স্মার্টফোনের নেশা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে মস্তিষ্কে!

প্রকাশিত: ০৯:১৫, ২৬ নভেম্বর ২০১৮

আপডেট: ০৯:১৫, ২৬ নভেম্বর ২০১৮

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। বর্তমান সময়ে সকাল থেকে শুরু করে রাত প্রতিটা মুহূর্ত প্রযুক্তির মধ্যে ডুবে আছি আমরা। আর আপনার হাতে স্মার্টফোর আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকা মানে মুহূর্তেই আপনি চষে বেড়াতে পারেন গোটা পৃথিবী। কিন্তু এই স্মার্টফোনের যেমন নানাবিধ সুবিধা রয়েছে। তেমনি অতিমাত্রায় স্মার্টফোনের উপর নির্ভরতা আপনাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিতে পারে।

স¤প্রতি এমআইটি স্লোয়ান ম্যানেজমেন্ট রিভিউ-এ ইতালি এবং ফ্রান্সের দু'টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে গবেষকরা কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতি সন্তাহে একটি দিন স্মার্টফোন ছাড়া রেখে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। এতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন ছাড়া থাকার সময়টিতে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ এবং উৎকণ্ঠ বেড়ে যেত। যে অতিরিক্ত সময় তারা পেয়ে যাচ্ছেন ওই দিন, তাতে তারা কখন কী করবেন সেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে দৈনন্দিন রুটিনেও গোলমাল করছিলেন।

কেন এই মানসিক পরিবর্তন? কোরিয়া ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দেখিয়ে দিয়েছেন, স্মার্টফোন সার্ফিং -এ অত্যধিক নেশার দরুণ কিছু স্থায়ী পরিবর্তন আসছে সংশ্লিষ্ট টিনএজারের মস্তিষ্কে। যার জেরে ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, এক্সেসিভ ইমপালসিভিটি, ইনসমনিয়ার মতো রোগের কবলে পড়ছেন তারা।

রেডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা কনফারেন্সে এক স্টাডি রিপোর্টে কোরিয় গবেষকদলের প্রধান হিউং সাক সিও জানিয়েছেন, ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) এর উন্নততর পরীক্ষা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স স্পেকট্রোস্কোপি-র (এমআরএস) সাহায্যে তারা দেখেছেন, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটে আসক্ত একদল টিনএজারের মস্তিষ্কে গামা অ্যামাইনো বিউটারিক অ্যাসিড (গাবা) এবং গ্লুটামেট -গ্লুটামাইন (জিএলএক্স) এর অনুপাত স্বাভাবিকের তুলনায় উলে­খনীয় পরিমাণে বদলে দেয়, যা মস্তিষ্কে তরঙ্গপ্রবাহের গতিকে স্বাভাবিকের থেকে অনেক শ্লথ করে দেয়।

উলে­খ্য, গাবা দৃষ্টিশক্তি, মোটর নার্ভ নিয়ন্ত্রণ এবং একাধিক মস্তিষ্কজনিত কার্য, যেমন উদ্বেগ , বিচার -বিবেচনার সঠিক ক্রিয়াশীলতার জন্যে দায়ী।

কোরিয় গবেষকদের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, স্মার্টফোনের নেশা না থাকা স্বাভাবিক টিনএজারের মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সে গাবা এবং জিএলএক্স এর অনুপাত যা থাকে, নোমোফোবিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে তা থাকে কয়েকগুণ বেশি। বাড়তে থাকে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ। গাবার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ে ঝিমুনি, স্নায়ুবৈকল্য। একই সঙ্গে , গাবা ও ক্রিয়াটিন অনুপাত এবং গাবা ও গ্লুটামেট অনুপাতও স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যাওয়ায় শরীরে এসে ভিড় করে অনভিপ্রেত একাধিক উপসর্গ।

গবেষকদলের প্রধান হিউং সাক সিও জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা এই বিষয়ে পথিকৃত হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যক নমুনার উপর পরীক্ষা চালালে সঠিকভাবে জানা যাবে, আদতে কতটা ক্ষতি করছে স্মার্টফোনের নেশা।

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক হ্যাক হওয়ার কারণ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে...

বিস্তারিত
হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঁচ ফিচার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: অন্যতম জনপ্রিয়...

বিস্তারিত
ভুয়া অ্যাপ থেকে বাঁচার উপায়

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক: অনেক সময় আসল...

বিস্তারিত
মুখের কথায় চলবে টিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: রিমোটের...

বিস্তারিত
ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে গ্রুপ চ্যাট

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক: কাজের প্রয়োজনে...

বিস্তারিত
এনআইডি যাচাইয়ে চালু হলো অ্যাপস ‘পরিচয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *