ঢাকা, রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫

2019-02-24

, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০

অস্তিত্ব রক্ষায় কঠিন সংগ্রামে বায়োস্কোপ শিল্পচর্চার মানুষেরা

প্রকাশিত: ০৯:১৪ , ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আপডেট: ১২:৩১ , ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিলো বায়োস্কোপ। তখন এর জনপ্রিয়তাও ছিলো ব্যাপক। শহুরে আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত ব্যক্তিরাও বায়োস্কোপে পেতেন বিনোদনের খোরাক। শহরের নানা অয়োজনে বায়োস্কোপ দেখতে ভিড় করতেন সমাজের শিক্ষিত বিত্তবানরাও।

মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার পয়লা গ্রাম। মেঠো পথ ধরে হাটতেই হঠাৎ কানে আসে সিঙ্গায় ফু দিয়ে কারও আগমনী বার্তা। হ্যামিলনের বাশিওয়ালার মতো তার পেছন ছুঁটছে গ্রামের শিশু-কিশোররা। তার নাম আতাউর রহমান। যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বায়োস্কোপ চালিয়ে সবাইকে আনন্দ দেন। তার পথ চলায় পিছু নেয় অসংখ্য মানুষ। বায়োস্কোপ দেখা তাদের নেশা।

রংবেরঙ্গের কাপড় পরে আতাউর গ্রামের খোলা মাঠে প্রদর্শন করেন বায়োস্কোপ। ঝুনঝুনি বাজিয়ে, ছবির সাথে মিল রেখে নিজের লেখা গানের সুরে দর্শকদের মনমাতান। মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে সেসব  উপভোগ করে সবাই।

শুরুতে বায়োস্কোপ দেখাতে খানিকটা লজ্জা আর সংশয় ছিলো আতাউরের। সময়ের সাথে সেটা কেটে গেছে। তার উপস্থাপনার সুনাম ছড়িয়েছে। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বায়োস্কোপ দেখানোর ডাক পান।

নারায়ণগঞ্জের লোক শীল্প যাদুঘরের খোলা মাঠে জলিল মন্ডলের বায়োস্কোপ দেখানোর দৃশ্য। হাত দিয়ে প্যাডেল ঘুরান। বিভিন্ন ছবির সাথে মিল রেখে গান করেন। ধারা বর্ণনার সাথে কাগজে ছাপা স্থির ছবিগুলো যেনো জীবন্ত হয়ে ওঠে আতশী কাঁচের জানালায়।

রাজশাহীর বাগমারার জলিল মন্ডল, বাবার উত্তরসুরি হিসেবে এই পেশায় এসেছেন। ১০ বছর বয়সে  নেশার ছলে বায়োস্কোপের সাথে জড়ালেও এখন পেশা । গ্রাম-গঞ্জে ১০ টাকা আর বিভিন্ন মেলায় ২০ টাকার বিনিময়ে যে কেউই তার বায়োস্কোপের ছবি দেখতে পারেন। দিনে আয় ৭’শ থেকে হাজার টাকা।

তবে, গত কয়েক দশকে বায়োস্কোপের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় বাণিজ্য কমেছে তাদের। বায়োস্কোপ চালানোর ক্ষেত্রে নানা হিসেব মাথায় রাখতে হয় তাদের। কোন অঞ্চলের মানুষ কী গল্প বা ছবি পছন্দ করেন, সেটি আগে নিরুপন করে সে অনুযায়ী গল্প সাজান তারা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কিছুতেই শৃঙ্খলা ফিরছে না সড়কে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শৃংখলা শব্দটি যেন একদম বেমানান দেশের পরিবহন খাতে। সড়কে নিয়মনীতি মানার ও প্রতিষ্ঠার কোন চেষ্টাই নেই কারও। পরিবহন মালিক,...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is