ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-21

, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪০

বই, খাতা আর পরীক্ষার বালাই নেই যে স্কুলে

প্রকাশিত: ০৩:৫১ , ২৩ নভেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৩:৫১ , ২৩ নভেম্বর ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব দিকে এক পাহাড়ের ওপর অবস্থিত ড্রামডুয়ান স্কুল। গতানুগতিক স্কুল থেকে ড্রামডুয়ান স্কুলটি ভিন্ন; এখানকার লেখা-পড়ার ধরণ অনেকটা ভিন্ন।  এ আজব স্কুলে শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদবিজ্ঞানের ক্লাস করে মাটিতে বসে লম্বা লম্বা গাছের দিকে তাকিয়ে। আর বিদ্যুৎ, আলো, বাতি সম্পর্কে জানে অন্ধকার ঘরে বসে।
আজব স্কুল বলছি, কিন্তু কেন? এবার তাহলে সেটা জানা যাক। ড্রামডুয়ান স্কুলে কোনো বই-খাতা নেই। এই স্কুলে হয় না কোনো পরীক্ষা, দেওয়া হয় না ফলাফল। সাত বছরের আগে এই স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীকে শেখানো হয় না পড়া কিংবা লেখা। সাত বছর পর্যন্ত তারা শেখে কীভাবে খেলতে হয়, বন্ধু বানাতে হয়, ঝগড়া বাধলে কীভাবে মীমাংসা করতে হয়। শেখানো হয় ছবি আঁকা, গাছে চড়া, পাতা দিয়ে বাঁশি বানানো ইত্যাদি।
হলিউড নায়িকা সুইনটন টিলডার দুই যমজ সন্তান পড়ে এ বিদ্যালয়ে। তাদের বয়স যখন সাড়ে ছয়, তখন টিলডার বাবা এসেছিলেন তাঁদের বাসায়। নাতি-নাতনিদের একটা কবিতা পড়ে শোনাতে বললেন তিনি, তখনই লজ্জায় নাক কাটা যাওয়ার অবস্থা হয় ওই হলিউড নায়িকার। কারণ কোনো অক্ষরই তো চেনে না তাঁর বাচ্চারা। কিন্তু ৭ বছর বয়সে যখন অনার ও জ্যাভিয়ার পড়া ও লেখা শুরু করে, ঠিক ৩ মাসের মাথায় গড়গড় করে কবিতা-গল্প-গান সব পড়ায় পারদর্শী হয়ে ওঠে তারা।
ড্রামডুয়ান স্কুলে একটা দারুণ নিয়ম আছে। তা হলো ১৬ বছরের আগে এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের ডিজিটাল পর্দায় চোখ রাখতে পারে না। অর্থাৎ টিভি, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ তো দূরে থাক, মুঠোফোন এমনকি ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না তাদের। তারা বরং সেই সময়টায় শেখে কীভাবে বাড়ি বানাতে হয়, গাছ কাটতে হয়, সেই গাছের কাঠ দিয়ে নৌকা বানাতে হয়, সবজি ফলাতে হয়।
ড্রামডুয়ান স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সুইনটন টিলডার জানান, তাঁর স্কুলে ভালো ফলাফলের জন্য কোনো পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবে কেউ যদি বন্ধুকে সাহায্য করে, বন্ধুরা এক হয়ে বানায় কোনো নতুন নৌকা বা কাঠের ঘর, তখন তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য মাটি দিয়ে হাতে তৈরি মেডেল দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বয়স ২০ হলে তাঁদের শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি করতে বলা হয় একটি থিসিস পেপার। সেই গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করেই ড্রামডুয়ানের প্রথাবিরোধী শিক্ষার্থীরা বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। কেউ চলে যান স্থাপত্য বিষয়ে পড়তে, কেউ পড়তে যান মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেউ আবার চিত্রকলা আর লেখালেখিতে থিতু হন। টিলডা বলেন, ‘আমার গিনিপিগেরা, মানে আমার সন্তানেরা এখন নিজ নিজ ক্যারিয়ারে বেশ ভালো করছে। আমার মেয়ে পড়ছে মনোবিজ্ঞান নিয়ে, আর ছেলে প্রকৌশল বিষয়ে। যতটা তাদের নিয়ে চিন্তা করা হয়েছিল, ততটা উচ্ছন্নে তারা যায়নি। আমার গবেষণা সফলই হয়েছে বলা যায়।’
টিলডা আরও জানান, তাঁদের ড্রামডুয়ান স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থার মডেল বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলো গ্রহণ করছে। কিন্তু স্বপ্নের স্কুলের ভাবনা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগবে আরও।

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন তিন পৃথিবীর সন্ধান নাসার

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এবার এমন তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। নাসার খুঁজে পাওয়া এই তিনটি নতুন গ্রহের...

উদ্ভিদের বিশাল সংগ্রহশালা গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিকল্পিত বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান...

মানবসেবায় দিল্লির হরজিন্দার সিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের দিল্লির সিএনজি অটোচালক হরজিন্দার সিং। নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সেবা করে...

যৌন হয়রানির শিকার হলে কি করবেন?

ডেস্ক প্রতিবেদন: বর্তমানে যৌন হয়রানি নিয়মিত একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বিকৃতমনা পুরুষের লালসার শিকার হচ্ছে নারী এমনকি শিশুরাও! কিছু...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is