ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-21

, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪০

সৌরজগৎ পার করল ‘ভয়েজার-২’

প্রকাশিত: ০৭:৩৫ , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১০:১১ , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: ৪১ বছর পর ইন্টারস্টেলার স্পেসে ঢুকতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার তৈরি নভোযান ‘ভয়েজার-২’ । ১৯৭৭ সালে মহাকাশে পাঠানো হয় এই যান। এর ফলে চার দশক পর নভোযানটি ১১০০ কোটি মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে তার গন্তব্যে পৌঁছাল। নাসার বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভোযানটি শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে অক্টোবরে গবেষকেরা বলেছিলেন, গত আগস্ট মাস থেকে ভয়েজার-২ মহাকাশযান মহাজাগতিক রশ্মি মুখে পড়েছে। ভয়েজার-২ যে রশ্মির মুখোমুখি হয় তা সৌরজগতের বাইরে উদ্ভূত। এ রশ্মি থেকেই বোঝা যায়, মহাকাশযানটি ইন্টারস্টেলার স্পেসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি হেলিওপজ এলাকা অতিক্রম করছে। ওই এলাকা সৌরঝড়ে তৈরি বুদবুদের প্রান্ত বা হেলিওস্ফেয়ার হিসেবে পরিচিত।

তার আগে ২০১২ সালের মে মাসে ভয়েজার-১ নভোযানটিও একই ধরনের রশ্মির মুখোমুখি হয়েছিল। হেলিওস্ফিয়ারের বাইরের সীমানা, অর্থাৎ হেলিওপজে পৌঁছানোর জন্য মহাকাশযানটির দিকে লক্ষ্য রাখছিলেন মহাকাশযানবিদরা।

হেলিওস্ফেয়ার হলো সূর্যের চারপাশে ও গ্রহগুলোর চারপাশের সুবিশাল বুদবুদ, যা সৌর উপাদান এবং চুম্বকক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত। এটিকে সূর্যের শেষ সীমাও বলা হয়ে থাকে। ভয়েজার-১ এর পরে এটিই মানুষের তৈরি দ্বিতীয় মহাকাশ যান, যা ইন্টারস্টেলার স্পেসে ভ্রমণ করল।

এর আগে অক্টোবরে বলা হয়, বর্তমানে পৃথিবী থেকে ১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে ভয়েজার-২। এরই মধ্যে মহাকাশযানটি বৃহস্পতি (১৯৭৯), শনি (১৯৮১) ইউরেনাস (১৯৮১) ও নেপচুন (১৯৮৯) ভ্রমণ করেছে।

এক বিবৃতিতে ভয়েজার প্রজেক্টের বিজ্ঞানী এড স্টোন বলেছেন, যদিও ভয়েজার-২ ইন্টারস্টেলার স্পেস স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে, তারপরও আমাদের হেলিওস্ফেয়ার সম্পর্কে অনেক অজানা রয়ে গেছে। আমাদের কাজ হবে সেই অজানাকে জানা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নভোযানটির হেলিওস্ফেয়ার ছুঁয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে, এটা পুরো সৌরজগত পরিদর্শন করে ফেলেছে। এর শেষ সীমা ওর্ট ক্লাউড থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গা পর্যন্ত গেছে।

‘ওর্ট ক্লাউড’ সৌরজগতের অনেক দূরে অবস্থিত একটি এলাকা। অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল ‘লেটার’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, সূর্য থেকে দশমিক ৮ আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত সৌরজগতের প্রান্ত, যা ‘ওর্ট ক্লাউড’ নামে পরিচিত।

ভয়েজার-২-তে এমন কিছু অনন্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে যা শুরু থেকে এখনও কাজ করে যাচ্ছে। নভোযানটি এপর্যন্ত পৃথিবী থেকে ১১০০ কোটি মাইল দূরত্ব অতিক্রম করেছে। আর ইন্টারস্টেলার স্পেস থেকে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা পর পর ডাটা পাঠাচ্ছে।

৪১ বছর আগে নভোযানটি পাঠানো হলেও এখনও ভালো কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এর প্রজেক্ট ম্যানেজার সুজানে দদ। তিনি বলেন, ‘বয়সের বিবেচনায় এখনও ভালোভাবেই কাজ করছে এই নভোযানটি।’

তবে, নভোযান দুটির (ভয়েজার-১, ভয়েজার-২) চালিকা শক্তি ও তাপ ঠিক রাখা বিজ্ঞানীদের ভাবাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, প্রতিবছর চার ওয়াট করে শক্তি হারাচ্ছে ভয়েজার-২। এর দুটির ক্যামেরাও কার্যকারিতা হারিয়েছে।

স্বাভাবিক তাপ হারিয়ে খুবই শীতল অবস্থায় রয়েছে ভয়েজার-২। বর্তমানে যানটির তাপমাত্রা ৩.৬ ডিগ্রি কেলভিনের মতো। এই তাপমাত্রায় সাধারণত হাইড্রোজেন জমে যায়। তাই দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা মনে করছেন, নভোযানটি আর ৫-১০ বছর পর্যন্ত মহাকাশে টিকে থাকতে পারবে। তবে এটির কার্যকারিতা আরও ৫০ বছর টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন তিন পৃথিবীর সন্ধান নাসার

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এবার এমন তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। নাসার খুঁজে পাওয়া এই তিনটি নতুন গ্রহের...

উদ্ভিদের বিশাল সংগ্রহশালা গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিকল্পিত বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান...

মুখের কথায় চলবে ফেইসবুক!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: এবার মুখের কথায় চলবে ফেইসবুক। এমনই প্রযুক্তি আনছে সামাজিক যোগাযোগরে এই মাধ্যমটি। তবে মুখের কথায় কীভাবে কাজ করবে, তা...

দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘ল্যাম্বারগিনি’ ব্রান্ডের আদলে গাড়ি নির্মাণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতালির বিখ্যাত ‘ল্যাম্বারগিনি’ ব্র্যান্ডের আদলে গাড়ি বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is