ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-19

, ১৭ জিলহজ্জ ১৪৪০

প্রবীণদের সুখস্মৃতি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য বায়োস্কোপ

প্রকাশিত: ০৯:১৩ , ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আপডেট: ১২:৩০ , ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের নাম বায়োস্কোপ। হাত দিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে দর্শনীয় স্থান, কিংবা বিভিন্ন চিত্র কর্মের ছবি দেখানো হতো এই বায়োস্কোপে। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয়সব কাহিনী ও কাল্পনিক চিত্রও দেখানো হতো এই মাধ্যমে। মুড়ির টিনের মতো একটি বাক্সের কাচের জানালায় চোখ রাখলেই ছবি আর কন্ঠের বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠতো এক অজানা পৃথিবী।

চোখ ধাঁধাঁনো আধুনিকতার এমন সময়েও গ্রামীণ জনপদে বায়োস্কোপ দেখতে মানুষের ভীড়   চোখে পড়ে। এই প্রজন্মতো বটেই, এখনো বায়োস্কোপ দেখতে বসে যান প্রবীনরাও।

চার কোনা একটি টিনের বাক্সে গোলাকৃতি ৪ থেকে ৬টি কাচের জানালা। তার মধ্যে দেশ বিদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, রাজা বাদশা, জনপ্রিয় নায়ক নায়িকা, বিভিন্ন ধর্মীয় পবিত্র স্থাপনা, মৃত্যুর পরের নানা কাল্পনিক কাহিনীর ৩৫ থেকে ৪০টি ছবি জোড়া দিয়ে লাগানো হয়। বাক্সের মধ্যে দুই পাশে দুটি ঘুড়ির লাটাইয়ে তা পেচিয়ে প্রদর্শন করা হয়। বাইরে থেকে স্বচ্ছ কাচের ওপর চোখ রাখলে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যতে হয় দর্শকদের।

বিনোদনের এই মাধ্যমটি আমাদের দেশে বায়োস্কোপ নামে অধিক পরিচিতি পেলেও ইংরেজিতে একে পিপ শো বলে অভিহিত করা হয়। যার অর্থ উঁকি দিয়ে দেখা। জানাযায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপের একটি দেশের রাস্তা দিয়ে এক নগ্ন নারীর হেটে যাওয়র দৃশ্য বদ্ধ ঘরের ছিদ্র দিয়ে দেখেন এক লোক। ছিদ্র দিয়ে দেখার সেই ধারণা থেকেই পরবর্তিতে তৈরী হয় পিপ-শো বা বায়োস্কোপের বাক্স। ইউরোপে ১৫ থেকে ১৭ শতাব্দীতে বায়োস্কোপ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৯৪ সালের পর এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপি এর প্রদর্শনী শুরু হয়। অনেকে বায়োস্কোপকে চলচ্চিত্র আবিস্কারের পূর্ব রুপ বলে ধারণা করেন।

উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের জনক মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তার এলাকায় বায়োস্কোপ প্রদর্শন করেন।

স্বাধীনতার আগে ভারত থেকে আঁতশী কাচ এনে টিন আর কাঠ দিয়ে এসব বায়োস্কোপ তৈরী করে গ্রামে-গঞ্জের আর মেলায় প্রদর্শন করতো একদল মানুষ। অনেকে এই বায়োস্কোপ প্রদর্শনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পরই কৃষিবাণিজ্য সম্প্রসারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাহাড়ী এলাকা বিচিত্র কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিশাল ক্ষেত্র হলেও সেখানের ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কৃষি বাণিজ্যের ধারণা...

উচ্চ ফলনের তাগিদ ছিল না, কৃষি উন্নয়নে হয়নি গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ সহস্রাধিক বর্গ কিলোমিটারের পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৮৬০ সাল পর্যন্ত পরিচিত ছিল কোরপস নামে। ১৩০ বছর আগে এখানকার লোকসংখ্যা...

চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সবজি উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক দশকে উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সবজি উৎপাদন হচ্ছে প্রতি বছর। দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে চাষের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is