ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর সমস্যা ও সমাধান আপডেট: ০৯:০৭, ২৭ এপ্রিল ২০১৭

।। মো. তারিকুজ্জামান রেজা ।। 

বাংলাদেশ ও ভারত দুটি বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে বাঁধা। ১৯৪৭ সালে দুটি ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে অপরিকল্পিতভাবে হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের সেই পাকিস্তানের ঘোর কাটতে সময় লাগেনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, সর্বশেষ ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে যা শেষ হয়। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় বিশ হাজার সদস্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। ভারত সরকার এক কোটি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে তাদের ভূখণ্ডের মধ্যে আশ্রয় দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ও অস্ত্রও দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এটি কখনওই বিস্মৃত হতে পারি না। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব যেমন ঐতিহাসিক তেমনি কিছু বৈপরীত্য অনস্বীকার্য।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে-সকল সমস্যা বিদ্যমান তার মধ্যে প্রধান হল যৌথ নদীসমূহের জলবণ্টন। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর ৫৪টি এসেছে ভারতের মধ্যে দিয়ে, তিনটি এসেছে মায়ানমার থেকে। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হিসাবে নদীসমূহের জলের ন্যায্য হিস্যার দাবিদার, কিন্তু উৎসমুখে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না-হওয়ায় হিমালয়ে পর্যাপ্ত বরফ জমে না। বরফ কম গলায় বাংলাদেশের ভাগ্যে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় জল জুটছে না। এটাকে পুঁজি করে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী একটি গোষ্ঠী ভারত-বিরোধী প্রচারের পালে হাওয়া লাগিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে। তারা এটা বলে না যে, শুধু ভারতের ফরাক্কা বাঁধের কারণেই বাংলাদেশের ক্ষতি হয়নি, সারা দেশে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণের কারণেও আমাদের নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর ফরাক্কা বাঁধ নির্মাণ শুরুর হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে ভারতের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্যই চীন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেইমতো সামরিক শাসক আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরই চীন তাঁকে সেদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ১৯৫৯ সালে চীন সফরকালে আইয়ুব খানকে বোঝানো হয় ভৌগোলিক কারণেই পূর্ব পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে ভারত-বিরোধী হিসাবে তৈরি করতে হবে। আর এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জলসংকটের দায়ভার ভারতের কাঁধে চাপানোর চক্রান্ত শুরু করে।

এ দেশের জনগোষ্ঠীকে ভারত-বিরোধী করার জন্য বন্যানিয়ন্ত্রণের নামে দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও ছোট-বড় শাখানদী সমূহে, খালে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিমভাবে জলসংকট সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। যার প্রভাবে ইতিমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ নদী-খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে। পটুয়াখালির রামনাবাঁধ চ্যানেলে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণ শুরু হলেও কাজ শেষ হতে হতে এটি অচল হয়ে পড়বে। শুধু ড্রেজিং করে এই সমুদ্রবন্দরটিকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। এর প্রধান কারণ, রামনাবাঁধ চ্যানেলের মাত্র কয়েক কিমি উজানে আগুনমুখো মোহানায় সাতটি বড় বড় নদীর পাঁচটিতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জালের মতো বিস্তৃত বৃহত্তর বরিশাল-পটুয়াখালির ছোট-বড় নদী ও শাখানদীগুলোতেও বাঁধ দেওয়া হয়েছে। যার প্রভাবে এক সময় যেখানে বরিশাল-পটুয়াখালি অঞ্চলে স্টিমার ছাড়া চলাচল করা সম্ভব ছিল না, সেই প্রধান নদীগুলো ভরাট হওয়ার কারণে বরিশাল-পটুয়াখালিতেই লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পথে। বর্ষাকালে লঞ্চ যোগাযোগ ঠিক থাকলেও প্রতি বছর ড্রেজিং না-করলে শুখা মরশুমে ঢাকা বরিশাল-পটুয়াখালি-গলাচিপা লঞ্চ যোগ বন্ধ হয়ে যায়। এখন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ নদীতেই শুখা মরশুমে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে লঞ্চ চলাচল করে।

