ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫

2018-12-16

, ৭ রবিউস সানি ১৪৪০

‘কোরীয় যুদ্ধের’ সমাপ্তির ঘোষণা শিগগিরই

প্রকাশিত: ০৪:৫১ , ১২ অক্টোবর ২০১৮ আপডেট: ০৪:৫১ , ১২ অক্টোবর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘কোরীয় যুদ্ধের’ আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা শিগগিরই আসছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হতে ‘কেবল সময়ের অপেক্ষা’।

চলতি সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, মুন ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে দ্রুত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন।   

১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা ওই লড়াই অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শেষ হলেও যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। চলতি বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠকের পর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা বাড়ে।
দক্ষিণের এ প্রেসিডেন্টই গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছেন। 

উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণে শরণার্থী হয়ে আসা পরিবারের সন্তান মুন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিমকে ‘অকপট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক আলোচনায় স্থবিরতা দেখা দিলে ইউরোপীয় নেতারা এগিয়ে আসবেন বলেও মন্তব্য করেন তিরি।

চলতি বছরেই তিনবার দেখা হওয়া কিম জং উনকে পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াতে কূটনৈতিক ‘বাধা ও দাগ’ পেরুতে হবে বলেও মত তার।
কোরীয় যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিতে ট্রাম্প ও শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘দীর্ঘ আলোচনা’ হয়েছে বলেও জানান দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘উত্তর কোরিয়া যদি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুদ্ধ শেষের ঘোষণাটি রাজনৈতিক বিবৃতিতে পরিণত হবে; যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে চলে আসা দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটবে,” 

যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বোঝাপড়া আছে বলেও জানান গত মাসে উত্তরের জনগণের সামনে প্রথম ভাষণ দেওয়া দক্ষিণের এ প্রেসিডেন্ট।

পিয়ংইয়ংয়ের বৃহৎ ক্রীড়াশৈলী আরিরাং গেমসে দেওয়া ওই ভাষণের সময় উপস্থিত দেড় লাখ উত্তর কোরীয় দাঁড়িয়ে মুনকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন।
মুন বলেন “ভাষণ দেওয়ার সময় আমি খানিকটা নার্ভাস ছিলাম। আমাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে বলতে হত, উত্তর কোরিয়ার জনগণের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে হত। কোরীয় জনগণ ও বিশ্বের মানুষকেও সন্তুষ্ট করতে হত। সে কারণেই কাজটি মোটেও সহজ ছিল না।” 

ভাষণে উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি বলেও জানান দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট।

“ভাষণের আগে তিনি এমনকী জানতেও চাননি আমি কি বলতে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, উত্তর কোরিয়ায় যে পরিবর্তন ঘটছে, এটা তারই প্রমাণ।”
যুদ্ধ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা ধরতে পারেন বলেই কোরীয় উপদ্বীপে যেন আর যুদ্ধ ফিরে না আসে, তার জন্য কাজ করে যেতেই দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বলেও মন্তব্য মুনের।

যুদ্ধের সময়ই ১৯৫৩ সালে তার বাবা-মা উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণে চলে এসেছিলেন, এরপর আর কখনোই পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়নি তাদের।
 

এই বিভাগের আরো খবর

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে সাইক্লোন ওয়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ সাইক্লোন ওয়েন। ওই অঞ্চল জুড়ে আকস্মিক বন্যা ও প্লাবনের...

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলো অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক দশকের মধ্যপ্রাচ্যনীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছে...

রাফায়েল যুদ্ধ বিমান ক্রয়, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত সুপ্রিম কোর্ট খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কেনার বিষয়ে তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is