ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

2019-04-22

, ১৬ শাবান ১৪৪০

দুর্নীতি করে গড়া আবজালের অট্টালিকা জব্দ

প্রকাশিত: ০১:১০ , ১৮ মার্চ ২০১৯ আপডেট: ০৪:৫৮ , ২০ মার্চ ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির মাধ্যমে গড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আবজালের উত্তরার দুটি বহুতল অট্টালিকা জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার আরো সম্পদের সন্ধান করছে দুদকের টিম। আদালতের নির্দেশে দুদক সকালে তার সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু করে।

অনুসন্ধান ও তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ‘অপরাধলব্ধ সন্দেহজনক অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ’ ক্রোকের এটাই প্রথম ঘটনা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের আলোচিত কর্মচারী আবজালের ৫টি বাড়িতে ক্রোকের নোটিশ জারি করা হয়। এছাড়া বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করবে দুদক। খন্দকার এনামুল বাছিরের নেতৃত্বে দুদকের চার সদস্যের টিম উত্তরার ১৩নং সেক্টরে ১১ নম্বর রোডের ৪৭ নম্বরের তামান্না ভিলাসহ মোট ৫ বাড়িতে আদালতের ক্রোকের নোটিশ টানায়। এছাড়া একইদিন খুলনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়িতে দুদকের স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আবজালের স্থাবর সব সম্পদের ওপর ক্রোকাদেশ জারি করা হবে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান তথ্যে দেখা গেছে, আবজাল দম্পতির নামে-বেনামে অন্তত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধান শুরুর পর তাদের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে। তবে দুদকে একবার হাজির হওয়ার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের বিদেশ গমনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আবজাল ও তার স্ত্রী রুবিনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। আবজাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাব রক্ষণ বিভাগের কর্মচারী। অন্যদিকে তার স্ত্রী রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৫টি মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে স্টেনোগ্রাফার পদে ১৯৯৮ সালে যোগদান করেন। পরে তিনি ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। তিনি ২০০৫ সালে আগস্টে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে ১৫/১ আলব্দীর টেক, কালীবাড়ী, বালুঘাট, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স করেন। তারপর স্বামী আবজালের প্রত্যক্ষ মদদে চালিয়ে যান ব্যবসা। দু’জনে মিলে তৈরি করেন একটি সিন্ডিকেট। তাদের সঙ্গে আবজালের দুই ভাই ও রুবিনার দুই ভাইও আছেন। তাদেরও চাকরি হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরে। সবই করে দিয়েছেন আবজাল।

আবজাল সিন্ডকেট করে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে (মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) অর্থ পাচার করেছেন বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। তারা ঢাকা শহরসহ দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। আবজাল হোসেনের নামে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৭ পন্টার স্ট্রেট মিন্টু সিডনিতে ১টি বাড়ি আছে। ওই বাড়িটি তিনি বনানীর লোকমান নামে একজনের মাধ্যমে দুই লাখ ডলার দিয়ে কেনেন। পুরো টাকা তিনি হুন্ডির মাধ্যমে পাঠান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আবজাল ও রুবিনার নামে উত্তরায় ৫টি বাড়ি, বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরে একটি টিনশেড বিল্ডিং এবং ২.৫ কাটা জমি, সাভারে ১৫ শতাংশ জমি, ফরিদপুরে দোতলা বাড়ি এবং ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় সাড়ে বাইশ শতাংশ জমি, ঢাকার কেরানীগঞ্জে দোকান, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে ৬ কাঠা জমি আছে। এছাড়া আবজালের হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুদক। ১০ জানুয়ারি বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ বিভাগের কর্মচারী মো. আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক টিম। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিপুল অংকের অবৈধ অর্থের তথ্য দেন। দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আবজাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে আবজাল দম্পতি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছে দুদক।

এই বিভাগের আরো খবর

বনানীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের অনিয়ম তদন্তে ৯টি সরকারী সংস্থাকে দুদকের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বনানী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এফ আর টাওয়ারের অনিয়ম তদন্তে বিভিন্ন সরকারী সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।...

মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় গুঁড়িয়ে দেয়া হলো অবৈধ ১৫ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাধ ও সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় তুরাগ নদের তীর দখলমুক্ত করতে কয়েকটি বহুতল ভনবসহ ১৫টি স্থাপনা গুড়িয়ে...

এতিমখানা দুর্নীতি মামলার সাজার বিরুদ্ধে খালেদার আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is