ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

2019-03-23

, ১৬ রজব ১৪৪০

নিষিদ্ধ হচ্ছে না সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপন

প্রকাশিত: ০৪:২৫ , ০১ জানুয়ারী ২০১৯ আপডেট: ০৪:২৫ , ০১ জানুয়ারী ২০১৯

ডেস্ক প্রতিবেদন: পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নতুন বছরের পহেলা মার্চ থেকে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন সরকার। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন সীমিত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধের পরিবর্তে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন সীমিত করা হবে। তার আশা, এতে দ্বীপটির ওপর চাপ কমে আসবে। তিনি মনে করেন, পর্যটকদের রাতযাপন হঠাৎ বন্ধ করে দিলে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কারণ, স্থানীয়দের আয়ের একটি বড় উৎস পর্যটন। পর্যটকদের কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নির্ভর করে। তাছাড়া সেখানে অনেক হোটেল-মোটেলে রয়েছে। এসব বিবেচনায় বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দিনে কতজন যেতে পারবেন তা নির্ধারিত থাকবে। এজন্য সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাওয়ার আগে অনলাইনে নিবন্ধন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন করে যেতে হবে পর্যটকদের। ওই অর্থ ব্যয় করা হবে দ্বীপটির উন্নয়নে।

সেন্টমার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের কাছে সমুদ্র সৈকতের পর অন্যতম আকর্ষণের। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে ৫-৬ টি জাহাজ যোগে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজারের বেশি পর্যটক এ দ্বীপ ভ্রমণে যান। কিন্তু পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপটিতে পর্যটনকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ হোটেল-গেস্ট হাউস। তাই অতিরিক্ত পর্যটক এ দ্বীপের ভারসাম্যের জন্য হুমকি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে বলে পরিবেশ সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
 
সেন্টমার্টিনে রাতে পর্যটকদের অবস্থান নিষিদ্ধ হলে পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিন খাঁনের কথায়, এই প্রবাল দ্বীপে বেড়ানোর উদ্দেশে অনেক পর্যটক তিন দিন অথবা এক সপ্তাহের জন্য কক্সবাজারে আসেন। সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে না পারলে কক্সবাজারবিমুখ হয়ে যাবে ভ্রমণকারীরা। এতে পর্যটন খাত থেকে আসা রাজস্ব হ্রাস পাবে। কক্সবাজারের হোটেল সী-গালের ম্যানেজার নূরে-এ আলম মিথুনও মনে করেন, সেন্টমার্টিনে রাতযাপন নিষিদ্ধ হলে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা কমে আসবে।

বেশিরভাগ ভ্রমণপিপাসু মনে করেন, মাত্র একদিনে সেন্টমার্টিন দেখা হয়ে ওঠে না। কারণ, টেকনাফ থেকে সকালে জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে যায়। মাত্র দুই-তিন ঘণ্টায় কারও পক্ষে সেন্টমার্টিন উপভোগ্য মনে হবে না। সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে না পারলে অনেকেই কক্সবাজারে আসা বন্ধ করে দেবেন বলে মনে করেন তাদের অনেকে।
 
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন দেয় পরিবেশ অধিদফতর। এর ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বীপ রক্ষায় গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
 
সেন্টমার্টিনে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল রয়েছে। আরও আছে ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এছাড়া এই প্রবাল দ্বীপে ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড় ও পাঁচ প্রজাতির ডলফিন দেখা যায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কেন বেড়াতে যাবেন দম্পতিরা

অনলাইন ডেস্ক: অফিস আর বাসার কাজে ব্যস্ত থাকতে থাকতে প্রায়ই আমরা বিরক্ত হয়ে উঠি। এমন অবস্থা থেকে নিজেকে একটু চাঙ্গা করতে ভ্রমণের বিকল্প নেই।...

ঘুরে আসুন লালনের মাজার

ডেস্ক প্রতিবেদন: ফকির লালন শাহের মাজার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত। লালন শাহ এই কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে তাঁর শিষ্যদের...

ঘুরে আসুন ঘাগুটিয়ার পদ্মবিলে

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশে একসময় অনেক জায়গাতেই পদ্মফুলের দেখা গেলেও দিন দিন তা কমে যাচ্ছে। এখানে ব্যতিক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া...

টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: টানা তিন দিনের ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। জেলার অন্য বিনোদন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is