ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

2019-07-22

, ১৯ জিলকদ ১৪৪০

কোচবিহারে পৈতৃক বাড়িতে এরশাদ: তিস্তার পানি দাবি

প্রকাশিত: ০১:০৮ , ২৪ এপ্রিল ২০১৭ আপডেট: ০১:০৮ , ২৪ এপ্রিল ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে গতকাল রোববার ভারতে পৌঁছে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তিস্তার পানি দাবি করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেই তিস্তার পানি বাংলাদেশকে দিতে পারেন বলে মনে করেন এরশাদ।

রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় পৈতৃক বাড়িতে সাংবাদিকদের এরশাদ বলেন, ‘তোর্সা নয়, আমরা তিস্তার পানি চাই।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক চেষ্টায় তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ । তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে।’ এরশাদ বলেন, বাংলাদেশ সফরে গিয়ে মোদি বলেছিলেন, বাতাস, পাখি ও নদীর পানির কোনো সীমানা নেই।

মোদির ওই মন্তব্যের ওপর এখনো ভরসা আছে বলে জানান এরশাদ। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে মোদি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন বলেও আশা করেন জাপা চেয়ারম্যান।

এরশাদ বলেন, ‘তোর্সা কোচবিহারের নদী। তোর্সার পানি চাই না। আমরা চাই তিস্তার পানি। মোদির সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। তিনি তিস্তার পানি দিতে পারেন।’

এরশাদ আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাল অবস্থায় রয়েছেন। আশা করছি, তিস্তার পানি সমস্যা মিটে যাবে।

তিস্তার সমস্যা মেটাতে তোর্সাসহ কয়েকটি নদীর পানিবণ্টনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরের সময় এই প্রস্তাব দেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাব কোনো দেশই আমলে নেয়নি। বরং, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাল্টা প্রস্তাব মমতাকে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা তোর্সার পানি তিস্তায় দেয়ার প্রস্তাব করেন।

রোববার সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত পেরিয়ে কোচবিহারের দিনহাটায় পৌঁছেন। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে চ্যাংরাবান্ধার নাগরিক সংগঠন ‘সৃজন’র পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়ে তাঁর হাতে চিঠি দিয়ে দু’দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা হলদিবাড়ি-চিলাহাটি, চ্যাংরাবান্ধা-লালমনিরহাট ও গীতালদহ-মোগলহাটের মধ্যে পুনরায় ট্রেন চালুর জন্য উদ্যোগী হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সৃজন-এর সম্পাদক সুনির্মল গুহ বলেন, একসময় মুহম্মদ এরশাদ কোচবিহারের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে দু’দেশের মধ্যে ঝুলেথাকা সমস্যা মেটানোর জন্য সেতুবন্ধনের কাজ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

দিনহাটার পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, জন্মভিটেয় ফিরে আনন্দ হচ্ছে। বাবামায়ের কথা মনে পড়ছে। এরশাদ বলেন, এখান থেকেই ম্যাট্রিক পাস করেছি। তাঁর স্কুল দিনহাটা হাই স্কুলকে উপহার দেওয়ার জন্য তিনি একটি কবিতা লিখে এনেছেন বলে জানান। তিনি স্মৃতি রোমন্থন করে জানান, দিনহাটা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেলে চেপে কোচবিহার যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাইপো জাকারিয়া হোসেনের ছেলের অন্নপ্রাশন উপলক্ষে দিনহাটায় আসেন। মঙ্গলবার ভাইপোর ছেলের অন্নপ্রাশন।

এরশাদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসেন তাঁর ছোট ছেলে এরিক, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ ৮ জন।
ভাইপোর বাড়িতে পৌঁছে তিনি ডাল, ছোট মাছ, মুরগির মাংস, দই, মিষ্টি দিয়ে দুপুরের খাবার খান।

২৫ এপ্রিল তিনি ডুয়াসের মাতাবাড়ি যাবেন। ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ফিরবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় সরকার প্রধান বাধা : ফখরুল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় সরকার প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is