ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

2019-05-22

, ১৭ রমজান ১৪৪০

ফোনকলের সূত্র ধরে চট্টগ্রামে যুবক হত্যার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১১:০১ , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আপডেট: ১১:০১ , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে চারদিন আগে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মোছাম্মৎ আশা আক্তার (২৩) নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় ক্ষোভ থেকে ওই নারীই তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে পাহাড়তলী থানার আব্দুল আলী নগর নেছারিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ইউসুফ মিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে আনুমানিক ২৯ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, মোবাইল ফোনকলের সূত্র ধরে নিহত যুবকের পরিচয় উদঘাটনের পাশাপাশি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আশা আক্তারেরও খোঁজ পায় পুলিশ।

নিহত যুবকের নাম মো. শামীম। পেশায় তিনি একজন বাবুর্চি ছিলেন। শামীমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। তবে কাজের সুবাদে থাকতেন চট্টগ্রামের খুলশী ঢেবার পাড় এলাকায়। বছর খানেক আগে ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্রে আশাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

বুধবার চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পাহাড়তলী থানার ওসি সদীপ দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডটি এক প্রকার ‘ক্লু-লেস’ ছিল। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হলেও কোনো মোবাইল সেট উদ্ধার করা যায়নি। কারণ, হত্যাকাণ্ডের পর আশা শামীমের মোবাইল সেটও নিয়ে যায়। পরে সেটি ঢাকার রাস্তায় ফেলে দেয়। শামীম যে বাসায় খুন হয় সেটি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালার মেয়েকে ফোন করেছিল। সেই ফোনকলের সূত্র ধরে আমরা তার পরিবার ও আশার সন্ধান পেতে কাজ শুরু করি।”

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বগুড়ায় গিয়ে মঙ্গলবার আশার কর্মস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, “শামীম তার আগে স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকার কথা গোপন করে বগুড়ায় গিয়ে আশাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর শামীমের স্থায়ীভাবে বগুড়ায় থাকার কথা থাকলেও প্রায়ই চট্টগ্রাম চলে আসতেন। এনজিও থেকে ৬৫ হাজার টাকা ঋণ করে একটি ইজি বাইকও তাকে কিনে দিয়েছিল আশা। তার আগেও শামীম আশার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিল।”

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এতকিছু করার পরও স্বামীকে নিজের করে না পাওয়ায় ও একাধিক নারীর সাথে মেলামেশার ক্ষোভ থেকে শামীমকে খুন করে আশা।”

আশার তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের দুইদিন আগে শামীম বাসাটি ঠিক করে আশাকে আনতে বগুড়া যান। ১৬ ফেব্র“য়ারি সকালে আশাকে নিয়ে চট্টগ্রাম এসে নতুন বাসায় ওঠেন।

কুসুম দেওয়ান বলেন, “বাসায় ওঠার পর শামীম ঘুমিয়ে পড়লে আশা তার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করে আবার বগুড়া চলে যায়।”

বগুড়া থেকে আসার সময়ই ছুরি কিনে এনেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে আশা।
 

এই বিভাগের আরো খবর

ফরিদপুরে লিচুর বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদপুরে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কেননা, তীব্র গরমের কারণে লিচু ফেটে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। শেষ সময়ের...

বান্দরবান পৌরসভার সাবেক কমিশনারকে অপহরণের অভিযোগ 

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চথোয়াইমং মারমাকে অপহরণের অভিযোগ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is