ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

2018-07-19

, ৬ জিলকদ্দ ১৪৩৯

আবারও চীনের মহাকাশ স্টেশন আছড়ে পড়বে পৃথিবীতে!

প্রকাশিত: ১১:৩১ , ২৮ জুন ২০১৮ আপডেট: ১১:৩১ , ২৮ জুন ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: মাত্র তিন মাস আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।

চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।

‘তিয়ানগং-২’ এর  ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।

স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’

‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।


মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।

সূত্র : ডেইলি মেইল

এই বিভাগের আরো খবর

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ জুলাইয়ে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: আগামী জুলাই মাসেই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে ২৭...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is