ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-24

, ১৯ রমজান ১৪৪০

চন্দ্ররথা রাজশ্রীর কিছু কবিতা

প্রকাশিত: ০৬:৩৫ , ৩০ এপ্রিল ২০১৭ আপডেট: ০৬:৩৫ , ৩০ এপ্রিল ২০১৭

 আমি নেই 

তোমার আর কিছুতেই আমি নেই,
বুকে নেই, মুখে নেই,
অস্থিতে নেই, স্বস্তিতে নেই,
উষ্ণতা হয়ে চাদরে নেই,
চমকে ওঠা আদরে নেই।

ভেজা পথে হাটায় নেই,
কান্না-হাসি বাটায় নেই,
কচি স্বপ্নে বিভোর যখন
এলার্ম ঘড়ির কাটায় নেই।

রুক্ষ রোদে ছায়ায় নেই,
মন ভোলানে মায়ায় নেই,
না থাকাতে হোঁচট খেলেও
তৃপ্ত সুখের পাওয়ায় নেই।

নেই আশকারাতে,
ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা গোলাপের চারাতে।
মুখ গোঁজা বইয়ের পাতাতে;
সন্ধ্যা-সকালে,
ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ঘর্মাক্ত কপালে;
আমি নেই।

কালি করা জুতোয় নেই,
শিল-পাটা-পুতোয় নেই,
গায়ে হাত রেখে ছুঁয়ে নিয়ে
জ্বর দেখা ছু্তোয় নেই।

নেই সেই নীল পাঞ্জাবিতে;
শিশুতোষ দাবিতে,
ঝরা বেলা বাদামের খোসাতে,
মিছে রাগ পোষাতে।

এও জানি যতখানি
এই ক্ষণে আমি নেই,
তারও বেশি মিশে-মিলে
থাকবো না অচিরেই।

কিছু কথা, কবিতা রয়ে যাবে আড়ালে,
রঙ করা দরজায় গিয়ে তুমি দাঁড়ালে,
ভালোবাসা হাতে মেখে কঁড়া যেই নাড়বে,
আশেপাশে না থাকার ;
ভুলে যাওয়া আমি নেই।

শব্দার্থে ভালবাসা

ভালবাসা মানে একটু একটু করে
তোমার প্রতি অসুস্থ হওয়া,
খুব গোপনে নীলনদ হয়ে
নিঃশব্দে বয়ে যাওয়া।

ভালবাসা মানে নগ্ন পায়ে
বন্ধুর পথ হাঁটা,
আমার চোখে জমকালো তুমি,
আমি সাদামাটা।

ভালবাসা মানে অবেলার অসুখ,
মন কেমন করা ভাব,
আমার অগোছালো স্বভাবে 
তোমার পরিপাটি প্রভাব।

ভালবাসা মানে মালিকানা তোমার
যা কিছু রয়েছে আমার,
অশিক্ষিত আমার টিচার তুমি,
ভালবাসা মানে না গ্রামার।

ভালবাসা মানে বৃষ্টির দিনে
পাকোড়ার সাথে চাটনি,
তোমার চোখে মুছে যাওয়া
সারাদিনের খাটাখাটনি।

ভালবাসা মানে জলন্ত আগুনে
ঢেলে যাওয়া খাটি ঘি,
তুমি চুপ! তবু শুনে যাই,
কিছু বললে কি?

ভালবাসা মানে বেশি কিছু নয়,
তুমি-আমি-তুমি খেলা,
ভালবাসা মানে চাও বা না চাও,
তুমিই সকলবেলা।

ভালবাসা মানে দু'পশলা বৃষ্টিতে
এক কাপ গরম চা,
ভালবাসা মানে ছাই!
ভালবাসা হল যা-তা!

ব্যথাতুর উপহাস

ধরো, আজ থেকে সাতাশ বছর পর..........
কোন এক শীতের রাত,
ঘুমন্ত হাইওয়েতে উল্কার বেগে ছুটছি।
ফ্রন্ট লাইট নিভিয়ে পুরোনো দিনের গান
শুনতে শুনতে ভুলে গেলাম গিয়ার-ব্রেক।

হঠাৎ উল্টো দিক দিয়ে একটা ষণ্ডা মার্কা ট্রাক
থামিয়ে দিল প্রিয় গানটা।

এরপর?
দেহ পড়ে আছে শীতল পোশাকে,
কেঁটেকুঁটে একাকার!
ক্ষণিক পরে ভ্রু কুঁচকে মাথা ঝুকিয়ে ডাক্তার এলেন।

পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে যদি ধরা পড়ে স্রেফ "তুমি"!!!
কি করবে তখন???

