ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫

2019-03-20

, ১৩ রজব ১৪৪০

চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশে অভিজিৎ রায়কে হত্যা

প্রকাশিত: ০৬:৪০ , ১৪ মার্চ ২০১৯ আপডেট: ০৬:৪০ , ১৪ মার্চ ২০১৯

চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশে অভিজিৎ রায়কে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। জিয়ার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জন জড়িত থাকলেও পাঁচ জঙ্গির পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এক জঙ্গি বন্ধুক যুদ্ধে মারা গেছেন। অভিযুক্ত সব আসামি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (পুরোনো নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে ২৫ মার্চ।

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব (৩৪), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার (২৫), আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম (২৪), শফিউর রহমান ফারাবী (২৯) ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ৩০)। এদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন।

অভিজিৎ রায়কে কীভাবে হত্যা করা হয়, কারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়, এর বিস্তারিত বর্ণনা মামলার আসামি আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে দিয়েছেন। ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল বলেন, ২০১৪ সালে তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হন। পরে মেজর জিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি জিয়া ও আবিরের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৫ সালে সায়মন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে তাঁকে আসতে বলেন। সায়মন, আকরাম ও হাসান এলিফ্যান্ট রোডে থাকতেন। বাসায় যাওয়ার পর সায়মন তাঁকে জানান, অভিজিৎ রায়কে হত্যা করতে হবে। আকরাম ওই বাসায় থাকা ল্যাপটপে অভিজিতের ছবি দেখান। ফেসবুকের লিংক দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী ইন্দিরা রোডের যে বাসায় উঠেছিলেন, আকরাম তার আশপাশ ঘুরে আসার পর মেজর জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। জিয়ার নির্দেশ ছিল, অভিজিৎকে বইমেলায় ফেলে হত্যা করতে হবে। আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান হলেন সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক।

২৬ ফেব্রুয়ারি সোহেল, আকরাম, মোজাম্মেল ও হাসান বইমেলায় যান। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই চার জঙ্গি বইমেলা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে অবস্থান নেন। তখন সায়মন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার নেতা মুকুল রানাকে খবর দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিজিৎ তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টিএসসির উত্তর-পূর্ব পাশে যান। তখন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার চারজন অভিজিৎকে কুপিয়ে জখম করেন। বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে আঘাত করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া, সেলিম, আকরাম, হাসান ও মোজাম্মেল। মূলত তাঁরা সেখানে প্রহরী হিসেবে অবস্থান করেন, যাতে অভিজিৎকে হত্যা করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারেন সবাই। অভিজিৎকে খুন করার জন্য চাপাতি কেনার টাকা দেন মুকুল। টঙ্গী থেকে চারটি ব্যাগ ও চারটি চাপাতি কেনেন জঙ্গিরা।

কারা খুনে অংশ নেয় সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন আলী ওরফে খলিল ও আনিক অভিজিৎকে প্রথমে কোপায়। তখন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন আরাফাত ও অন্তু। এই চারজন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার সদস্য। অভিজিৎকে কোপানোর সময় একজন রিকশাচালক এগিয়ে আসলে আনিক চাপাতি উঁচিয়ে ভয় দেখান। পরে তাঁরা পালিয়ে যান। মেজর জিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিয়ে অভিজিৎকে হত্যা করেন। অভিজিৎকে হত্যায় প্ররোচনা দেন শফিউর রহমান ফারাবী। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এর মধ্যে মুকুল বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও জঙ্গি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, আনিক, অন্তুর পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেনি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরো খবর

বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্রে অস্বচ্ছতা, তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহবানে অস্বচ্ছতার অভিযোগ...

রাজধানীর বসুন্ধরায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ আপাতত স্থগিত 

ডেস্ক প্রতিবেদন : রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ আজকের মতো স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার...

চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে, জানালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।  । গতবছর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is