ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-22

, ১৭ রমজান ১৪৪০

তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ 

প্রকাশিত: ১০:০৩ , ১৬ অক্টোবর ২০১৮ আপডেট: ১০:০৩ , ১৬ অক্টোবর ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। শুধু ইতিহাস আর ঐতিহ্যেই নয়, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জনপদের নাম পঞ্চগড়। শীতপ্রবণ এ জেলার তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। চোখের কাছে ভেসে থাকা হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য আপনার মন কেড়ে নিবে। 

বাংলাদেশ-ভারতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সীমান্ত নদী মহানন্দায় সূর্যাস্ত দর্শন, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠা সবুজের নৈসর্গ চা বাগানসহ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর পঞ্চগড়। এসবে যেন স্বর্গীয় অনুভূতি। মোগল আমলের স্থাপত্য মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বার আউলিয়ার মাজার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বদেশ্বরী মন্দির, পাথরসমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, প্রাচীন ডাকবাংলো, পিকনিক কর্নার, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের আনন্দ ধারা, শিশুপার্ক, নদী থেকে পাথর উত্তোলন দেখলে পর্যটকদের চোখ জুড়িয়ে যাবে।

প্রচুর টাকা ব্যয় করে চীনের তিব্বত, নেপাল বা ভারতে গিয়ে নয়, ভাগ্য ভালো থাকলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকেই আপনি খালি চোখে দেখতে পাবেন হিমালয় পর্বত আর ভারতের কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত দুই বছর থেকে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা মিলছে হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঋতুবৈচিত্র্যের শীতের মেঘমুক্ত নীলাকাশে ভেসে ওঠে তুষারশুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।

হিমালয়ের পাহাড়ের বরফশুভ্র গায়ে সূর্যের আলো পড়লে চকচকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার একাধিক রূপ দেখা যায়। এ দৃশ্য দেখার জন্য দুরবিন বা বাইনোকুলার সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে না। দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে খালি চোখে দেখতে পারেন প্রকৃতির এসব অপরূপ দৃশ্য। মোহনীয় এ দৃশ্য দেখতেই দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এ সময়ে তেঁতুলিয়ায় ভিড় করতে শুরু করেছেন। কেউ একাকী, কেউ বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন এ মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দর্শনের জন্য। 

দিনের আলো শেষে সীমান্তের কাঁটাতার-ঘেঁষা ভারতের সার্চলাইটের আলো, শিলিগুড়ি শহরের নিয়নবাতি, মহানন্দা নদীর পানির কুল কুল শব্দ পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হওয়ায় প্রতিদিনই তেঁতুলিয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতিপেমীদের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় পর্যটকদের অপূর্ণতা নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। আবাসন সুবিধা না থাকায় রাতযাপনের জন্য বাংলাবান্ধা-তেঁতুলিয়া থেকে ফিরে যেতে হয় ৬০ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় শহরে। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন, হতাশ হচ্ছেন দেশ-বিদেশের সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা। 

ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধা এবং বাংলাবান্ধা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসতে পারেন। সৈয়দপুর থেকে বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারে করে যেতে পারেন বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। এভাবে উপভোগ করতে পারেন পঞ্চগড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

এই বিভাগের আরো খবর

জামালপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বোরো ধান।  বিশেষ করে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ এবং হাইব্রিড জাতের ধানের শীষ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is