ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-22

, ২০ জিলহজ্জ ১৪৪০

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয়

প্রকাশিত: ১২:৩৮ , ১৭ মে ২০১৯ আপডেট: ১২:৩৮ , ১৭ মে ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে মারাত্মক একটা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই, যার নাম হিটস্ট্রোক। অধিক তাপপ্রবাহে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয় যাকে বলে ডি-হাইড্রেশন। এই পানি শূন্যতা মাত্রাতিরিক্ত হলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে এবং হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে মানুষ। খোলা মাঠে যারা কাজ করেন-যেমন কৃষক, রিক্সা চালক, বাস চালকগণ, গার্মেন্টস এর শ্রমিক, বাচ্চারা যারা নিয়মিত রোদে স্কুলে যায় এবং দৌড়বিদদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তাই এই গরমে ঘরের বাইরে পা রাখার আগে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক হিট স্ট্রোকের লক্ষণ আর সতর্ক হয়ে যান আগেভাগেই।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণঃ
১) ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া হিট স্ট্রোকের একটি অন্যতম লক্ষণ।

২) হিট স্ট্রোকের আগে ত্বক শুষ্ক আর লালচে হয়ে ওঠে।

৩) হিট স্ট্রোকের আগে রক্তচাপ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়।

৪) এ সময় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

৫) হিট স্ট্রোকের সময় নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়ে যায়।

৬) হিট স্ট্রোকের আগে মাথা ঝিমঝিম করা, শরীরে খিঁচুনি হতে পারে।

৭) হিট স্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

৮) শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যায়। হিট স্ট্রোকের সময় শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) বা তার চেয়ে বেশি হতে পারে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ কী করণীয়ঃ

১) হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পড়ুন। হালকা রঙের পোশাক পড়ুন যাতে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। খুব আঁটোসাটো পোশাক না পরাই ভাল।

২) হিট স্ট্রোক হলে আক্রান্তকে যত দ্রুত সম্ভব ঠাণ্ডা পরিবেশে সরিয়ে আনতে হবে। সম্ভব হলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তকে তাপানুকূল (এয়ারকন্ডিশন্ড) ঘরে রাখতে হবে। মুখে খেতে পারলে প্রচুর পানি, জুস পান করাতে হবে।

৩) যেকোনো উপায়ে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর জলে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ঘরের পাখা চালিয়ে রাখতে হবে।

৪) যাদের দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হয় বা রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাদের একটানা বেশিক্ষণ পরিশ্রমের কাজ না করাই ভালো। ছোট ছোট বিরতি নিয়ে কাজ করা উচিত।

৫) যারা রোদে কাজ করেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো- প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে যাতে শরীরের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকে। মাথায় টুপি, ছাতা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কুলের ছাত্ররা প্রখর তাপে যাতে বাইরে খেলাধুলা না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

৬) প্রথমিক পর্যায়ে হিট স্ট্রোকের মোকাবিলা করার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। মনে রাখা উচিত এই হিটস্ট্রোক একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের অতি অল্প সময়ে মৃত্যু ঘটায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is