ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-21

, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪০

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত জোড়া সাঁকো

প্রকাশিত: ০৬:৫০ , ১১ জুন ২০১৯ আপডেট: ০৬:৫০ , ১১ জুন ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জোড়া সাঁকো ঠাকুর বাড়ি। যার প্রতিটি দেয়ালে রয়েছে কবিগুরুর স্পর্শ। জোড়া সাঁকোর অপর নাম ‘রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’। এখানে মিশে আছে রবীন্দ্রপ্রেমীদের ভাললাগার সকল অনুভূতি। কলকাতা ভ্রমনকালে একবার জোড়া সাঁকো না গেলেই নয়। সেখানে গেলেই যে ছুঁয়ে দেখা যাবে কবিগুরুর স্মৃতি। 

মেইন গেট থেকে কয়েক পা আগালে জোড়া সাঁকোর মূল ফটক। এই ফটক দিয়ে ঢুকতেই হাতের বামে দেখতে পাবেন বিশাল এক কাঠগোলাপ গাছ। ঘাসের ওপর দুধ সাদা কাঠগোলাপে যেন ছেয়ে আছে। এখানকার জাদুঘরে ঢুকতে আপনাকে টিকেট কাটতে হবে।

প্রধান ফটক থেকে ডান দিকে দেখতে পাবেন একটা গ্যারেজে। এই গ্যারেজে রাখা কবিগুরুর ব্যবহৃত তখনকার গাড়ি। এরপর প্রধান ভবনের দিকে কয়েক পা হাঁটলে ঠাকুরবাড়ির বিশাল অন্দরমহল। সেখানে দাঁড়ালেই আপনি অনুভব করতে পারবেন পূরনো দিনের স্মৃতি। ঠাকুর বাড়ির অন্দরমহল যেমনটা কল্পনা করি ঠিক তেমনটাই। এই অন্দরমহলে একসময় দোল আর দূর্গ উৎসব হতো। দ্বিতীয় তলার পূর্ব বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখা অন্দরমহলের সেই দৃশ্য এক অপূর্ব অনুভূতি এনে দিবে আপনাকে।

দোতলায় মিউজিয়াম। সেখানে কবিগুরুর স্মৃতি জড়িত জিনিসপত্র সাজানো রয়েছে। ঘরজুড়ে মৃদুলয়ে বাজছে স্নিগ্ধ রবীন্দ্রসংগীত। এক ঘর থেকে আরেক ঘরে কবির পূর্বপুরুষদের বর্ণনাসহ ছবি আর কবি গুরুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা। ঘুরে দেখতে বেশ কিছুটা সময় লাগলো। পর্যটকদের জন্য দুঃখের বিষয় সেখানে কোন ছবি তুলতে দেয়া হয় না। আর সেখানে যারা ঘুরতে যায় তারা ছবি না তোলার বিষয়টাকে সম্মান করে ছবি তোলে না।
অত্যন্ত যত্ন ও পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা মিউজিয়ামের প্রতিটি ঘর ঘুরে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। ঘুরতে ঘুরতে ঠাকুর বাড়ির অন্দরমহলের একটা ছোট্ট উঠান দেখা যাবে। এ যেন উনবিংশ শতককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একের পর এক একটি রোমাঞ্চকর নমুনা।
তিনতলা এই ভবনের প্রতিটি কোনায় ঠাকুর পরিবারের বিভিন্ন স্মৃতির সাথে কবিগুরুর জীবনবৃত্তান্ত রাখা আছে। কবিগুরুর ঘরে রয়েছে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র। কাঁচের আলমারিতে সাজানো কবিগুরুর ব্যবহৃত কিছু পোশাক। সেসময় ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা যে পোশাক পড়তেন, কবিগুরু তার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি জোব্বার মতো দেখতে একধরনের লম্বা পোশাক পড়তেন। একটা আলমারিতে ফাল্গুনী নাটকে ব্যবহৃত কালচে খয়েরী জোব্বাটা সাজিয়ে রাখা।
কবিগুরুর সেই দক্ষিনের বারান্দা এখনো দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের হাজার স্মৃতি নিয়ে। এটি তার অনেক পছন্দের ছিল। এই বারান্দায় গুণীজনদের পদভারে জমজমাট থাকতো।
তবে যৌবনকালের পর এই বাড়িতে মহিয়ষী রবীন্দ্রনাথ আর থাকেননি। তিনি শান্তিনিকেতনেই বাকি জীবনটা কাটিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জয়শঙ্করের ঢাকা ত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বুধবার (২১ আগস্ট)...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is