দক্ষিণাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে বন্যানিয়ন্ত্রণ ভেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে ছোট-বড় নদী-খাল বাঁধ দিয়ে মেরে ফেলা এর প্রধান কারণ। ঢাকা শহরে এক সময় ছোট-বড় ৪৬টি ক্যানেল বা খাল ছিল। এখন আর নেই। সব বাঁধ দিয়ে ভরাট করে দখল করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তোবা বিশ্বাসও করবে না—ঢাকা শহরে এতগুলো খাল ছিল! বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল, হাওর বাঁওড়-বিল ভরাট হওয়ার জন্য ফরাক্কা ও তিস্তা ব্যারেজ শতকরা বিশভাগ দায়ী হলে আশিভাগ ক্ষতির জন্য দায়ী সারা দেশে অপরিকল্পিত ভেড়িবাঁধ, স্লুইজ গেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কারণে। পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা এবং ভারতের কাছ থেকে নদীজলের ‘ন্যায্য’ হিস্যার দাবিদার চীন এসব কথা বলে না। তাঁরা সব কিছুর জন্যই ভারতকে দায়ী করছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য ভারতকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। না হলে নেপালে যেভাবে ভারতের কূটনীতি মার খেয়েছে, সেভাবে বাংলাদেশেও ভারত তার পলিসিতে মার খাবে। নেপালের সাধারণ মানুষ ভারত থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিলেও শুধু সঠিক ডিপ্লোমেসির অভাবে তারা আজ চরম ভারত-বিরোধী। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান ছিটমহল, সীমান্ত ও সমুদ্রসীমার বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে সমাধান হওয়ায় জনমনে আশার সঞ্চার হয়েছে। তিস্তার জলবণ্টন, সীমান্তে মানুষ হত্যাসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান হবে অচিরেই।

নদী হচ্ছে প্রকৃতি, প্রকৃতি কখনওই শাসিত হতে পারে না। কিন্তু, আমরা যুগ যুগ ধরে নদীকে শাসন করতে গিয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমি কোনও প্রযুক্তিবিদ বা বিশেষজ্ঞ নই। নদী নিয়ে দীর্ঘকাল আন্দোলন করতে গিয়ে নদীর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে যা বুঝেছি, তাতে আমার কাছে এটাই মনে হয়েছে। এই সংক্রান্ত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় (ভারত-বাংলাদেশ) গোড়া থেকে এই যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ‘নদী শাসন’—এটাই দু’দেশের নদীর জলের সমস্যার মূল কারণ। নদী শাসনের নামে নদীতে বাঁধ-ব্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা নদীর ভালো-মন্দের বিচার না-করে স্রোতধারার মধ্যে পিলার দিয়ে নদীগুলিতে চর সৃষ্টির বন্দোবস্ত করেছি। অর্থাৎ জলপ্রবাহে মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলি আমাদের নদীগুলি ভরাট হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। মিঠা ও বিশুদ্ধ জল প্রাণীকুলের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান। সেই জল যখন পাওয়া যাবে না তখন জীববৈচিত্র ধ্বংস হতে বাধ্য। জল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যেমন সমস্যা আছে, তেমনি ভারতের রাজ্যে রাজ্যে বিরোধও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের যা সমস্যা, ভারতের জন্যও একই। ধরা যাক ‘ফরাক্কা’র মতো অভিশাপটা কি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা? মোটেও নয়। ফরাক্কার কারণের ভাটিতে বাংলাদেশের পদ্মা, গড়াই, মধুমতি, কুমার, চিত্রা, নবকঙ্গা, কালীগঙ্গা, আরিয়াল খাল ভরাটের জন্য অনেকটা দায়ী। তেমনি এসব নদীর সঙ্গে সংযোগকারী ছোট-বড় শাখানদী ও জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণও ভরাট হওয়ার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী। ফরাক্কার কারণে আমাদের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি উজানে গঙ্গা ও তার শাখাসমূহ আরও প্রকটভাবে ভরাট হয়েছে। এখন বন্যার সমস্যায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতও আক্রান্ত হচ্ছে এবং তার ভয়াবহতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার প্রধান কারণ, নদীতে বর্ষাকালে যে প্রবাহ বাড়ে, ভরাট হয়ে যাওয়া নদী সেই অতিরিক্ত জল সাগরে টেনে নিয়ে যেতে পারে না। আর জল তার ধর্ম অনুযায়ী তখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। আবার ওই সময়ে সাগরে অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে সাগরও ওই জল ধারণ করতে পারে না। তখন বন্যা দীর্ঘ স্থায়িত্ব পায়।

আবার বর্ষার শুরুতে ও শেষে নদী ভাঙন দেখা দেয়। যার কারণও নদীর জল টেনে নেওয়ার মতো ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হওয়া নদী ভাঙনের মূল কারণ। প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবার তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়। ঝড়-ঝঞ্ঝায় মানুষের ঘর-বাড়ি ভেঙে গেলেও ভিটেমাটিটুকু সহায় হিসাবে থেকে যায়। কিন্তু, নদী ভাঙনে মানুষ সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যায়। যার ভয়াবহতা শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরাই বোঝেন।

