ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-18

, ১৩ রমজান ১৪৪০

বঙ্গবন্ধুর সহচর একেএম শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত 

প্রকাশিত: ০৩:৩৩ , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আপডেট: ১০:৫৮ , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক ও স্বাধীনতা পদকে (মরোণত্তর) ভুষিত একেএম শামসুজ্জোহার ৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বুধবার মরহুমের পরিবার ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন দিনভর নানা কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআনখানি, শোক র‌্যালী, কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত, দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা সভা। 

চাষাড়ার অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এ.কে.এম সামসুজ্জোহার মেঝ ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, ছোট ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।

স্মরণসভায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান উপস্থিত সবার কাছে তার প্রয়াত বাবা এ.কে.এম সামসুজ্জোহা, মা ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা এবং বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে তিনি “ত্রানবন্ধু” নামে পরিচিত ছিলেন। প্রয়াত এই জননেতা সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর হাইকোর্টে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এবং বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে বিজয়ের বার্তা প্রচার করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্ত থাকার আহবান জানান। ঐ দিন অপরাহ্নে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পাক সেনাদের হাতে আটক বঙ্গবন্ধু পরিবারকে মুক্ত করতে গিয়ে পাক সেনা কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের একটি সুধী সমাবেশে সেই ঘটনাটি নিজ মুখে বর্ণনা করেছিলেন। প্রয়াত সামসুজ্জোহার সহধর্মীনি ও রত্নগর্ভা নাগিনা জোহাও ছিলেন ভাষা  সৈনিক। তাঁর বড় ছেলে প্রয়াত জননেতা ও সাবেক এমপি নাসিম ওসমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ এর ১৫আগষ্ট নবপরিনীতা বধুকে রেখেই প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর সামসুজ্জোহাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয়  ৪ নেতার হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি ও শহীদ জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী একই সেলে বন্দি ছিলেন।

সামসুজ্জোহা ছিলেন ঐ কলঙ্কিত ইতিহাসের অন্যতম স্বাক্ষী। প্রয়াত সামসুজ্জোহার মেঝ ছেলে বিএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এমপি ও ছোট ছেলে একেএম শামীম ওসমান এমপি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রয়াত সামসুজ্জোহাকে ২০১২ সালে স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) এ ভূষিত করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is