোন ধরণের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ"। বিষয়টা আসলে কেমন হয় সেটা বোঝাতে পূর্বপরিকল্পিত একটা পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে।
এখানে দেখানো হচ্ছে, একজন পুরুষ লাঠি হাতে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকছে, উদ্দেশ্য তার স্ত্রীকে মারবেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে মহিলাটি তার শিশুকে কোলে নিয়ে হাতে সেই সিনকিউ নিয়ে বের হয়ে আসছেন। আর মুখে উচ্চারণ করছেন এই শব্দ। এই শব্দ করার উদ্দেশ্য যাতে করে আশেপাশের অন্যান্য নারীরাও জানতে পারে যে তার উপর নির্যাতন হয়েছে। 

সাথে সাথে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নারী রয়েছেন তারা তাদের সিনকিউ নিয়ে দৌড়ে চলে আসলেন। মহিলাটা মাঝখানে বসে পরলেন। আর তাকে ঘিরে এই নারীরা ঘুরতে থাকলো- যেন তাকে রক্ষা করা হচ্ছে সব বিপদ থেকে।  ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীদের জন্য প্রাচীন যে গাডা ব্যবস্থা আছে তার একটি অংশ এই সিনকিউ।

ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ, সারা ডুবে বলছিলেন "যখন এই গাডা সিস্টেম চালু করা হয় তখন পুরুষদেরকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়া হত যাতে করে তারা পশু শিকার করতে পারে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারে"। তিনি আরও বলছিলেন "মেয়েদের হাতে দেয়া হয় সিনকিউ, যাতে তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে পারে"।

এদিকে নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য। চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন "তাকে মারা মোটেই উচিত হয় নি। তার স্বামীর বিচার না করা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না"। 

শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শোনালেন। রায় অনুযায়ী মহিলার স্বামী সবার সামনে ওই নারীর কাছে মাফ চাইলেন। একই সাথে সবার সামনেই প্রতিজ্ঞা করলেন, আর কখনো তাকে মারবেন না। রায়ে আরও বলা হল, যদি সে এর ব্যতিক্রম করে তার জন্য ভবিষ্যতে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন "নারীরা কখনো এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলেন না"।

এই বিভাগের আরো খবর

নিজেই বানান ফরেস্ট কেক

ডেস্ক প্রতিবেদন:  ব্লাক ফরেস্ট কেকের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু হোয়াইট ক্রিম ও ভ্যানিলা দিয়ে তৈরি হোয়াইট ফরেস্ট কেকও যেকোন উৎসবে...

মেকআপের ফাউন্ডেশন কিনবেন যেভাবে

ডেস্ক প্রতিবেদন: মেকআপের প্রধান সামগ্রি ফাউন্ডেশন। দোকানে বসে মিলিয়ে কিনলেও বাসায় এসে দেখেন মুখের শেডের সাথে মিলছে না। জেনে নিন ফাউন্ডেশন...

কীভাবে বানাবেন ঝাল দই বেগুন

ডেস্ক প্রতিবেদন: বেগুন খেতে যারা পছন্দ করেন তারা মজাদার দই বেগুন রান্না করে ফেলতে পারেন। পোলাও, লুচি, পরোটা কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে পারবেন...

গলায় মাছের কাঁটা?

ডেস্ক প্রতিবেদন: অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে খাবার সময় গলায় মাছের কাঁটা ফুটে যায়। আর তারপরই শুরু হয় যত বিপত্তি। গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে অসম্ভব...

কাল পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। নফল রোজা, নামাজ, জিকির-দোয়া মাহফিলের ভেতর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is