ধরো, মামলা হল তোমার বিরুদ্ধে,
আমাকে হত্যার অভিযোগ।
জাঁদরেল সব উকিলরাও চুপসে গেল হারার ভয়ে।

প্রমাণ যখন অকাট্য, তখন 
কারই বা কি করার আছে!

এমন সময় পক্ষে তোমার লড়তে যদি আমাকে দেখো!
কি করবে তখন???

আমি ভাবি আর হাসি........
হাসি আর ভাবি........

হাসতে হাসতে চোখ ভিজে যায়,
হাসতে হাসতে বিষম খেয়ে যাই...........

অদৃশ্যচারী

হয়ত তোমাকে ভুল চিনেছি; কম জেনেছি,
তবু যতটুকু সূর্যের আলো হাতের মুঠোয়,
তা দিয়ে একটা গোলাপ অনায়াসে ফোঁটানো যায়।

তোমার কন্ঠে বক্তৃতা কেমন শোনায় জানা নেই,
হৃদপিন্ডে জমা স্পন্দনগুলো ঢের নাই বা হল,
খুব বেশি শব্দের দরকার পরে না শ্লোগানে।

নিয়ম করে চোখ রাঙানোর সামান্য লোভ
সামলে নিচ্ছি ঝাপসা চোখ বন্ধ করে।
কোটরগত আবদারে জ্বালাবো না একদম।

আমার আর শামুকের এক খোলসে ঘুম,
পায়ে লেগে থাকা ধুলোর সবটুকু
চেনা পথের সাথে মিলিয়ে নিও।

সরলতম বক্রতা বোঝো বলেই
মুক্তি পেলে, ইঞ্চি ইঞ্চি করে
আবেগ মাপার বিড়ম্বনা থেকে। 

ফেরারির নিবেদন

একটা কবিতা লেখার অপরাধ
হন্যে হয়ে খুঁজছে আমাকে,
ফেরারি আসামি আমি অযাচিত ধারায়,
এ পাড়া ও পাড়া করে পালিয়ে বাঁচি,
ধরা পড়লেই হাতে মাত্রাবৃত্ত হাতকড়া,
সময়টুকুও দেবে না বলার,
"একটা কবিতায় কি আসে-যায়?"

ঠুকে দেবে মামলা,
ছাপোষা অজুহাতে মন গলানোর চেষ্টা
সবই বৃথা যাবে
এক দর্শকের হাততালিতে।

তারপর কাঠগড়ায় অসহায় আমি,
আদালত মুখরিত কবিতায় কবিতায়,
শ্লোগানে শ্লোগানে মাটি কাঁপাকাঁপি,
"ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই...."

ততক্ষণে চোখ-মুখ ফেটে রক্তের বন্যা
ভাসিয়ে নেবে খয়েরী এজলাস।
তোমার কবিতাদের বিরুদ্ধাচরণ
আঙুল তুলে সাক্ষ্য দেবে।
কেবল আমার কবিতাটার চোখ ফোলা,
নিরুত্তাপ, নিস্তেজ, নিষ্প্রাণ কন্ঠে
হঠাৎ বলে উঠতে পারে,
"একটা কবিতায় কি আসে-যায়?"

"অর্ডার! অর্ডার! অর্ডার! "
ফুল্কি ছড়িয়ে নিপুণ আঘাত,
বিচারকের আসনে তুমি সেদিন।

যাবজ্জীবন না দিয়ে
আমাকে বরং মৃত্যুদণ্ড দিও.........

এই বিভাগের আরো খবর

৪০ বছরের শিল্পী জীবনে আড়াই হাজারেরও বেশী গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কণ্ঠের জাদুকরী ছোঁয়ায় ঐন্দ্রজালিক সুরের বিস্তার ঘটিয়েছেন শিল্পী সুবীর নন্দী। গেয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান।...

রাজধানীতে বাংলাদেশ-ভারতের চার শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের চার শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী ’অনন্তরুপম-আনলিমিটেড ফর্ম টু’।...

ব্যতিক্রমী আয়োজনে জন্মদিন পালন করলেন কণ্ঠশিল্পী প্রীতম

নিজস্ব প্রতিবেদক: অটিস্টিক ছেলে-মেয়েদের সাথে ব্যতিক্রমী আয়োজনে নিজের জন্মদিন পালন করলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী প্রীতম আহমেদ। শিল্পীকে কাছে...

দেশ ও জাতি গঠনে প্রয়োজন নাট্য আন্দোলন : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো নাট্যকার ও সাংবাদিক কানাই চক্রবর্তীর ‘আনন্দের মুক্তি চাই ও অন্যান্য নাটক’ গ্রন্থের প্রকাশনা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is