এখন দেখা যাক নদীতে জল না থাকার অন্য কারণগুলি। আমাদের যৌথ নদীগুলির উৎপত্তিস্থল হিমালয়। শুখা মরশুমে নদীতে আমরা যে জল পাই তা মূলত হিমালয়ের বরফগলা। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বরফ আগের মতো জমে না। বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয় পর্যন্ত বনাঞ্চল মানুষ ঘরবাড়ি, জ্বালানি এবং আসবাবপত্রের প্রয়োজনে প্রায় উজাড় করে ফেলেছে। তার ফলে পাহাড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় না ও বরফ জমে না। স্বভাবতই জলের প্রবাহ কমে আসছে।
এখন নদীর নাব্যতা তথা স্রোতধারা অব্যাহত রাখতে না পারলে ভারতীয় উপমহাদেশে যে সর্বনাশ ধেয়ে আসছে, আমরা সেদিকে দৃষ্টি দেব, না এ নিয়ে রাজনীতি করব? প্রাণীকুলের অস্তিত্ব নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হবে। সকল সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হতে হবে প্রাণী হিসাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা। তার জন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ মিষ্টি জল। নদীর জলের বিকল্প হিসাবে যদি ভূগর্ভস্থ জলকে কেউ চিন্তা করেন তাহলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও ভাবতে হবে। ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার আর্সেনিকসহ নানা উপসর্গ টেনে আনছে। ওইসঙ্গে ভূমিধ্বংসের পথও ত্বরান্বিত হচ্ছে। নাব্যতা রক্ষা করতে নদীর জলপ্রবাহ বর্ষা:শুষ্ক = ৬:১। অর্থাৎ বর্ষায় নদীগুলো দিয়ে যে পরিমাণ জল সাগরে যায় তার ৬ ভাগের ১ ভাগ জল শুখা মরশুমে নদীতে থাকতে হবে।
সমস্যা চিহ্নিত করতে পারলে সমাধানও সহজ হয়ে যায় যদি সদিচ্ছা থাকে।

প্রথম সমস্যা প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ অর্থাৎ ‘নদী শাসন নীতি’। দ্বিতীয় সমস্যা নদীর মধ্যে বাঁধ-ব্যারেজ নির্মাণ। তৃতীয়ত ব্রিজ নির্মাণে স্রোতধারার মাঝে খুঁটি। চতুর্থত বা সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে হিমালয়ে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও বরফ না-জমা।

এখন সমাধান কী হতে পারে? সমস্যা আমরা তৈরি করেছি, সমাধানের পথও আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে।

নদীকে শাসন করার চেষ্টা বাদ দিয়ে প্রকৃতিকে তার মতো চলতে দিতে হবে। নদীর মধ্যে থেকে সকল বাঁধ-ব্যারেজ তুলে ফেলতে হবে। ব্রিজ নির্মাণের ঝুলন্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। যেসব স্থানে কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণের জন্য নদীগুলোকে ছোট করে ফেলা হয়েছে তা ভেঙে বড় করতে হবে। সম্ভব না-হলে খুঁটি যত কম দেওয়া যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যেসব ব্রিজ নির্মিত হয়েছে তার দু’পাশে সার্বক্ষণিক ড্রেজিং চালু রাখতে হবে। যাতে নদীর মধ্যে চর সৃষ্টি না হয়। ভারত-বাংলাদেশের সব নদী খননের বা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত জল ধারণের উপযুক্ত করে (গভীরতা ও প্রশস্ততার বিচারে) তুলতে হবে। সারা দেশে নদীশাখাগুলিতে যে অপরিকল্পিত বাঁধ দেওয়া হয়েছে তা ভেঙে দিতে হবে এবং সেগুলোকে স্কেভেটর দিয়ে ম্যানুয়াল ড্রেজিং করে এরপরে ড্রেজার দিয়ে সমান করতে হবে। ভরাট হওয়া অনেক নদীতে উজান থেকে উন্নতমানের বালি আসে। খরচ কমাতে এ ক্ষেত্রে বালি ব্যবসায়ীদের বালি উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন নদীর এলাকা চিহ্নিত করা যেতে পারে।

উভয় দেশের বনায়ন বাড়াতে হবে যাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ে। এবার আসা যাক আসল জায়গায়। চাইলেই আমরা বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। কারণ, মানুষের প্রয়োজনে যন্ত্রের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়বে বই কমবে না। তাই বর্ষার জলপ্রবাহের সঙ্গে আনুপাতিক হারে, অর্থাৎ বর্ষায় নদী দিয়ে সাগরে যে পরিমাণ জল যায় তার ৬ ভাগের ১ ভাগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে শুখা মরশুমের জন্যও। এবং, সেটা সম্ভব বর্ষার জল আটকে রাখার মাধ্যমে। এর জন্য ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে রিজার্ভার তৈরি করা দরকার। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলিও তাদের নিজ নিজ নিম্নভূমি অর্থাৎ হাওড়, বাঁওড়, বিলসমূহকে অভ্যন্তরীণ রিজার্ভার হিসাবে গড়ে তুলতে পারে। উল্লেখ্য, নদীগুলিতে একবার ড্রেজিংয়ের পর যদি শুখা মরশুমে উল্লেখিত অনুপাতে (৬:১) জল সরবরাহ করা যায় তাহলে নাব্যতা হারানোর ভয় থাকবে না।

লেখক: বাংলাদেশের নদী সংস্কার পানি শাসন ও ব্যবহার উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক

 

Publisher : .