ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬

2019-09-24

, ২৪ মহররম ১৪৪১

মেয়াদ শেষের আগেই ভেঙ্গে যায় ৫টি সংসদ

প্রকাশিত: ১০:০৬ , ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ আপডেট: ১০:০৬ , ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার পর দেশে এ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছে ১০ বার। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতিটি সংসদের মেয়াদকাল পাঁচ বছর হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ সংসদ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যায়। তবে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম সংসদ তার পূর্ণ মেয়াদকাল পূরণ করেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত জাতি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকে ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বাকি ৭টি আসনের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১টি এবং ৫টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। প্রথম সংসদে ১১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
কিন্তু পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তি করতে পারেনি প্রথম সংসদ। পঁচাত্তরে সপরিবারে জাতির জনককে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্র“য়ারি সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জিয়ার প্রতিশ্ঠিত দল বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেক সেনা শাসক জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের অধীনে। তাতে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসনে জয়ী হয়। আওয়ামী লীগ ৭৬টি, জামায়াতে ইসলামী- ১০টি, সিপিবি ৫টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ২৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩২টি আসনে জয়লাভ করেন। বিএনপিসহ কয়েকটি দল এই নির্বাচন বর্জন করেছিল।
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আবারও ২৫১টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে এরশাদের সমর্থনপুষ্ট আ স ম আব্দুর রব-এর নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বিরোধী দল ১৯টি, জাসদ-সিরাজ ৩টি, ফ্রিডম পার্টি ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৫টি আসনে বিজয়ী হন। তবে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করে।
সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারি দেশে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে বসে। জাতীয় পার্টি ৩৫টি, জামায়াত ইসলামী ১৮টি, সিপিবি ৫টি, বাকশাল ৫টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ৯টি আসন পায়।
ছিয়ানব্বইয়ের ১৫ই ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংষদ নির্বাচন, যাতে বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে আবারও সরকার গঠন করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ১১টি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। ফলে পাঁচ মাসের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় বিএনপি সরকার।
বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে একই বছরের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যাতে ১৪৬ আসনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। পঁচাত্তরে জাতির পিতার হত্যার ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যার হাত ধরে আবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ১১৬ আসন পেয়ে বিএনপি হয় বৃহত্তম বিরোধী দল। জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াত ইসলামী ৩টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জাসদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি করে আসনে বিজয়ী হয়।
২০০১ এর পয়লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ ৬২টি, জাতীয় পার্টি ১৪, জামায়াতে ইসলামী ১৭ এবং অন্যান্য দল ১৪টি আসনে জয়ী হয়।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসনে জয়লাভ করে। এই নির্বাচনে বিএনপি ৩০, জাতীয় পার্টি ২৭, জাসদ ৩টি, জামায়াত ইসলামী ও  ওয়ার্কার্স পার্টি ২টি করে এবং বিজেপি, এলডিপি ১টি করে আসনে জয়ী হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায় ৪টি আসনে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশজুড়ে টানা সহিংসতার মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি-জামাত জোট এই নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বাকি ১৪৭টি আসনের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।
সংসদীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পড়ে, যা ছিল এযাবৎ কালের সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়ে, মাত্র ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ মার্চ। রোববার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে একথা জানান ইসি সচিব...

গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রতীক বরাদ্দ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে পুনঃতফসিল অনুযায়ী শুক্রবার প্রার্থীদের...

এমন নির্বাচন ইতিহাসে আর হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীরা। তারা বলছেন, এমন...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে স্থগিত হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে...

মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় বিস্মিত মহাজোটের শরীকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করলেও এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের শরিক দলগুলোর কোনও...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is