ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

2018-12-17

, ৮ রবিউস সানি ১৪৪০

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন হতে পারে: গওহর রিজভী

প্রকাশিত: ০৮:০৭ , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ আপডেট: ০৯:০৮ , ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল আইন হওয়া মানে এই নয় যে এটি কখনো পরিবর্তন হবেনা। আলোচনা চলতে থাকলে এটি কখনো পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা ও ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. গওহর রিজভী।

তিনি বলেন, “সভ্যতার শুরু থেকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। স্বাধীন মত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে এটা কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ জানে না। সরকার বা বিরোধী যেই হোক না কেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া আমরা যে সমাজ চাই তা সম্ভব নয়। তাই একটা আইন হয়েছে মানে এটা পরিবর্তন করা যাবে না এমন নয়। অনেকবার আইন হয়, আবার তা পরিবর্তনও হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এই ধরনের আলোচনাটা চলতে থাকুক। এটা একসময় অবশ্যই পরিবর্তন হবে।” 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দন্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমরা সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে পারি না। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দ্বৈত আচরণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমাজও দুর্নীতির জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।”

ডিজিটাল আইন তৈরি করে একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এ আইনের কারণে বলে মনে করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল। 

তিনি বলেন, “একটা সমাজের বাক স্বাধীনতা থাকতে হবে, চিন্তাার স্বাধীনতা থাকতে হবে এবং তার সাথে বিবেকের স্বাধীনতাও থাকতে হবে। আর আমাদের সজাগ হওয়ার জন্য বড় ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম। যদি এটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে আমাদের সজাগ হওয়ার আর সুযোগ নেই। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা এজন্যই করছি, কারণ এখানে আশঙ্কা আছে যে, এর মাধ্যমে বিবেক বন্দী আছে। আইনের বিভিন্ন ধারার অপব্যবহার হবে না মানে এই না যে তা কখনোই হবে না। তাই আমরা ‘যদি হয়’- এই ভয়ের মধ্যেই আছি।”

এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ডিজিটাল আইন পরিবর্তনের দাবি জানান।

এর আগে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমিন, ডিবিসি চ্যানেলের সম্পাদক জাহিদুল হাসান পিন্টু ও সংবাদ সংস্থা ইউএনবির নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ। তারা ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০১৮’ এর বিচারক ছিলেন।
এবার ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮’ পেয়েছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মিলিয়ে ছয়জন প্রতিবেদক ও দুটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান। এর মধ্যে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. আনোয়ার হোসেন ‘গতি পাচ্ছে না রেলওয়ে’ তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য দৈনিক পত্রিকা ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদকের পুরস্কার পান। আঞ্চলিক পত্রিকা ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদকের পুরস্কার পেয়েছেন খুলনা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রবাহের’ নিজস্ব প্রতিবেদক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। এ ছাড়া এ ক্যাটাগরিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর প্রতিবেদন করায় যৌথভাবে দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব নূর ও সহসম্পাদক জাহিদুর রহমান পুরস্কার পেয়েছেন। 

টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের উৎপল মির্জা ও ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির মুফতি পারভেজ নাদির রেজা। অনুষ্ঠান ক্যাটাগরিতে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ‘তালাশ’ ও যমুনা টিভির ‘৩৬০ ডিগ্রি’ পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারের অর্থ মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সঙ্গে আছে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট।

এই বিভাগের আরো খবর

৯ দফার ইশতেহার ঘোষণা গণঐক্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন নির্বাচনে ৯ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণঐক্য। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন জোটের চেয়ারম্যান ববি...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is