ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-23

, ২১ জিলহজ্জ ১৪৪০

যুদ্ধবিমানের চেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন এক ইলেকট্রিক গাড়ি

প্রকাশিত: ১১:০৯ , ২০ মে ২০১৯ আপডেট: ১১:০৯ , ২০ মে ২০১৯

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: ইতালীয় একটি প্রতিষ্ঠান এমন এক ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করলেন যা এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের চেয়েও দ্রুত গতিসম্পন্ন। ‘পিনইনফারিনা বাতিস্তা’ নামের এই হাইপার গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় ২১৭ মাইল। ফর্মুলা ওয়ান গাড়িগুলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে পারবে ইলেকট্রিক এই গাড়ি, তেমনটাই জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কে ইন্টারন্যাশনাল অটো শো তে প্রদর্শন করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইলেকট্রিক গাড়ি ‘পিনইনফারিনা বাতিস্তা’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘এই সুপার স্পিড গাড়িটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২ মিলিয়ন পাউন্ড। ফর্মুলা-ওয়ান গাড়ির চেয়েও দ্রুত, এমনকি এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমানের চেয়েও দ্রুত গতিতে ঘন্টায় ১৮০ মাইল বেগে ছুটতে পারে এই গাড়ি। যতোক্ষণ রাস্তায় ছুটবে, ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২১৭ মাইল বেগে ছুটতে পারবে দ্রুতগতিসম্পন্ন এই ইলেকট্রিক গাড়ি। একবার ব্যাটারি চার্জ করার পর একনাগারে ২৮০ মাইল পর্যন্ত যেতে পারবে এই গাড়ি। ৪০ মিনিটের মধ্যে গাড়ির ব্যাটারির ৮০ শতাংশ চার্জ দেয়া যাবে ।’

কোম্পানিটির মূল অফিস জার্মানির মিউনিখে হলেও বাতিস্তা তৈরি হবে ইতালির তুরিনে গড়ে তোলা কারখানায়। আগামী বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই গাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হলে ‘বাতিস্তা’ বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ইলেকট্রিক হাইপার গাড়ি হবে, তেমনটা জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

যেখানে অন্যসব গাড়ি পেট্রোল ও ডিজেল জ্বালানিতে চলে পরিবেশ দূষণ করে, সেখানে এই গাড়ি একাধারে সুপার ফাস্ট ও পরিবেশবান্ধব। তবে এই গাড়ি কিনতে পারবেন শুধুমাত্র ধনীরাই। কারণ গাড়িটির নির্মাণ ব্যয় ২ মিলিয়ন পাউন্ড। নির্মাতা কোম্পানি জানিয়েছে মোট ১৫০টি সুপার ফাস্ট এই ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করা হবে। তার মধ্যে আমেরিকায় বিক্রি করা হবে ৫০টি, বাকিগুলো ইউরোপ ও এশিয়ায় বিক্রি করা হবে। আগামী বছর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে ২০২০ সালে ডেলিভারি দেয়া হবে গাড়িগুলো।

১৯৩০ সালে ইতালিয়ান গাড়ি ডিজাইন করা কোম্পানি পিনইন ফারিনা প্রতিষ্ঠা করেন বাতিস্তা পিন ইন ফারিনা। তার নাম অনুসারেই এই গাড়ির নাম দেয়া হয়। বাতিস্তার ছেলে সার্জিও ‘ফেরারি’সহ অনেক জনপ্রিয় গাড়ির ডিজাইন করেছিলেন। এবার বাতিস্তার নাতি পাওলো কোম্পানির চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার দাদা অন্য কোম্পানির গাড়ি ডিজাইন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে নিজেদের পিনইন ফারিনা কোম্পানির নিজস্ব গাড়ি বাজারে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখতেন। তার সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতেই নিজেদের ডিজাইন করা গাড়ি বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে কোম্পানিটি।

গাড়িটির ‘টি’ সদৃশ বিশেষ ব্যাটারিটি তৈরি করা হয়েছে লিথিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেলের মিশ্রণে, এতে করে গাড়িটি হয়ে উঠেছে অনেক গতিসম্পন্ন। এক্সট্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণবিহীন এই দ্রুতগতির ইলেকট্রিক গাড়িটি বর্তমান সময়ের অতুলনীয় এক গাড়ি হতে চলেছে, এমনটাই দাবি করছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গাড়িটি তৈরিতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে ভারতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্রা।
 

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন তিন পৃথিবীর সন্ধান নাসার

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এবার এমন তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। নাসার খুঁজে পাওয়া এই তিনটি নতুন গ্রহের...

উদ্ভিদের বিশাল সংগ্রহশালা গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিকল্পিত বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান...

মুখের কথায় চলবে ফেইসবুক!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: এবার মুখের কথায় চলবে ফেইসবুক। এমনই প্রযুক্তি আনছে সামাজিক যোগাযোগরে এই মাধ্যমটি। তবে মুখের কথায় কীভাবে কাজ করবে, তা...

দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘ল্যাম্বারগিনি’ ব্রান্ডের আদলে গাড়ি নির্মাণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতালির বিখ্যাত ‘ল্যাম্বারগিনি’ ব্র্যান্ডের আদলে গাড়ি বানিয়ে সাড়া ফেলেছেন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is